চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ছায়া মন্ত্রিসভার সদস্য হচ্ছেন টিউলিপ

ব্রিটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির শ্যাডো জুনিয়র মিনিস্টার ফর কালচার, মিডিয়া এন্ড স্পোর্টস হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ণ থেকে নির্বাচিত বাঙালি এমপি এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রিজুয়ান সিদ্দিক।

চ্যানেল আই অনলাইনকে এ তথ্য জানান, টিউলিপ সিদ্দিকের নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম দায়িত্বে থাকা লন্ডনের ব্লেন্ট কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র পারভেজ আহমদ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, লেবার পার্টির দলীয় ফোরামে গতকাল রাতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুবুল হক শাকিলও প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সূত্রে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

সম্প্রতি ব্রিটিশ চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার ও ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেইট জর্জ অজবর্নের চীন সফরকালীন সময়ে প্রায় ১১ দশমিক ৮ বিলিয়নের হাইস্পিড রেললাইন প্রজেক্ট কন্ট্রাক্টে বিড করার জন্য চীনা কোম্পানিগুলোকে আহ্বান জানালে, এ ইস্যুতে কথা বলেন টিউলিপ।

এরপর থেকে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয় শ্যাডো কেবিনেটে ট্রান্সফোর্ট বিভাগের দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি। এছাড়া লিডারশিপ বাছাই প্রক্রিয়ায় পরাজিত প্রার্থী অ্যান্ডি বার্নহামের সমর্থক ছিলেন টিউলিপ।

অ্যান্ডি শ্যাডো কেবিনেটে হোম সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেওয়ায় টিউলিপও কেবিনেটে যাচ্ছেন এমন খবরের ডালপালা আরও বিস্তার লাভ করে। তবে ট্রান্সপোর্ট নয়, শেষ পর্যন্ত সংস্কৃতি, মিডিয়া ও ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন টিউলিপ সিদ্দিক।

এই বিভাগে মন্ত্রীর (শ্যাডো সেক্রেটারি অব স্টেইট ফর কালচার মিডিয়া ও স্পোর্টস) দায়িত্ব পালন করছেন মিচেল ডাগার।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে টিউলিপ তার এক টুইটার বার্তায় লেখেন, আমি খুবই উৎফুল্ল মিচেল ডাগারের সাথে তার পি.পি.এস হিসাবে কাজ করতে পেরে। পুরো ছায়া মন্ত্রিসভা আরো শক্তিশালী এবং বস্তুনিষ্ঠ কণ্ঠ হবে পার্লামেন্টে।

টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমান লেবার লিডার জেরমি করভিনকে লিডার হিসেবে সমর্থন না করলেও নতুন লেবার লিডার টিউলিপকে তার শ্যাডো ক্যবিনেটে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে টিউলিপ এই দায়িত্ব গ্রহণে শুরুতে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিলেন, কারণ কৌশলগত কারণে টিউলিপ বুঝতে চাইছিলেন জেরমি করভিনের স্থায়িত্ব কতটুকু দীর্ঘ হয়।

ব্রিটেনের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও লেবার নেতা টনি ব্লেয়ারের লেবার নীতি ভেঙ্গে জেরমি হয়তো খুব দীর্ঘ মেয়াদী লিডার হিসেবে থাকবেন না, সেই অর্থে এই ক্যবিনেটে টিউলিপ দায়িত্ব নিলে তার ভবিষ্যত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ঝুঁকির মুখে পড়বে কিনা সেটিও বিবেচনায় রেখেছিলেন তিনি।

তবে নেতা হবার পরপরই প্রায় দশ হাজার লেবার সমর্থক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দলীয় নেতা-কর্মী চাঙ্গা হতে শুরু করায় শুরুতে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত টিউলিপ শ্যাডো জুনিয়র মিনিস্টারের পদ গ্রহণে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর লন্ডনের মিটসহামে জন্ম নেওয়া টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর থাকার সময় ক্যাবিনেট মেম্বার ফর কালচার ও কমিউনিটিস এর দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে প্রথম ব্রিটিশ বাঙালী এম.পি রুশনারা আলী সাবেক লেবার লিডার এ্যাড মিলিব্যান্ডের ছায়া মন্ত্রিসভায় প্রথমে ডি.এফ.আই.ডি এবং পরে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

Bellow Post-Green View