চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টিনএজ সন্তানের দরকার বিশেষ যত্ন

শিশু যখন পেটে আসলো তখন একধরনের যত্ন, জন্মানোর পরে দরকার আর এক রকমের যত্ন। একই রকম যত্ন নিশ্চয়ই সন্তান যখন কিশোর বয়সে পা দেবে তখন চলবে না। তখন তার দরকার ভিন্ন ধরনের যত্ন। কেবল শরীরই নয় এসময় তার মনেরও নিতে হবে পরিপূর্ণ যত্ন। তা না হলে হয়তো কোনো ভুল পথে পা দিয়ে বসবে সে। জেনে নিন টিনএজ সন্তানের যত্ন নেবেন কিভাবে।

* টিনএজ বয়সে সন্তানের কৌতূহল বেড়ে যায় অনেক। সন্তানের ছোট ছোট কৌতূহলের জবাব দিন। হতে পারে সে কোনো প্রশ্ন নিয়ে আপনার কাছে এসেছে। যতটা সম্ভব তার কৌতুহল নিবারণ করুন। অনেক সময় পুরোটা বুঝিয়ে বলা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে না। কিন্তু তার শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে তাকে সচেতন করুন যতটা সম্ভব। তাহলে সে একা একা ইন্টারনেট দুনিয়া বিচরণ করতে যাবে না প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে। বিপথেও পা বাড়াবে না।

* কখনোই তার কথাগুলোকে উপেক্ষা করে যাবেন না। সন্তানকে তার প্রশ্নগুলো দিয়ে বিবেচনা করবেন না। সে নিশ্চয়ই বড়দের মতো আচরণ করবে না! সন্তান কি বলতে চায় সেটা ভালো করে শুনে নিন। তারপর সেটার সমাধানে আসুন।

Advertisement

* সন্তানের ওপর চাপ তৈরি করাটা আর এক ধরনের অন্যায়। তার অবস্থা এবং বর্তমান প্রজন্মের মনোভাব বুঝে তার সাথে কথা বলুন। তাহলে ওকে ভালোমতো বুঝতে পারবেন। শুধু শুধু চাপ তৈরি করে দুজনের মধ্যে দূরত্বটা আরো বাড়িয়ে তুলবেন না। তা না হলে একসময় আপনাকেই কাঁদতে হবে।

* এই বয়সে এলে দেখা যায় বাবা-মার সাথে সন্তানের যোগাযোগ কম হতে শুরু করে। তার সমস্যা নিয়ে বেশি বেশি কথা বলুন। দেখবেন সমাধান আসবে। তা না হলে একবার সন্তানের সাথে দূরত্ব হয়ে গেলে সেটা দূর করা খুব কষ্টকর হয়ে উঠবে। তার কোনো সমস্যায় সহানুভূতি নিয়ে পাশে দাঁড়ান। দেখবেন সহজ হয়ে যাবে সমস্যা দূর করা।

* তার ব্যক্তিসত্তাকে সম্মান করুন। তার ব্যক্তিগত জিনিস ব্যক্তিগতই রাখুন। আপনি যেমন আপনার ব্যক্তিগত বিষয়ে কেউ নাক গলাক সেটা পছন্দ করেন না, সেটা সত্য তার ক্ষেত্রেও। আর এটা মোটেও খারাপ নয়।

*বাবা মা নয় বরং বন্ধু হয়ে উঠুন। ওর সঙ্গে বন্ধুর মতো মেলা মেশা করুন। তাহলে দেখবেন ওর সমস্যাগুলো আর বড় হতে পারছে না। ওর বন্ধুদের সহজভাবে নিন। ওর কোনো ভুল থাকলে সেটা যথেষ্ট কারণসহ বিশ্লেষণ করুন। কারণ দেখান তাকে। তাহলে সে সেটা বুঝতে পারবে। আপনি বন্ধুর মতো না মিশলে তার কাছ থেকেও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ কামনা করতে পারবেন না।