চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জীবনে তার চন্দনগন্ধা দুপুর

লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার শানারেই দেবী শানু। ২০০৫ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যস্ত হয়ে পড়েন মঞ্চে ও টেলিভিশন পর্দায়। শুধু মঞ্চ আর ছোট পর্দাই নয়, বড় পর্দায়ও দেখা মিলেছে এ দেবীর। তবে পুরো দেশে তিনি নতুনভাবে পরিচিতি পেয়েছেন চ্যানেল আইয়ের মেগা সিরিয়াল ‘সাত ভাই চম্পা’র বড় রানী হিসেবে। সম্প্রতি এই রানীর সঙ্গে কথা হয় এক দুপুরে, চ্যানেল আইয়ে।

শানু এসেছিলেন দেবীর সাজেই। তাকে মনে হলো রবীন্দ্র-উপন্যাসের কোন নায়িকা। শেষের কবিতার লাবণ্য! লাল পেড়ে শাদা শাড়ি, লাল পিরান, একটা নোলক নাক ছুঁয়ে চলে গেছে কানের দিকটায় চুলের গভীরে। খোলা চুল। সিঁথিতে লাল সিঁদুর, কোন এক উৎসবের আগে তরুণদের হর্ষ-উচ্ছ্বাসে ছিটানো আবিরের রঙ যেন জমাট বেঁধে আছে। চোখ তার গভীর পুকুর, দৃষ্টিতে তল নেই, স্থির। জানতে চাই, দেবী, এই জীবন কেমন? একটু ভাবেন। তারপর স্বভাবসুলভ মুক্তো ঝরানো হাসি দিয়ে বলেন, ‘এতো কঠিন প্রশ্ন কেন?’ ঠোঁট চেপে হাসিটা মুছে নেন। তারপরও সে হাসির দাগ লেগে থাকে ঠোঁটে। দৃষ্টি তখন তার আকাশের দিকে। আনমনা হয়ে বলেন, ‘জীবন আসলে জীবনের মতোই, সুন্দর।’ কিছুটা ধ্যানী মনে হয়। খুব সম্ভবত জীবনে ডুব দেন ফেলে আসা জীবনকে আর একবার দেখে আসার জন্য।

‘জীবনে এমন কী আছে, যা বারবার ফিরে পেতে চান?’ এ-প্রশ্নে ধ্যান ভাঙে তার। বলেন, ‘জীবনে সময় ছাড়া কিছুই হারায় নি আমি। হারানো সময় আর ফিরে পেতে চাই না। আমি চাই এ জীবন সরলরেখায় বয়ে যাক। আমি চলেছি শেষটা দেখার আশায়।’

‘২০০৫ থেকে শুরু। এক যুগেরও বেশি সময় শেষে এখন ভরদুপুর। জীবনের এই নতুন দুপুর আদতে কেমন?’  প্রশ্ন শুনে একটু ভাবেন। হাতের অঙ্গুরিতে রাখেন আরেক হাত। ঘুরিয়ে দেখেন। বলেন, ‘এ দুপুর চন্দনের গন্ধ ছড়ায়।’

 ‘আপনি তো কবিতা লেখেন, আপনার কবিতাগুলোর জন্ম কোথায়?’ প্রশ্ন শুনে চোখে চোখ রাখলেন। দৃষ্টিই বোধ করি ভাষা হয়ে উঠলো। তারপরও কণ্ঠে শব্দ তুলে নিলেন- ‘এই যে বেঁচে থাকছি প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে অনুভূতি জন্ম নিচ্ছে। এই অনুভূতিগুলোকেই শব্দে সাজাই। জীবনের এইসব অনুভূতিই আমার কবিতা বলে মনে হয়।’

দুপুর তখন অনেক গড়িয়েছে। শীতের মিষ্টি দুপুর। ফুলের পাশে আরও এক রঙিন ফুল হয়ে দাঁড়ালেন তিনি। ‘জীবনের না পাওয়াগুলো পেতে ইচ্ছে করে না আপনার? মনে হয় না, একবার পেলে হয়তো হিসেব নিকেশের খাতাটা হতো অন্যরকম? জীবনের ছককাগজে চিত্রিত হতো ভিন্ন গ্রাফ?’

প্রশ্ন শুনে হাসলেন খুব। বললেন, ‘যা পাই নি। তা পেলে কী হতো কে জানে! ভাবি নি কখনো। আমার ছিলো না বলেই আমি পাই নি। যা আমার নয়, তাকে নিয়ে ভাববো কেন?’

বলেই ঘুরলেন, পিঠ জুড়ে একটা পদ্মফুল। ফর্সা পিঠে ফুটে উঠেছে সেই ট্যাটু। জানতে চাইলাম, জীবনে কী এমন মুহূর্ত আছে, যা এখনো শিহরিত করে? যা স্থায়ী হয়ে আছে মানসপটে?

ঝটপট উত্তর দিলেন তিনি। ‘প্রতিটি মুহূর্তই নতুন আঁচড় ফেলছে মগজে। সময়ই বলে দেবে কোনটা গাঢ়, আর কোনটা ম্লান হয়ে যাবে। ভালোবাসার প্রতিটি স্পর্শই গভীরে জমিয়ে রাখতে চাই। ইচ্ছে করেই ভুলে যেতে চাই বেদনার নাম।’

প্রশ্নের পালা শেষ। বললাম ‘অনেকটা সময় নিয়ে নিলাম আপনার, ধন্যবাদ।’ মুচকি হাসলেন শানু। জবাব দিলেন শেষের কবিতা থেকেই,

‘তোমারে যা দিয়েছিনু তার
         পেয়েছ নিঃশেষ অধিকার।…

তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারই দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়।’