চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ের প্রতিরোধ ভেঙে আফগান জয়ের নায়ক রশিদ

দেশের ইতিহাসে প্রথম ডাবল, অপরাজিত ২০০ রান করা হাসমাতুল্লাহ শাহিদি ম্যাচসেরা হলেন, তার সাথে রেকর্ড ৩০৭ রানের জুটি গড়া আসগর আফগানের ১৬৪ হয়ে থাকল পার্শ্বচরিত্র। আসল নায়ক যে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট নেয়া রশিদ খান। তার দারুণ ঘূর্ণিতে আফগানিস্তান আবু ধাবি টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সমতায় শেষ করেছে সিরিজ।

দুই টেস্টের সিরিজ শেষ হল ১-১এ। প্রথম টেস্টে রশিদ খেলতে পারেননি। মনোবল হারিয়ে বসা আফগানরা যেন ব্যাটে-বলে পর্যুদস্ত হয়ে বাজেভাবে হেরে বসল ম্যাচটা। দুদল এরপর তিন টি-টুয়েন্টির সিরিজে লড়বে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আবু ধাবিতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুয়েকে ২৮৭ রানে অলআউট করে দিয়েছিল আফগানিস্তান। পরে তারা ৪ উইকেটে ৫৪৫ রান তুলে নিজেদের প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে।

জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ লড়ে পঞ্চম দিনে ৩৬৫ রানে অলআউট হয়। আফগানদের সামনে ১০৮ রানের লক্ষ্য দিতে পারে। ৬ উইকেট হারিয়ে সেটি ছুঁয়ে ফেলে রশিদের দল।

শনিবার শুরুতেই জাভেদ আহমাদিকে (৮) হারালেও ইব্রাহিম জাদরান (২৯) ও রহমত শাহর ৫৮ রানে সহজেই জিতে যাচ্ছিল আফগানরা। ঝটপট দুই উইকেট হারালেও নাসির জামশেদ ৪ ও শাহিদি ৬ রানে ম্যাচ শেষ করে আসেন।

বিজ্ঞাপন

ব্লেসিং মুজারাবানি ও রায়ান বুরি ২টি করে উইকেট নিয়ে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সতীর্থ ব্যাটসম্যানরা পর্যাপ্ত রান জমিয়ে দিতে না পারায় তাদের লড়াই ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি।

তার আগের গল্পটা জিম্বাবুয়ের শন উইলিয়ামসের ও আফগানিস্তানের রশিদ খানের। দুজন দুদিক থেকে লড়েছেন। উইলিয়ামের জুটিসঙ্গী ডোনাল্ড ট্রিপানো ৯৫ রানে সেঞ্চুরি হারানোর আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন।

কিন্তু অধিনায়ক উইলিয়ামসকে আউট করতে পারেননি আফগান বোলাররা। শেষঅবধি ১৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি, ১৩ চার এক ছয়ে ৩০৯ বলের প্রতিরোধী এক ইনিংস গড়ে।

উইলিয়ামস যদি ট্রিপানোর মতো আর এক-দুজনের সঙ্গ পেতেন, ম্যাচটাই হয়ত বাঁচিয়ে দিতে পারতেন! জয় না মিললেও ড্র মেলা সম্ভব ছিল বেশ! সেটি হতে দেননি রশিদ।

প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেয়া আগফান লেগি দ্বিতীয় ইনিংসে তুলেছেন ৭ উইকেট। পঞ্চম টেস্টে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট তার। সঙ্গে ক্যরিয়ারসেরা বোলিং। আগের সেরাটি ছিল ৬৯ রানে ৬ উইকেট।

সঙ্গে রশিদের ঝুলিতে গেছে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১ উইকেট। আগেও একবার টেস্টে ১০ বা ততোধিক উইকেট নিয়েছেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০৪ রানে ১১ উইকেট, সেটিই এখনও সেরা হয়ে থাকল রান খরচের বিচারে।