গত শুক্রবার থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে র্যাব ও পুলিশের যৌথ জঙ্গিবিরোধী অভিযান। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই সারা দেশ থেকেই প্রচুর মানুষকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশ। কেউ কেউ এটাকে ভালোভাবে নিলেও, অনেকেই গ্রেফতার অভিযানের বিরোধিতাও করছেন।
এই বিষয়ে এবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
সেখানে তিনি লিখেছেন, গ্রেফতারের বাণিজ্য! গুপ্তহত্যার সাথে জড়িত অপরাধী ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একদিনে তিন হাজারের বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছে। কেউ যদি এই অভিযানের ভেতরের খবর না জানেন তিনি অভিযান ও গ্রেফতারের সংখ্যা শুনে আতংকিত হবেন।
একদিনে তিন হাজার জঙ্গী গ্রেফতার! বাংলাদেশ তাহলে তো জঙ্গীদের অভয়ারণ্য! দেশে না হোক বিদেশের কাছে এই অভিযান নিয়ে ভুল বার্তা যাবে, যাচ্ছে।
কাল আমেরিকার কোন পত্রিকা যদি লেখে, ‘বাংলাদেশে একদিনে তিন হাজার জঙ্গী গ্রেফতার, আমেরিকার নাগরিকদের আপাতত দেশটিতে না যাওয়ার পরামর্শ’
আপনি প্রতিবাদ করবেন?? তারা তো সুযোগ খুজছে!!
যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সবাই নিরাপরাধ সেটা বলছি না কিন্তু তাদের তো যে কোনো সময় গ্রেফতার করা যায়, করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মামলার আসামীকে এই অভিযানে গ্রেফতার করে জঙ্গি বানানো হচ্ছে না?
আবার নিয়মিত মামলায় যাদের গ্রেফতার হওয়ার কথা বা জেলে থাকার কথা তারা এতোদিনে গ্রেফতার হয়নি কেন?
প্রশ্ন আসতেই পারে।
এরপর ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক এই সভাপতি লিখেছেন, সরকারের অনেকটা নির্লিপ্ত ভূমিকার সুযোগে প্রায় তিন বছর ধরে চলতে থাকা হত্যাকাণ্ড এবং একজন সাধারণ গৃহিনীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরে সমাজে যে চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতা বাসা বেঁধেছে তা দূর করতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কোনো সুফল মিলবে কিনা সেটা নির্ভর করছে তার সহায়ক শক্তির আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধের প্রকাশের উপর।
কিন্তু মাত্র একদিনের অভিযানের পরে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে আসল উদ্দেশ্য সফল নাও হতে পারে।
এর আগে গ্রেফতার বাণিজ্যে, আসামীর থেকে জমি লিখে নিয়ে তাকে মামলা থেকে অব্যহতি দেয়ার পরেও তার কোনো জবাবদিহিতা করতে হয়নি!
প্রশ্ন হলো, এবারের অভিযান কি জঙ্গিবিরোধী অভিযান হবে নাকি বর্নাঢ্য ঈদ উদযাপনের আয়ের উৎস হবে?
মানুষের মনের আতঙ্ক দূর করা, কালিমা মোচনের সুযোগ কি এবার ও সরকার হাতছাড়া করবে?
গ্রেফতার বাণিজ্যের প্রধান শিকার হয়েছে সাধারণ, দরিদ্র মানুষ। অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের শিকার আপনজনকে জেল থেকে বের করতে জমি বিক্রি করেছে, ঋণ করেছে – অনেক কিছু ভুলে গেলেও এই হয়রানী ও আর্থিক ক্ষতি সে কখনো ভুলবে না।
যে সব কাজের জন্য সরকার তৃণমূলের মানুষের আস্থা হারিয়েছে তার অন্যতম হলো গ্রেফতার বাণিজ্য।
সরকার সেটা জানে নিশ্চয়- ই।










