চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গভর্নর পদে আরও দুই বছর থাকছেন ফজলে কবির

আবারও ২ বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ফজলে কবিরকে। বিদ্যমান বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন করে তাঁকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। দেশে আইন সংশোধন করে কাউকে গভর্নর পদে নিয়োগ দেয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

বুধবার ফজলে কবিরকে পুনরায় নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

বিজ্ঞাপন

এই বিভাগের উপসচিব মো. জেহাদ উদ্দিনের স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধনী) আইন ২০২০ এর অনুচ্ছেদ ১৩(৩) এবং ১০(৫) এর বিধান অনুযায়ী ফজলে কবিরকে তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ দেয়া হলো। অর্থাৎ ২০২২ সালের ৩ জুলাই পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজ্ঞাপন

এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বয়স নির্ধারিত ছিল ৬৫ বছর। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুযায়ী ৬৫ বছরের বেশি বয়স হলে এই পদে থাকা যাবে না। কিন্তু সরকার ‍২ বছর বাড়িয়ে এই পদে থাকার সময়সীমা ৬৭ বছর করে আইন পাস করেছে।

বিজ্ঞাপন

গত ৯ জুলাই জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে এই বিল পাস হয়েছে।

নিয়োগের বিষয়ে হিসাব করে দেখা যায়, ফজলে কবিরকে প্রথম দফায় ৪ বছর, দ্বিতীয় দফায় ৩ মাস ১৩ দিন এবং তৃতীয় দফায় ১ বছর ১১ মাস ১৫ দিনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৬ বছর ৩ মাস গভর্নর হিসেবে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিচ্ছেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। সরকার এর পরদিনই ফজলে কবিরকে ৪ বছরের জন্য গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়েছিল। তখন তিনি বিদেশে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে এসে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেন ২০ মার্চ। সে হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ১৯ মার্চ। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩৪ দিন আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে তাঁর মেয়াদ ৩ মাস ১৩ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেয় সরকার। চলতি জুলাইতে আইন সংশোধন করে তাঁকে আবারও ২ বছরের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ফজলে কবির মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়িতে ১৯৫৫ সালের ৪ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর রেলওয়ের সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর তিনি রেল সচিব হিসেবে নিয়োগ পান। তারপর তাঁকে অর্থসচিব করা হয়।