চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

চিকিৎসা সেবাখাতে এমন ভয়াবহ চিত্র কাম্য নয়

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকেই দেশের স্বাস্থ্যখাতের তথা হাসপাতলগুলোর বেহাল অবস্থা বের হয়ে আসতে থাকে। ভুয়া ডাক্তার, ভুয়া পরীক্ষা, লাইসেন্সবিহীন কার্যক্রমসহ নানা অবস্থা সবাইকে চিন্তিত করে তুলেছে। গণমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ চাপের মুখে থেকে নানা তদারকি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। অনিয়ম পেয়ে নানাধরণের দণ্ডসহ সিলগালা করেছে অনেক হাসপাতাল-ক্লিনিক।

এতোকিছুর পরও থেমে নেই চিকিৎসা সেবাখাতের অনিয়ম, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই নানা অনিয়ম ফুটে উঠছে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতাল-ক্লিনিকে। সম্প্রতি রাজধানীর একটি হাসপাতালে সেই হাসপাতালের স্টাফদের হাতে নিহত হয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা। ঘটনার পরে বের হয়ে আসে ওই হাসপাতালটি অনুমোদনহীন। রাজধানীর আদাবরের ‘মাইন্ড এইড’ নামের ওই হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমকে হত্যার অভিযোগে। আনিসুল করিমকে হত্যার অভিযোগে গতকাল সোমবার রাতে তাঁর বাবা বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি মামলা করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ভয়াবহ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

একটি হাসপাতালে একজন রোগী ভর্তি হন সুস্থ হবার জন্য। কিন্তু সেখানে গিয়ে চিকিৎসার নামে হয়রানির পাশাপাশি যদি প্রাণ হারাতে হয়, এরচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি আর কী হতে পারে? হাসপাতালের নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা কী করছে, তারও প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে।

মন্ত্রণালয়সহ নানা বিভাগের সামনে যখন এধরণের প্রশ্ন ওঠে, তখন তারা বাজেট স্বল্পতা নয়তো জনবল সঙ্কটের কথা বলে দায়িত্ব এড়ায়। আবার হাসপাতালের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, তারা বহু বছর আগে নিবন্ধনের আবেদন করলেও অজ্ঞাত কারণে বন্ধ আছে। এরকম ঠেলাঠেলি ও দায়িত্ব এড়ানোর পরিস্থিতি দূর করা একান্ত জরুরি। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে বা হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনতে না পারলে দেশে সঙ্কটময় পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আমরা মনে করি।

দেশের চিকিৎসা খাতে অটোমেশন আনা, মনিটরিং ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা কার্যক্রমে গতি বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপ নেবার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ মনোযোগ প্রয়োজন।