চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

জনসাধারণের জিম্মি দশার মুক্তি কোথায়?

আকস্মিক জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ডিজেল নির্ভর পরিবহনগুলো আজ থেকে ধর্মঘটে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ পড়েছে বিপাকে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে ডিজেলের দামের কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে। কারণ চাষাবাদসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অধিকাংশ উৎপাদন ডিজেলচালিত যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল।

চ্যানেল আই অনলাইনের এক সংবাদে জানা যায়: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকায় বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবহন মালিকদের সংগঠন। আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সাতটি সরকারি কলেজের ভর্তি পরীক্ষা ছিল। এছাড়াও ছিল ১৯ প্রতিষ্ঠানের চাকরির পরীক্ষা। পরিবহন সঙ্কটে ভোগান্তিতে লাখ পরীক্ষার্থী আর চাকরিপ্রার্থী। সকাল থেকে ঢাকার ফার্মগেট, শাহবাগ, মহাখালী, মালিবাগ, মৌচাক, নতুনবাজারসহ বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে বিআরটিসি, ভাড়ায় চালিত সিএনজি, লেগুনা, রিক্সা এবং নিজস্ব পরিবহন ছাড়া আরও তেমন কোন গণপরিবহণ চলছে না। বাস মালিক সমিতি জানিয়েছে, জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ্‌ জানান: ভোক্তা পর্যায়ে লিটার প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেলে গণপরিবহন চালানো সম্ভব হবে না। ডিজেলের মূল্য ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়েছে এবং গত বৃহস্পতিবার থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসি, ডিজেলে লিটার প্রতি ১৩ টাকা ১ পয়সা এবং ফার্নেস অয়েলে ৬ টাকা ২১ পয়সা কম দামে বিক্রি করছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। অক্টোবর মাসে সব মিলে ২৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এর আগে ২০১৬’র ২৪ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে সমন্বয় করা হয়েছিল।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিতে। আমরা মনে করি এভাবে ভাসা ভাসা কথাবার্তায় এই জটিল পরিস্থিতির অবসান হবে না। সরকারের এই মুহূর্তে দরকার অতি দ্রুত এই খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে একটি ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তা কার্যকর করা।

আমরা আশা করছি সরকার এই সংকট উত্তরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। কারণ এই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে দেশের আপামর জনসাধারণের জীবনযাপন জড়িত। গণপরিবহন পণ্য পরিবহন দ্রুত শুরু করা কিংবা ডিজেলের দাম নিয়ে ত্বরিত সিদ্ধান্তই পারে এই সংকট থেকে আমাদের পরিত্রাণ দিতে।

বিজ্ঞাপন