প্রাইভেট টিউশন, কোচিং এবং নোটবই, গাইড বই নিষিদ্ধ করে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমের বেশির ভাগ অঘটনে দায় কোচিং সেন্টারগুলোর। শুধু আইন করলেই হবে না, তার কঠোর বাস্তবায়নও প্রয়োজন।
জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে শিক্ষা আইন, ২০১৬’র খসড়া প্রণয়ন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দিয়ে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নানা শ্রেণির মানুষের মতামত নেয়া হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, কেউ প্রাইভেট টিউশন এবং কোচিং করালে কমপক্ষে দু’ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয়দণ্ড দেয়া হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয়দণ্ড ভোগ করতে হবে।
যারা মতামত দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ কোচিং প্রাইভেট টিউশন বন্ধের বিষয়টি কার্যকর করতে ভ্রাম্যামাণ আদালতের আওতায় আনারও সুপারিশ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, কোচিং সত্যিই একটি সমস্যা। প্রশ্ন ফাঁস, শিক্ষার্থীদের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করা সবকিছু কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম। কোচিং সেন্টারগুলোকে নিষিদ্ধ করা, কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি আমাদের বহুদিনের। কোচিং ও শিক্ষা বাণিজ্য করার এ ধরণের প্রক্রিয়াগুলো বন্ধ হওয়া দরকার।
একই সঙ্গে গাইড বই বন্ধেও কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়ে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সস্তা গাইড বইগুলোর জন্য শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। তারা গাইড বই মুখস্ত করে পরীক্ষা পাস করার পদ্ধতির মধ্যে চলে যায়। তাই গাইড বইগুলোই বন্ধ হওয়া দরকার। শিশুদের সৃজনশীলতার কথা বলি, সৃজনশীল প্রশ্নের কথা বলি সেক্ষেত্রে গাইডবই যদি এভাবে বাজারে পাওয়া যায় তাহলে শিক্ষার্থীর ক্ষতি হবে।
তাই তিনি মনে করেন শুধু আইন করলেই হবে না, তা বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।








