চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ড. কামাল আধ্যাত্মিক না রাজনৈতিক নেতা?

ড. কামাল হোসেন বলেছেন, “নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।” একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুমাত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাবেন বলেও জানান ড. কামাল। ২২ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মানুষ রাজনীতি করে রাষ্ট্রীয় পদ লাভ করে রাষ্ট্র বা সরকারের পরিচালনা করার মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করার জন্য। এমন কোন রাজনৈতিক নেতা পাওয়া যাবে না যিনি রাষ্ট্রীয় পদ নেননি। এমন কী নেলসন ম্যান্ডেলা পর্যন্ত নির্বাচন করে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ড. কামাল নির্বাচনেই প্রার্থী হবেন না রাষ্ট্রীয় পদ তো আরও পরের কথা। তা হলে উনি জোট গঠন করে কি করবেন?

কিছু মানুষ ছিলেন/আছেন যারা নিজে রাজনৈতিক পদে না থেকেও রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন বা করছেন। উদাহরণ হিসেবে আধ্যাত্মিক নেতাদের স্মরণ করা যায়। এরা রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণ না করেও রাজনীতির উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন; রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান নির্ধারণ করতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে ইরানের খোমেনীদের কথা বলা যায়। মহাত্মা গান্ধী এ দলভুক্ত নন। তিনি এক সময় কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় পদ নেবার সময় আসার আগেই সামনে থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে রাষ্ট্রীয় পদ নেয়ার সুযোগ তার হয়নি। ড. কামালকে এখন আমরা কোন কাতারে রেখে বিবেচনা করব? আধ্যাত্মিক না রাজনৈতিক নেতা?

বিজ্ঞাপন

ড. কামালের রাজনৈতিক সঙ্গী ব্যারিস্টার মাইনুল ইসলামের ফাঁস হওয়া ফোনালাপে জানা গেল যে উনারা তারেক রহমানের নেতৃত্ব ধ্বংস করার জন্য ড. কামালকে এনে জোটের নেতা বানিয়েছেন। ড. কামাল যদি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী না হন, নির্বাচিত না হন তাহলে জোটের নেতৃত্বই বা ধরে রাখবেন কী করে আর তারেকের নেতৃত্বই বা ধ্বংস করবেন কী করে? তিনি কী জোটের নেতৃত্ব ছেড়ে সন্ন্যাস গ্রহণ করে হিমালয়ে চলে যাবেন?

অর্ধ শতাব্দীর বেশী সময় ধরে রাজনীতি করে- নিজে রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে; সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করে; আমেরিকার স্বার্থে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম রাজনীতি করে ডঃ কামাল আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। তার বর্তমান অবস্থানই (একটা বড় জোটের নেতা) তার জীবনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অবস্থান। এখানে পৌঁছানোর পর যদি উনি রাজনীতি চালিয়ে না যান তাহলে এটাও তো উনার ব্যর্থ অভিযান হিসেবে বিবেচিত হবে।

বর্তমান রাজনীতি চালিয়ে যেতে হলে, সাফল্য অর্জন করতে হলে তাকে নিদেন পক্ষে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে হবে। গত কয়েক দিনের বিভিন্ন বক্তৃতায় তিনি রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন আনা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, জোটাধীকার প্রতিষ্ঠা করা, ইত্যাদি বিষয়ে যেসব কথা বলেছেন তা বাস্তবায়ন করতে হলে তার যথেষ্ট সময় প্রয়োজন হবে। সেই যথেষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে জোটের নেতৃত্ব ধরে রাখতে হবে। তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হলে তার জোট আগামী নির্বাচনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করুক আর না করুন তাকে নেতৃত্ব দিয়ে যেতে হবে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব ধ্বংস করতে হলেও তাকে এই জোটের নেতৃত্বে থাকতে হবে। জোটের নেতৃত্বে থাকতে হলে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে হবে। নিজে সংসদ সদস্য না হলে তার জোটের সংসদ সদস্যরা তার নেতৃত্ব মানবেন না। তার জোট সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে গেলে তাকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণ করতে হবে। তা না করলে তিনি ক্ষমতার বলয়ের বাইরে চলে যাবেন। ক্ষমতাসীন জোটের নেতৃত্বে থাকতে হলে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী না হয়ে ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থেকে তিনি তাঁর দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারবেন না।

নতুন জোট গঠন প্রক্রিয়াকালে ড. কামাল হোসেন এবং তার দল গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী বলেছিলেন যে জামায়াত সঙ্গে থাকলে তারা বিএনপি’র সঙ্গে জোট করবেন না। ড. কামাল সে কথা রাখেননি। তাঁর নতুন কথা – নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদ পাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই – রাখবেন এমন ধারণা কী কেউ করতে পারে?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)