চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চীনে বামন পার্ক

কি নাম দেবেন এই পার্কটার? বামন পার্ক। হ্যাঁ সেটাইতো! যেখানে সারা পৃথিবী বামনদের  তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে সেখানে চীন কিনা বামনদের থিম নিয়েই তৈরি করে ফেললো এক আস্ত থিম পার্ক।  

চীনে বামনদের নিয়ে তৈরি এই পার্কটি বেশ ব্যতিক্রমী এক ট্যুরিস্ট পার্কে পরিণত হয়েছে এরই মধ্যে। ২০০৯ সালে বামনদের নিয়ে নানান কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই এমন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া। বামনদের  তখন সবাই অশুভ বলেই মনে  করতেন। মানবেতর জীবন-যাপন করতে হতো বামনদের।  কোনো বামনই জীবীকা নির্বাহের জন্য চাকরি পেত না।

এসবের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই এই পার্ক গড়ে তোলা। এখানে চাকরিরতো বটেই, বসবাসেরও সুযোগ পায় বামনরা।  অনেকেই সুনাম করলেও সমালোচনাও কম শুনতে হয়নি পার্কটির উদ্যোক্তাদের। সবাই বলেছিলো এতে করে নাকি বামন মানুষগুলো একেবারে একঘরে হয়ে পড়েছে।

Advertisement

থিম পার্কে ঢুকলেই দেখবেন বামন গার্ডরা সব প্লাস্টিকের বর্মতে নিজেদের ঢেকে মধ্যযুগীয় পোশাকে ঘুরে বেড়ায়। সকালের শোতে আবার বামন নাচিয়েগুলোও খুব কল্পিত পোশাকে থাকে। তারা হাসে এবং ৫০ বা তার বেশি অতিথিদের হালকা নাচ দিয়ে অভিবাদন জানায়।

কেবল নাচিয়ে বা গার্ডই নয়, পার্কের ভেতরে বামনদের ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ফোর্স, পার্লামেন্ট এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত শাসক , কি নেই? যারা নাচতে জানে না। তাদের ঘাড়ে পড়ে নিরাপত্তা, কুটিরশিল্প, খাবার দাবার ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ।

এই পার্কের বাসিন্দা হতে হলে কিন্তু আপনাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। কেবল মাত্র একটা নির্দিষ্ট উচ্চতা হলেই কেউ সক্ষম হবে এই পার্কে বসবাস করতে। পার্কের এক বাসিন্দা জিয়াও জিয়াও জানান, তার এখানে তার একটা ছেলেবন্ধুও আছে এবং সে খুব সুখি। সবাই খুব ঘরকুনো বলে ২০০টি ঘরের কোনোটিই কখনো ফাঁকা থাকে না।

ভ্রমণপিপাসুরা ঘুরতে ঘুরতে এখানে এসে ফোক ডান্স, জিমন্যাস্টিক বা মাসলম্যান শো দেখতে পারে। বামনের ওজনের চেয়েও ভারী ওজনের ওয়েট লিফটিংয়ের দেখাও মিলবে এখানে। এসব কর্মীদের বসের সাথে প্রতিনিয়তই দেখা হতে থাকে। তারা কেবল থাকার জায়গাই নয় বরং একটা ভালো মানের বেতনও পায়। তো, চীনে গেলে এই পার্কে ভ্রমণ না করে আসাটা মনে হয় অন্যায়ই হবে বলে মনে হচ্ছে না?