চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গুগল ও অ্যাপলের কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ অ্যাপের নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্নের জবাব

কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোন মানুষের সংস্পর্শে এসে থাকলে আপনাকে সতর্ক করে দিতে পারবে এমন এক প্রযুক্তি তৈরির জন্য যৌথভাবে কাজ করছে অ্যাপল এবং গুগল- এটি প্রায় সবারই জানা এখন।  প্রাথমিকভাবে যেসব থার্ড পার্টি কনট্যাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ এই মুহূর্তে আছে, সেগুলো যাতে ঠিকভাবে কাজ করে সেই ব্যবস্থাও করে দেবে অ্যাপল এবং গুগলের এই ট্র্যাকিং অ্যাপ।

কিন্তু সম্প্রতি তাদের এই প্রযুক্তিতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

তাদের প্রশ্ন, এটাতে অনেক ভুয়া অ্যাপ তৈরি ও ডাউনলোড করে ভুয়া রেজাল্ট নিয়ে হাজির হতে পারে, এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিঘ্নিত হতে পারে। তারই প্রেক্ষিতে কোম্পানি দুটি প্রশ্নগুলোর সমাধান দিয়েছে সোমবার।

অ্যাপল এবং গুগল বলছে, প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে যাদের উদ্বেগ আছে, তাদের এই কৌশল সেই সমস্যার সমাধান করবে। কারণ যারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবেন তাদের নাম-পরিচয়ের কোন উল্লেখ কোথাও থাকবে না। কোনো কিছু সংরক্ষণও করা হবে না।

মূলত স্মার্টফোনের ব্লু-টুথ সিগন্যাল ব্যবহার করে জানা যাবে কোন করোনাভাইরাস আক্রান্ত মানুষের কাছে কেউ গিয়েছিল কিনা এবং যথেষ্ট দীর্ঘ সময় সেখানে ছিলো কিনা। যার ফলে তারও সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে।পরে যদি পরীক্ষায় দেখা যায় যে কোন মানুষের কোভিড-নাইনটিন হয়েছে, তখন তার কাছাকাছি আসা অন্য মানুষদের স্মার্টফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে সেটি জানিয়ে দেয়া হবে। তবে স্মার্টফোনে কোন জিপিএস লোকেশন ডাটা বা ব্যক্তিগত তথ্য রেকর্ড করা হবে না।

সোমাবার আরো জানানো হয়, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা ১০ মিনিটের জন্য একে অপরের কাছাকাছি গেলে এই সিস্টেমে রেকর্ড করতে পারবে। ১৫ ফুট দূরে ডিভাইসগুলি ব্লুথুট ওয়ারলেসে তা ধরতে পারবে।

বিজ্ঞাপন

সংস্থা দুটি বলছে যে, সিস্টেমটির ব্যবহারকারীরা কোভিড-১৯ স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃক যাচাইকৃত টেস্টে পজিটিভ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।

অ্যাপল এবং গুগল এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তাদের এই নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টায় ব্যবহারকারীদের “ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বচ্ছতা এবং সম্মতি”কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। এই খাতের অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে মিলে তারা এই প্রযুক্তি তৈরি করার আশা করছে।

অ্যাপল এবং গুগল বলছে, তাদের প্রযুক্তির আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, যারা অ্যাপ তৈরি করবে, আইওএস এবং অ্যান্ড্রয়েড উভয় ধরণের অপারেটিং সিস্টেমেই তাদের অ্যাপ কাজ করবে। এখানে কোন সমস্যা হবে না। পুরনো মডেলের আইফোনগুলোতেও যেন এই অ্যাপ; কাজ করে সেটা নিশ্চিত করা হবে।

মূলত তাদের আসল লক্ষ্য এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করা যাতে কোন অ্যাপ ডাউনলোডের দরকারই হবে না। এটি দ্বিতীয় ধাপের চিন্তা প্রতিষ্ঠান দুটির। তারা চায় অধিক মানুষের মাঝে এই অ্যাপের প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং মহামারী নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে তারা জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ওয়ারলেস বেনামে বিনিময় করার পরিকল্পনা করেছে। আসন্ন মাসগুলোতে তারা আরও বেশি লোকের কাছে পৌছানোর জন্য প্রযুক্তি সরাসরি তাদের সিস্টেমে কাজ করতে চায়।

কোম্পানিগুলো বলছে, এর কার্যকারিতা কেবল জনস্বাস্থ্য অ্যাপ কর্তৃক বুঝা যাবে। এতে ভুয়া কোনো ব্যবহারকারী মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে এতে হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ পাবে না। এটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে বলে প্রতিষ্ঠান দুটি আশ্বস্ত করেছে।