চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

টন্টন আরও ভালো লাগবে যদি…

বিশ্বকাপ দিনলিপি-৮

টন্টন থেকে: ওভাল, কার্ডিফ, ব্রিস্টল হয়ে বাংলাদেশ দল এসেছে টন্টনে। এখানকার সমারসেট কাউন্টি ক্লাব মাঠে সোমবার টাইগারদের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই ম্যাচ দিয়েই শেষ হবে ভেন্যুটির বিশ্বকাপ আয়োজন। পরে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতোই ঘরোয়া ক্রিকেট এখানে জনপ্রিয়।

বিশ্বকাপ এলেই কেবল টন্টনের কথা মনে পড়ে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে একটি, ১৯৯৯ বিশ্বকাপ দুটি, এবারের বিশ্বকাপে ‍তিনটি ম্যাচের আয়োজক হতে পেরেছে সমারসেট কাউন্টি। তিন ম্যাচে ছয়টি দলকে আতিথেয়তা দিতে পেরেই অবশ্য আনন্দে ভাসছে তারা। স্থানীয় পত্রিকায় চোখ রাখলে বোঝা যাচ্ছে সেটি।

বিজ্ঞাপন

কোথায় কোথায় বড় পর্দায় খেলা দেখানো হবে সেটি নিয়েও খেলার পাতায় খবর প্রকাশিত হচ্ছে সমারসেট গ্যাজেটে। তামিম ইকবাল ব্যাটিং করছেন আর নির্ধারিত স্থানে বসে খেলা উপভোগ করছেন সবাই- এমন একটি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে নিউজটিতে।

পত্রিকাটির আরেকটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয়েছে ‘শহরে ক্রিকেট জোয়ার।’ এতটা উৎসাহের কারণ টন্টনে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ফিরেছে দুই দশক পর। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের পর আর ম্যাচ পায়নি ভেন্যুটি। ২০১৭ সালে হয়েছে কেবল একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ।

বিজ্ঞাপন

১৩৭ বছরের পুরনো স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন কেনো এত কম, সে প্রশ্নের দুটি উত্তর হতে পারে। স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা ও মাঠের আয়তন। মাত্র সাড়ে ৮ হাজার দর্শক একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন এখানে। মাঠও কিছুটা ছোট। হোটেল সংকটও রয়েছে শহরটিতে। স্টেডিয়ামের কাছাকাছি হোটেল পাইনি আমরা। থাকতে হচ্ছে শহর থেকে ২০ মাইল দূরে ব্রিজওয়াটারের হলিডে ইন এক্সপ্রেস হোটেলে।

এখানে নির্জনতা আরও বেশি। মাইলের পর মাইল দিগন্তজোড়া সবুজ আর কৃষিজমির দেখা মেলে। সড়কেও নেই তেমন ব্যস্ততা। তবে দেখা যায় বিশাল বিশাল লরির ছুটে চলা। লরিতে বিভিন্ন রঙের নতুন গাড়ি। ওডি, মার্সিডিজ বেঞ্চ, জাগুয়ারের মতো বিশ্বের সব সেরা সেরা মডেলের গাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে টন্টনের বিভিন্ন শো-রুমে। এখানে আরেকটি পরিচিত দৃশ্য খর বোঝাই লরি ও তরল দুধের বিশাল ট্যাঙ্কার।

বাংলাদেশ দলের কাছে একদমই অচেনা টন্টন। নতুন ভেন্যুতে তারা নামবে সেমিফাইনালের চ্যালেঞ্জে টিকে থাকার আশা নিয়ে। ক্রিকেট অনুরাগীরা টন্টনকে চিনতে ফিরে যেতে পারেন ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে। সৌরভ গাঙ্গুলি সেই ম্যাচে খেলেছিলেন ১৮৩ রানের ইনিংস। যেটি তার ক্যারিয়ারেরও সেরা।

শহরটা কেমন, এই প্রশ্ন করা হলে যে কথাটি সবার আগে আসবে সেটি হল ‘গ্রাম’। ইংল্যান্ডের অন্যান্য শহর ঘুরে আসা মানুষ তো বটেই, স্থানীয়দের চোখেও টন্টন গ্রামের মতোই। এখানকার সবুজ প্রকৃতি ও শুনশান নীরবতা বেশ উপভোগ করছেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা।

গ্রামীণ এলাকার প্রতি বিশেষ দুর্বলতা আছে টাইগার অধিনায়কের। টিম হোটেলে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আড্ডায় মাশরাফী জানিয়েছেন জায়গাটি ভালো লাগার কথা। ভালো লাগছে আমাদেরও। এই ভালো লাগা হাজারগুণ বেড়ে যাবে যদি সোমবার উইন্ডিজকে হারাতে পারে বাংলাদেশ।

Bellow Post-Green View