চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন ভারত?

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টা প্লাস-কে ‘ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সহজ ভাষায় এর মানে, এতদিন এই প্রজাতি নিয়ে বিশেষ আশঙ্কা না থাকলেও, এখন তা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে ভারতে ২২ জন আক্রান্ত হয়েছে ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্টে।

সবচেয়ে দুশ্চিন্তার বিষয় হল, এত দিন যে পদ্ধতিতে করোনা রোগীদের চিকিৎসা হয়ে এসেছে, ডেল্টা প্লাসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে তা কাজ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টের কারণে তৃতীয় ঢেউ অবশ্যম্ভাবী এবং আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তা ভারতে আছড়ে পড়বে।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ভারতের মহারাষ্ট্র, মধ্য প্রদেশ এবং কেরালা রাজ্যে খোঁজ মিলেছে এই প্রজাতির। সরকার এই তিন রাজ্যে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। কিন্তু ডেল্টা প্লাস নিয়ে হঠাৎ কেন সকলে উদ্বিগ্ন? জেনে নিন তার কারণ:

১।  ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট (বি.১.৬১৭.২) নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা দুনিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টকে এই মুহূর্তের সবচেয়ে মারাত্মক প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ডেল্টা থেকেই ভাইরাস রূপ বদলে তৈরি হয়েছে ডেল্টা প্লাস। তাই এই প্রজাতি নিয়ে ভ্রুকুটি পড়েছে সরকারের নানা মহলে।

বিজ্ঞাপন

যে তিন রাজ্যে ডেল্টা প্রজাতির প্রমাণ মিলেছে, সেখানে সরকার নজরদারী বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা, ছোট ছোট এলাকায় মানুষের মেলামেশা সীমিত রাখা এবং বিপুল পরিমাণে কোভিড পরীক্ষা করানোর উপদেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রজাতি যাতে কোনও ভাবেই বেশি সংখ্যায় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়তে পারে, তার সব রকম ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে।

২।  ভারতের মোট ২৮টি ল্যাবরেটরির একটি দল জানিয়েছে, ডেল্টা প্লাস প্রজাতি অনেক বেশি সংক্রামক হতে পারে। অনেক দ্রুত আরও বেশি সংখ্যায় মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে এই নতুন প্রজাতির গবেষণায়।

৩।  ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট মানুষের শরীরে প্রবেশ করে আরও দ্রুত ফুসফুস আক্রমণ করতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। যে কোষগুলি ফুসফুসের চারপাশে ঘিরে রয়েছে, তার বাঁধুনি আরও দ্রুত ভেঙে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে, জানিয়েছে সেই দল।

৪।  মোনোক্লানাল অ্যান্টিবডি ককটেল খুব একটা কার্যকরী নয় এই নতুন প্রজাতির ক্ষেত্রে। তাই ডেল্টা প্লাসে আক্রান্ত হলে শরীরে বেশি মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

৫।  জাপান, সুইজারল্যান্ড, ব্রিটেন, আমেরিকাসহ মোট ৯টি দেশে ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে ডেল্টা প্লাসের প্রমাণ। এখনও পর্যন্ত বাজারে যে কোভিড প্রতিষেধকগুলি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো এই প্রজাতির উপর কতটা কার্যকরী তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু বিজ্ঞানী।

ভারতে টিকাকরণে ব্যবহৃত মূল দু’টি প্রতিষেধক কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকরী হলেও ডেল্টা প্লাসের বিরুদ্ধে সেগুলির কার্যকারিতা সম্পর্কে এখনও তেমন কিছুই জানাতে পারেননি স্বাস্থ্যকর্তারা।

বিজ্ঞাপন