চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জন লেনন আর বিটলস একই সূত্রে গাঁথা

জন লেনন বিশ্ব সঙ্গীত জগতের একটি নক্ষত্রের নাম, একটি উজ্জ্বল প্রতিভা। বিশ্বের সেরা ব্যান্ড বিটলসের অন্যতম একজন সদস্য হিসেবে সারা দুনিয়ার সঙ্গীতপ্রিয় মানুষের কাছে তিনি সুপরিচিত। জন লেনন ছিলেন একাধারে গায়ক, সুরকার, গীতিকার, লেখক, সঙ্গীত পরিচালক এবং দক্ষ সমাজসেবক । বিংশ শতাব্দীতে লেননের রক গান ইউএস প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল।

জন লেনন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪০ সালে ৯ অক্টোবর ইংল্যান্ডের লিভারপুলের অক্সফোর্ড স্ট্রিটে। তার বাবা আলফ্রেড লেনন এবং মা জুলিয়া লেনন। লেননের বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী । লেনন তার প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শেষ করেন এনজেলিকান স্কুল থেকে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করেন লিভারপুল কলেজ থেকে। ছোটবেলা থেকেই লেননের গান আর গিটারের সাথে সখ্য গড়ে ওঠে। ১৯৫৭ সালে লেলনকে প্রথম গিটার কিনে দেয় তার মা । লেননের যখন মাত্র ১৮ বছর বয়স, তখন তার লেখা ‘হ্যালো লিটল গার্ল’ গান ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। লেনন নিজেই তার প্রথম ব্যান্ডদল গড়ে তোলেন এবং নাম দেন ‘কোয়ারীমেন’। জন লেনন ১৯৬৯ সালের ২০ মার্চ বিয়ে করেন ইকো অনোকে।তাদের সংসারে দু’টি সন্তান ছিল। পুত্র সিন অনো লেনন আর কন্যা জুলিয়ান আনা লেনন।

ইংলিশ ব্যান্ড বিটলসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জড়িত ছিলেন জন লেনন । ইংল্যান্ডের রক মিউজিকে বিটলসের অপরিসীম অবদান রয়েছে। বিটলসের সদস্য ছিল চারজন । তারা হলেন জন লেনন  (গিটারিস্ট, গায়ক, সুরকার), পল ম্যাককার্টনি (বেসগিটার), জর্জ হ্যারিসন (লিড গিটার), রিং গো স্টার (ড্রামস)। বিটলস্ অতি দ্রুত সঙ্গীতপিপাসু মানুষের মন জয় করে নেয়।

Advertisement

১৯৬৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিটলসের প্রথম এ্যালবাম ‘প্লীজ প্লীজ মি’ প্রকাশ পায়। বিটলস ১৯৬৩ ও ৬৪ সালে ইংল্যান্ড প্রতিষ্ঠিত রক ব্যান্ডের স্বীকৃতি লাভ করে। বিটলসের সঙ্গে জড়িত থাকাকালীন জন লেনন দুটি বই লেখেন। একটি তার আত্মজীবনী এবং আরেকটি ‘স্পানিয়ার্ড ইন দ্য ওয়ার্ক’। বিটলসের এ্যালবামগুলোর অন্যতম হলো : ওয়ান, এ হার্ড ডেম নাইট, অ্যাব রোড, এ্যানটোলজি ১, এ্যানটোলজি ২, এ্যানটোলজি ৩, বিটলস ফর সেল, হেল্প লাভ, পাস্ট মাস্টারস, প্লীজ প্লীজ মি ও রিভলভার অন্যতম। ১৯৬৯ সালে লেনন বিটলস ছেড়ে দেয়।১৯৬৯ সালে লেননের প্রথম একক এ্যালবাম বের হয় নাম‘লাইভ পিচ ইন টরেন্টো ১৯৬৯’ ১৯৭১ সালে প্রকাশ পায় ‘ইমাজিন’ এ্যালবাম। এই এ্যালবামের ‘ইমাজিন’ গান টি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এ গানটি ছিল মূলত যুদ্ধবিরোধী ও ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়ার উদ্দেশ্য নিয়ে। ইমাজিন এ্যালবামটি ব্যাপক ব্যবসায়িক সফলতাও লাভ করে।

লেননের একক এ্যালবামগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো : ইমাজিন, সামটাইম ইন নিউ ইয়র্ক সিটি, মাইন্ড গেমস, ওয়াল এ্যান্ড ব্রিজ, মিল্ক এ্যান্ড হানি, ফেম, ডাবল ফান্টাসী। লেননের গানে সব সময় ফুটে উঠেছে দেশাত্মবোধক, যুদ্ধবিরোধী ও নারীর অধিকার। ১৯৭২ সালে লেননের সেক্সবিরোধী গান ‘ওমেন ইজ দ্য নিগার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। গানটি ইংল্যান্ডে নিষিদ্ধ হয়। কোনো রেডিও কর্তৃপক্ষও গানটি প্রচারের অনুমতি দেয়নি।

সঙ্গীতজীবনে অনবদ্য অবদান রাখার জন্য অনেক পুরস্কারেই পুরস্কৃত হন লেনন। বিটলসের সঙ্গে থাকাকালীন সময়ে ১৯৭৭ সালে সেরা ব্রিটিশ ব্যান্ড, ১৯৮৩ সালে সঙ্গীত অনবদ্য অবদানের জন্য পুরস্কৃত হন। ১৯৮২ সালে তার একক এ্যালবাম ‘ডাবল ফ্যান্টাসী’র জন্য গ্রামি এ্যাওয়ার্ড পান। ২০০২ সালে বিবিসির জরিপে শীর্ষ ১০০ জন গায়কের মধ্যে লেনন ৮ম স্থান দখল করে। ২০০৮ সালে রলিং স্টোন ম্যাগাজিনের জরিপে শীর্ষ ১০০ গায়কের মধ্যে লেনন ৫ম স্থান দখল করেন।‘জন্মিলে মরিতে হবে’ এই সত্য কথাটি সকলের জানা। কিন্তু যে ব্যক্তির সঙ্গীতে অনবদ্য অবদান, যার গানের মাধ্যমে জাগরণের যে প্রয়াস ছিল, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব যে দেখতে চেয়েছিল তাকে ছিনিয়ে নেয় আততায়ীর চারটি বুলেট । ১৯৮০ সালের ৮ ডিসেম্বর মাত্র ৪০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান জন লেনন।