চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ট্রল আর ষড়যন্ত্রের সন্দেহ প্রভাব ফেলছে করোনা মোকাবেলায়

করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(হু) প্রতিক্রিয়াগুলো ট্রল ও ষড়যন্ত্রের সন্দেহের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন হুয়ের ডিরেক্টর জেনারেল ড. টেড্রস অ্যাডানম ঘেব্রেয়েসুস।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভুল তথ্যের কারণে আমাদের সেরা কর্মীদেরও কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এরই মধ্যে এই ভাইরাসে বিশ্বব্যাপি আক্রান্ত হয়েছে ৩৪,৮০০ মানুষ। সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা চীনে। আর প্রাণ হারিয়েছে ৭২৩ জন।

ড. টেড্রস বলেন, হুবেই প্রদেশে অন্তত ২৫,০০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাসটি। আমি কিন্তু বাস্তবতার গুরুত্ব নিয়ে সংক্ষেপে বলতে চাই, ভয় নয়। নিজেদের রক্ষা করার জন্য সবাইকে অবশ্যই সঠিক তথ্যটা জানতে হবে।

করোনা ভাইরাস নিয়ে ভুল তথ্যের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভয় ছড়িয়ে পড়ছে। আর হুয়ের কর্মীরা শুধু ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে না, ট্রল ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও করছে।

বিজ্ঞাপন

‘করোনা ভাইরাস নিয়ে ভুল তথ্য অনেকটা সংক্রামক’ শিরোনামে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক মতামতে আক্রান্ত আডম কুচারস্কি বলেন, অনলাইনে ভুল তথ্যের সঙ্গে যুদ্ধ করার উপায় হচ্ছে তাদের বাস্তব জীবনের ভাইরাস হিসেবে বিবেচনা করা। সাম্প্রতিক সময়ে এই ভাইরাস নিয়ে বেশ কিছু মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে।

রাশিয়ার চ্যানেল ওয়ানও তাদের প্রাইমটাইমে করোনা ভাইরাস নিয়ে ষড়যন্ত্র ছড়াচ্ছে। সেখানে একটি এপিসোডেতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই ভাইরাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয় এর পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো রয়েছে।

আরেকটি ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য প্রকাশিত হয় ব্রিটিশ ও মার্কিন ট্যাবলয়েডে। সেখানে এই ভাইরাসকে এক নারীর বাদুর সুপ খাওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। সাংবাদিকদের দাবি ওই ভিডিওটি ভাইরাসের কেন্দ্রবিন্দু উহানে তোলা। যদিও সত্যি বলতে ওই ভিডিও ২০১৬ সালের এবং চীনের নয় বরং ওয়েস্টার্ন প্যাসিফিক ওশানের পালাওএর।

সম্প্রতিতো করোনা ভাইরাসকে সাপের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। যদিও সেই খবরের সঙ্গে কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার সংযুক্তি ছিলো না। ড. টেড্রস বলেন, এখনও হুবেইতেই কেন্দ্রীভূত রয়েছে ভাইরাসটি। গত চারদিনে আক্রান্তের ঘটনায় খানিকটা স্থায়িত্ব এসেছে।

তাই বলে ভাইরাসের আধিক্য কমে এসেছে সেটা বলা যাবে না। আবার অনেক সময়তো কোনো কিছু তীব্র হওয়ার আগে ধীর হয়ে পড়ে। তবে যারা কাজ করছে তাদের জন্য এই ধীরতা একটি সুযোগ এমনটাই মনে করেন টেড্রস।

বিজ্ঞাপন