ভারতের সমাজকর্মী ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক অভিযোগ করেছেন, দিল্লি হাইকোর্ট তাকে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দিলেও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সফদরজং হাসপাতাল কয়েক ঘণ্টা তাকে বের হতে দেয়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, হাইকোর্টের লিখিত আদেশ হাতে পাওয়ার পরই তাকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক দলের সমর্থনে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন ওয়াংচুক। চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশনার পর গত ১৮ জুলাই সকালে পুলিশ তাকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ২১ জুলাই হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে গুরগাঁওয়ের বেসরকারি মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়।
শুক্রবার রাতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায়। নীল রঙের শার্ট ও সাদা প্যান্ট পরা ওয়াংচুককে বলতে শোনা যায়, ‘তাদের বলুন আমাকে গ্রেপ্তার করতে। আমি একজন স্বাধীন নাগরিক।’ তিনি আরও বলেন, অনশনের ২৫তম দিনে তাকে তিন ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় তিনি অভিযোগ করেন, তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। মানসিক চাপের কারণে যদি তার মৃত্যু হয়, তাহলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। জবাবে উপস্থিত এক পুলিশ সদস্য বলেন, তারা তাকে হয়রানি করছেন না। ভিডিওতে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমোকেও পুলিশের রূঢ় আচরণের অভিযোগ তুলতে দেখা যায়।
একপর্যায়ে হাসপাতালের এক কর্মীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে ওয়াংচুক বলেন, ‘আপনি কি ডাক্তার, নাকি কসাই?’ এরপরও তিনি হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান।
পরে তাকে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। তখন উপস্থিত একজন কর্মকর্তা জানান, রোগী স্থানান্তরের বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের লিখিত আদেশ তখনও হাসপাতালের হাতে পৌঁছেনি।
এর জবাবে ওয়াংচুক বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে সারা বিশ্ব আদালতের আদেশের কথা জেনে গেছে, শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই তা জানে না।
মেদান্তা হাসপাতালের শয্যা থেকে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে ওয়াংচুক দাবি করেন, আদালতের নির্দেশ দুপুর ২টার দিকে জারি হলেও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তা তার কাছে পৌঁছানো হয়নি। তার অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে আদেশটি বিলম্বে দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি হাসপাতাল ছাড়তে না পারেন। তিন ঘণ্টা আটকে রাখার পর তাকে নিজের জিনিসপত্র গুছিয়ে শারীরিকভাবে লড়াই করে বের হতে হয়েছে। এমনকি প্রতিবাদ হিসেবে হাসপাতালের মেঝেতেও শুয়ে পড়তে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ওয়াংচুকের অভিযোগ নাকচ করেছে সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, ভিডিওটি হাসপাতালের ভেতরের এমন একটি এলাকায় ধারণ করা হয়েছে, যেখানে ভিডিও করা নিষিদ্ধ। হাসপাতালের ভাষ্য, ভিডিও ধারণের সময় পর্যন্ত দিল্লি হাইকোর্টের লিখিত আদেশ তাদের হাতে পৌঁছায়নি। সে সময় ওয়াংচুক গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে হাসপাতাল ছাড়তে অনড় ছিলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, হাইকোর্টের লিখিত আদেশ পাওয়ার পর একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ওয়াংচুককে আনুষ্ঠানিকভাবে মেদান্তা গুরগাঁও হাসপাতালের চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।







