চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

খানজাহানের বসত ভিটায় প্রত্নসম্পদের সন্ধান

বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলায় ষাট গুম্বজ ইউনিয়নের সুন্দরঘোনা গ্রামে মৃত ভৈরব নদীর তীরে খানজাহানের বসত ভিটায় ৩ মাস আগে শুরু হয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ। প্রায় ১০ একর জমিতে খানজাহান আলীর বসত ভিটায় কয়েক দফা খনন কাজ চালিয়ে বাগেরহাটে প্রচুর প্রত্নসম্পদ পাওয়ার দাবি করেছেন প্রত্ন গবেষকরা।

গহীন জঙ্গলে সাড়ে ৫ শ বছর আগে কিভাবে এখানে প্রসিদ্ধ নগর কাঠামো গড়ে উঠেছিল তার উত্তর পেতে চলেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এখানে ২৬ ফুট চওড়া মাইলের পর মাইল পাকা রাস্তা, নির্মাণ শৈলীসহ তৎকালীন সময়ের ব্যাবহার্য দৈনন্দিন গৃহ সামগ্রী খুঁজে পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে  সুলতানি আমলের নগর সভ্যতার নির্দশনের জন্য স্বীকৃতি পেতে চলেছে বাগেরহাট বাসীরা।

সরকারের  অর্থায়নে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে মধ্য যুগের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রত্নস্থান হিসেবে সুলতানি আমলের হযরত খানজাহানের বসতভিটার খনন স্থান থেকে শুরু করে সুলতানি যুগের ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সৌখিন তৈজসপত্র, মৃৎশিল্প, চুন দিয়ে তৈরী স্টোন ওয়্যার, পলিক্রম ওয়্যার, গেলইজড ওয়্যার, স্লিপযুক্ত ওয়্যার, সেলাডন, চাইনিজ পোরসেলিন, এগ শেল ও মৃৎপাত্র পাওয়া গেছে।

Advertisement

এবারই প্রথম মধ্যযুগের নগর সভ্যতার  পাঁকা রাস্তা, সুপের পানির আধার, বিভিন্ন তৈজসপত্র, সামুদ্রিক কোরালের হাড় উদ্ধার হয়েছে। 

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনার আঞ্চলিক সহকারী পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এই অঞ্চলে প্রত্নতত্ত্ব গবেষণার বিশাল দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। ইতিহাস ও খনন করার পর পর্যালোচনা করে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে হযরত খানজাহানের সময়ের অনেক স্থাপত্য এখনও এ অঞ্চলের মাটির নিচে চাপা পড়ে রয়েছে।

খনন কাজ শেষ হলে খলিফাতাবাদ বা  বর্তমান বাগেরহাট বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রত্নতত্ত্ব সমৃদ্ধ অঞ্চল হবে বলে মনে করেন তিনি।

১৪০০ সালের গোড়ার দিকে বাগেরহাটে আসেন হযরত খানজাহান আলী। মানব প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে মহান এ সেনাশাসক যশোরের বারো বাজার থেকে শুরু করে ৩৬০টি মসজিদ ও ৩৬০টি দিঘি খনন করেন। এরমধ্যে অন্যতম খানজাহান আলীর মাজার সংলগ্ন ২০০ বিঘার (১১০০ বর্গহাত) বিশাল দিঘি। এছাড়াও তিনি নির্মাণ করেছেন অসংখ্য পাকা রাস্তা ।