চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জরিমানা কমায় বেড়েছে অ্যামাজনে আগুন

ব্রাজিলে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার ওপর জরিমানা হ্রাসের ফলে ‘অ্যামাজন রেইন ফরেস্ট’ (চিরহরিৎ বন) আগুনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে বিবিসির এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে।  

ব্রাজিলের পরিবেশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত পরিবেশ রক্ষার ওপর জরিমানা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক তৃতীয়াংশ কমে গেছে।

বিজ্ঞাপন

ফলে সেখানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন উজাড় করে দেওয়া এবং কৃষিকাজ, কাঠ শিল্প ও মানুষের কাঠের বাড়ি তৈরির কাজে নির্বিচারে গাছ কাটা হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী ব্রাজিলে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার জরিমানা কমের হার

বলা হচ্ছে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে অ্যামাজন। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর ৮৫ শতাংশ বেশি আগুন লেগেছে বৃহত্তম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই বনাঞ্চলে।

এই আগুনের কতটি ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছিল তা জানা যায়নি, তবে ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো বিরুদ্ধে অ্যামাজন বন ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আছে।

সম্প্রতি ফাঁস হওয়া এক গোপন নথিতে দাবি করা হয়েছে, ব্রাজিলের সরকার বিশ্বের বৃহত্তম বন অ্যামাজন সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করে বনের অভ্যন্তরে মটরওয়ে, জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সেতু নির্মাণ করতে চায়।

দাবি করা হয়েছে কৃষি জমি তৈরি করতে কৃষকদের আগুন লাগাতে প্ররোচনা দিয়েছেন ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের সময় বনাঞ্চল ধ্বংসকারীদের জরিমানা কমানোর পক্ষে প্রচারও চালিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ওপেন ডেমোক্রেসিতে’ ফাঁস হওয়া এইপরিকল্পনাগুলোই অ্যামাজনে ধ্বংসাত্মক আগুনের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পৃথিবীতে জীবনধারণে অত্যাবশ্যক অক্সিজেনের একটি বড় অংশ আসে দক্ষিণ আমেরিকার অ্যামাজন বনাঞ্চল থেকে। অ্যামাজনকে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ও বলা হয়ে থাকে। সাথে ক্ষতিকর কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে অপরিসীম ভূমিকা রাখে অ্যামাজন।

প্রায় ৩০ লাখ প্রজাতির প্রাণি ও উদ্ভিদ এবং ১০ লাখ আদিবাসীর আবাসস্থল অ্যামাজন।

পৃথিবীর মোট অক্সিজেন চাহিদার ২০ শতাংশ আসে অ্যামাজন থেকে। আর আগুনের লেলিহান শিখায় এই এভাবে বনাঞ্চল পুড়ে ছাড়খার হয়ে গেলে শংকায় পড়বে পৃথিবীর জলবায়ু। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দাবানল এক অশনি সঙ্কেত; এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী।

২৩ আগস্ট পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় অ্যামাজন জুড়ে প্রায় ২৫০০ জায়গায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) এর হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরে আমাজনে ৭২,৮৪৩ টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৮৪ শতাংশের বেশি।

ইমপের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে আমাজনের ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বনাঞ্চল হারিয়ে গেছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, অ্যামাজন জঙ্গলের ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ব্রাজিলের সাথে বৃহৎ বাণিজ্য চুক্তিতে অনুমোদন না দেয়ার হুমকি দিয়েছে ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ড। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বোলসেনারো জলবায়ু ইস্যুতে নিজের অবস্থান বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ব্রাজিল সরকার। এ ঘটনায় ক্ষোভ, নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

এছাড়া, অ্যামাজনের আগুনকে আন্তর্জাতিক সঙ্কট বলেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও জার্মান চ্যান্সেল অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন ব্রাজিলজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। লন্ডন, বার্লিন, মুম্বাই ও প্যারিসে ব্রাজিল দূতাবাসের বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। সবার চাওয়া একটাই, নিভে যাক আগুন, বেঁচে থাকুক অ্যামাজন।

Bellow Post-Green View