চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টেক জায়ান্টদের বিরুদ্ধে ‘ক্ষতিকর’ ক্ষমতা ব্যবহারের অভিযোগ

বিশ্বের কয়েকটি বৃহত্তম টেক কোম্পানির প্রধানরা ওয়াশিংটনের আইনপ্রণেতাদের কাছে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের অবস্থান পরিষ্কার করতে হাজির হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিহত করার জন্য তারা ক্ষতিকর ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন।

অ্যামাজনের প্রধান জেফ বেজোস বলেন, বিশ্বের জন্য বড় বড় সংস্থাগুলো দরকার। আর ফেসবুক, অ্যাপল এবং গুগলের প্রধানদের যুক্তি ছিল যে তাদের সংস্থাগুলো উদ্ভাবনকে উদ্বুদ্ধ করেছে।

বিজ্ঞাপন

আইনপ্রণেতারা যখন আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবছে এবং প্রতিযোগিতার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে তখনই উপস্থিত হতে হলো টেক জায়ান্টদের। তাছাড়া কিছু সমালোচক চায় সংস্থাগুলো ভেঙে দিতে। 

বিজ্ঞাপন

ডেমোক্র্যাটরা টেক জায়ান্টদের উপরে প্রতিযোগিতামূলক বিষয়টি নিয়ে চাপ তৈরি করেছে আর রিপাবলিকানদের উদ্বেগ কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো তথ্য পরিচালনা করে এবং তারা রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রান্তিকীকরণ করছে কিনা তা নিয়ে।

সভার সদস্য ডেভিড সিসিলিন বলেছেন, আইনজীবীদের এক বছরের দীর্ঘ তদন্তে দেখা গেছে যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলি ‘প্রসারিত হওয়ার জন্য ধ্বংসাত্মক এবং ক্ষতিকর উপায়ে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছিল।’

তিনি বলেন, সংস্থাগুলো একচেটিয়া কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিনি বলেন, কিছু কিছু সংস্থা ভেঙে ফেলা দরকার এবং সবগুলোকে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুকের মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের জেফ বেজোস, গুগলের সুন্দর পিচাই এবং অ্যাপলের টিম কুক জোর দিয়ে বলেন, তারা কোনো অবৈধ কাজ করেনি এবং আমেরিকান শিকড় ও মূল্যবোধকে আঘাত করে এমন কিছুও করেনি।

শুনানিতে আইন প্রণেতারা গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তারা নিজের ওয়েবে ব্যবহারকারী ধরে রাখার জন্য ইয়েলপের মতো ছোট ছোট সংস্থাগুলির তৈরি করা সামগ্রী চুরি করেছে।

অ্যামাজন এর সাইটে বিক্রেতাদের সাথে আচরণ, ফেসবুকের প্রতিযোগী যেমন ইনস্টাগ্রাম অর্জন এবং অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরটিও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।

সিসিলিন বলেছেন, অ্যামাজন স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। কারণ তারা একই সঙ্গে বিক্রেতার হোস্ট হিসেবে কাজ করে এবং একই রকম পণ্য সরবরাহ করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করে। ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকরাও এ ধরনের আচরণ তদন্তের অধীনে এনেছে।

ভিডিও বক্তৃতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা বলেছেন, তাদের সংস্থা ছোট ছোট ব্যবসায় সহায়তা করেছে এবং তারা নতুন আগতদের কাছেও প্রতিযোগিতা ঝুঁকির মধ্যে থেকেছে।

অ্যাপলের প্রধান টিম কুক বলেন, ব্যবসার পরিবেশ ‘এতো প্রতিযোগিতামূলক যে আমি এটিকে স্মার্টফোন ব্যবসায়ের বাজার ভাগাভাগির জন্য একটি রাস্তার লড়াই হিসাবে বর্ণনা করব।’

বেজোস তার প্রথম বক্তব্যে অ্যামাজনের একাধিক ভূমিকা যে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে তা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ফার্মটি সাইটে বিক্রয়কারীদের বিক্রয় তথ্য পরিচালনা করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।