চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টানা দুই টি-টুয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারালো বাংলাদেশ

সিরিজ জয়ের হাতছানি

১২২ রানের লক্ষ্য কঠিন হয়ে উঠেছিল দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোয়। সেখান থেকে জয়ের সুযোগ হাতছাড়া হতে দেননি আফিফ হোসেন ধ্রুব ও নুরুল হাসান সোহান। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনের ৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে এনে দিয়েছেন ৫ উইকেটের জয়।

অস্ট্রেলিয়া: ১২১/৭ (২০ ওভার), বাংলাদেশ: ১২৩/৫ (১৮.৪)

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

টানা দুই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টুয়েন্টি আগামী শুক্রবার। সামনের তিন ম্যাচের একটি জিতে গেলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে টাইগাররা।

আফিফ ৩৭ ও সোহান ২১ রানে অপরাজিত থেকে ৮ বল আগেই খেলা শেষ করে আসেন।

২১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর হাল ধরেন মেহেদী হাসান ও সাকিব আল হাসান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৩৭ রান।

দলীয় ফিফটির পর ২৬ রান করে এন্ড্রু টাইয়ের বলে বোল্ড হন সাকিব। ৬ বলের ব্যবধানে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রানের খাতাই খুলতে পারেননি অধিনায়ক।

মেহেদীর কাঁধে তখন দায়িত্ব বাড়লেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি এ অলরাউন্ডার। লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে উইকেট থেকে বেড়িয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হন তিনি। ইনিংসের মাঝপথে ৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

৬৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কঠিন হয়ে যাওয়া পথ সুগম করেন আফিফ ও সোহান। দুজনেই মেটান সময়ের দাবি। উইকেটে আঁকড়ে থাকেন, বাজে বলে মারেন বাউন্ডারি। আফিফ পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা, আর সোহান মারেন তিনটি চার।

আগের ম্যাচের মতোই বড্ড এলোমেলো ছিলেন সৌম্য সরকার। বাঁহাতি ওপেনার রানের খাতা খোলার আগেই মিচেল স্টার্কের বলে বোল্ড হন। আরেক ওপেনার নাঈম শেখও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ৯ রান করে হ্যাজেলউডের নিচু হয়ে আসা ডেলিভারিতে বোল্ড হন। ২১ রানে ফিরে যান দুই ওপেনার।

বিজ্ঞাপন

মিরপুরে মেহেদী-সাকিব-মোস্তাফিজদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে টস জিতে আগে ব্যাট করা অজিরা ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ১২১ রান। প্রথম ম্যাচের মতোই সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেছেন মার্শ। তার ৪২ বলের ইনিংসে ছিল পাঁচটি চারের মার।

ময়েজেস হেনরিক্স ২৫ বলে করেন ৩০ রান। মিচেল স্টার্ক ১৩ ও এন্ড্রু টাই ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশ মাত্র ২ রান অতিরিক্ত হিসেবে দিয়েছে। যার একটি লেগ-বাই, আরেকটি ওয়াইড।

মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি ও শরিফুল ইসলাম নিয়েছেন দুটি উইকেট। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান ও সাকিব আল হাসান।

প্রথম ম্যাচে প্রথম বলেই উইকেট পেয়েছিলেন মেহেদী। পরের ম্যাচে সাফল্য পান নিজের দ্বিতীয় ওভারে। অফস্পিনার সাজঘরে পাঠান অজি ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারিকে (১১)। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে জশ ফিলিপকে (১০) বোল্ড করে ব্রেক থ্রু এনে দেন মোস্তাফিজ।

প্রতিপক্ষ দুই ওপেনারকে দ্রুতই সাজঘরে পাঠিয়ে দেয় বাংলাদেশ। পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে সফরকারীরা সুবিধা করতে পারেনি। তুলতে পারে ৩২ রান।

প্রথম ম্যাচে ১৩১ রান করেও জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে বদলেছে উইকেট। খেলা হচ্ছে তিন নম্বর উইকেটে। মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হয়েছিল পাঁচ নম্বর উইকেটে।

বুধবার তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে অস্ট্রেলিয়া। হেনরিক্সকে বোল্ড করে ৫৭ রানের ‍জুটি ভাঙেন সাকিব। অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি নেন শরিফুল। ধীরে আগানো মার্শকে ভয়ঙ্কর হওয়ার আগেই দারুণ এক কাটারে সাজঘরে পাঠান তিনি।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান মোস্তাফিজ। ম্যাথু ওয়েড (৪) ও অ্যাস্টন অ্যাগারকে (০) আউট করেন বাঁহাতি পেসার। তাতে রান তোলার গতিও কমে আসে। শেষ পর্যন্ত ১২০ বলে অজিরা তোলে ১২১ রান।