চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রিফাত হত্যাকাণ্ড: জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ কার্যালয়ে মিন্নি

বরগুনায় রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মারুফ হোসেন।

মঙ্গলবার সকালে তাকে জেলা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যার পেছনে স্ত্রী মিন্নির হাত রয়েছে উল্লেখ করে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান নিহত রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ। শনিবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন: মিন্নি আগে নয়ন বন্ডকে বিয়ে করেছিল। ওই বিয়ে গোপন করে রিফাত শরীফকে বিয়ে করে মিন্নি। বিষয়টি আমাদের জানায়নি মিন্নি এবং তার পরিবার। কাজেই রিফাত শরীফ হত্যার পেছনে মিন্নির মদদ রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনলে সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

দুলাল শরীফ আরও বলেন: রিফাত হত্যাকাণ্ডের আগের দিন সকাল ৯টার দিকে নয়নের সঙ্গে দেখা করতে যায় মিন্নি। ওই দিন সন্ধ্যায় নয়নের বাসায় যায় মিন্নি। রিফাতের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের বাসায় মিন্নির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। মিডিয়ায় প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে বিষয়টি পরিষ্কার দেখা যায়। আমার ছেলেকে রিফাত ফরাজী ও অন্যরা যখন মারধর করতে করতে নিয়ে যায় তখন স্বাভাবিকভাবে পেছনে পেছনে হাঁটছিল মিন্নি, যা কোনোভাবেই আমি মেনে নিতে পারিনি। এটি দেখে পরিষ্কার বোঝা যায়, আমার ছেলে হত্যার পেছনে মিন্নির হাত রয়েছে।

এ ঘটনার পর পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে মিন্নি দাবি করেন: মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের আড়াল করতেই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমার শ্বশুর অসুস্থ মানুষ। তিনি কখন কোথায় কি বলেন তার কোন ঠিক নেই। তবে আমার মনে হচ্ছে তাকে দিয়ে কোন মহল স্বার্থ হাসিল করার জন্য আমাকে জড়িয়ে মামলাটিকে হালকা করার চেষ্টা হচ্ছে। যাতে করে আসামিরা ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। আর আমার যদি নয়নের সাথে বিয়েই হবে তবে যখন রিফাতের সাথে বিয়ে হয়েছিলো তখন নয়ন কেন বাধা দেয়নি।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোররাতে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত তিনজনসহ সাত আসামি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। এ ঘটনায় বর্তমানে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

Bellow Post-Green View