চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে প্রেস কাউন্সিলের সংযুক্তি চান সাংবাদিকরা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংসদে পাশ হওয়ার আগে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রেস কাউন্সিলের অধীনে গঠিত সেলের সম্মতি নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

এজন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনে ১০ দফা সুপারিশ ও এ সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিলকে যুক্ত করার সুনির্দিষ্ট একটি প্রস্তাব আইন মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবন্দ।

দুপুরে বিএফইউজে নেতৃবৃন্দ সচিবালয়ে আইন মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে এ প্রস্তাবনা দেন।

বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন: প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রেস কাউন্সিলের অধীনে একটি সেল থাকবে। সেই সেলের অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না।

Advertisement

প্রস্তাবগুলো নিয়ে সংশোধীয় কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন আইনমন্ত্রী। বিএফইউজের প্রস্তাবনা যৌক্তিক বলেও জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরো বলেন: এডিটর কাউন্সিল ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রস্তাবনা ও সরকারের চিন্তা ভাবনা মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এবছর ২৯ জানুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিপরিষদ। নতুন আইনের ১৭ থেকে ৩৮ ধারায় বিভিন্ন অপরাধ ও শাস্তির বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

৫৭ ধারার ভুক্তভোগী ও সরকারি পর্যায়ের অনিয়ম-দুর্নীতি জনগণের নজরে আনা সাংবাদিকদের মতে নতুন আইনের ৩২ ধারা গুপ্তচরবৃত্তি রোধে করা হলেও ৫৭ ধারার মতো এই ধারাটি সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে বাধার দেয়াল হবে বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে: যদি কোনও ব্যক্তি বে-আইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনও সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ কোনও সংস্থার কোনও ধরনের অতি গোপনীয় বা গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত, কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনও ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে কম্পিউটার বা ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ।
আর এই অপরাধের শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৫ লাখ টাকা জরিমানা।