চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জেলা কোটা বাতিলের প্রভাব বুঝতে অপেক্ষা করতে চান জেলা সংশ্লিষ্টরা

কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা কোটাসহ সব ধরণের কোটা বাতিলের কথা বলেছেন। তবে বিষয়টি কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট না হওয়াতে কিছুদিন অপেক্ষা করে এই বাতিলের প্রভাব বুঝতে চান জেলা পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা।

কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যেহেতু তারা (সাধারণ শিক্ষার্থী) কোটা চায় না, তাই কোটা থাকবে না। আমার স্পষ্ট কথা কোটার দরকার নেই। বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থায় সরকারি চাকরিতে জেলা কোটা রয়েছে ১০%। কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোর উপর কী ধরণের প্রভাব পড়তে পারে?

বিজ্ঞাপন

এমন এক প্রশ্নের জাবাবে পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের জৈষ্ঠ্য সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল চ্যালেন আই অনলাইনকে বলেন: ‘আমার ধারণা প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করেই মহান সংসদে তার মতামত দিয়েছেন। আর এখন দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে সুতরাং নেগেটিভ প্রভাব পড়ার কোন অবকাশ নেই।  প্রতি জেলাও এখন উন্নতি করছে।  তাছাড়া তিনি ভালো বোঝেন কখন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সুতরাং এনিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নয়। আর প্রয়োজন হলে পিছিয়ে পরা জেলাগুলোকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিষয়টির সমাধান করা হবে। ’

‘আর এব্যাপারে এখনো কোন স্থায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি, কেবল মাত্র ঘোষণা দিয়েছেন। দেখা যাক সামনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। দুয়েক দিন গেলে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তবে আমি আশাবাদি। যেখানে শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবের কন্যা আছেন সেখানে কোন সমস্যা হবে না। ’

বিজ্ঞাপন

এব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাফিয়া খানম এখনই কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ জেলা কোটা ছাড়াও ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, পাঁচ শতাংশ আদিবাসী কোটা এবং এক শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কোটা সংস্কারের আন্দোলন নিয়ে বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারীত প্রশ্নত্তোর পর্বে ঢাকা ১৩ আসনের সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানক কোটা বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বলেন।

সব ধরণের কোটা উঠিয়ে নেবার বিষয়ে বললেও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রেখে সরকারি চাকরিতে সুযোগ রাখার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।