চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ক্যারিয়ারের শুরুতেই যে প্রযুক্তিগুলো আপনার জানা জরুরি

বর্তমান সময়ে সকল ধরণের কাজেই প্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষণীয়। মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সুপারশপেও প্রযুক্তির ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। জটিল হিসাব নিকাশ থেকে শুরু করে ছুটির আবেদন এমনকি ভিজিটর একসেস পাস প্রদানের মত অতি সাধারণ কাজেও প্রযুক্তি’র ব্যবহার লক্ষণীয়। সফল ক্যারিয়ার গড়তে হলে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের পাশাপাশি ভালো প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের এই সময়ে একটু আধটু টাইপ কিংবা ইন্টারনেটের ব্যবহার জানলেও কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজন প্রফেশনাল লেভেলের দক্ষতা। আসুন জেনে নেওয়া যাক কর্মজীবনে নিয়মিত কাজে লাগে এমন কিছু প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিষয়ে।

১. মাইক্রোসফট অফিস: কর্মক্ষেত্র মানেই লেখালেখি। সাধারণ চিঠিপত্র থেকে হিসাব-নিকাশ কিংবা কোন বিষয়ের ওপর প্রেজেন্টেশন দেওয়া প্রায় সকল অফিসেই লেগে থাকে। আর এসকল কাজে ব্যবহার করতে হয় মাইক্রোসফট অফিসের ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্ট এর মত সফটওয়্যার। বিশ্বের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই মাইক্রোসফট অফিস ব্যবহার করে থাকে। কেউ অন্য কোন এপ্লিকেশন ব্যবহার করলেও মাইক্রোসফট অফিস জানা ব্যক্তি’র কাছে সেটি ব্যবহার করা কঠিন হবে না। তাই প্রথমেই বেশ ভালভাবে এগুলো শিখুন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

২. বাংলা টাইপিং: সরকারি প্রতিষ্ঠানতো বটেই পাশাপাশি দেশের প্রায় সকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও বিভিন্ন কাজে বাংলায় লেখালেখি করতে হয়। বর্তমানে বাংলায় লেখা’র জন্য জনপ্রিয় দুটি সফটঅয়্যার হলো বিজয় ও অভ্র। অভ্র ওপেন সোর্স ও ফোনেটিক টাইপিং সুবিধার কারণে অনেকেই আজকাল এটি ব্যবহার করছে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানেই আবার শুধু বিজয় ব্যবহার করে থাকে। যে কোন একটি ব্যবহার করেই আসকি বা ইউনিকোডে লেখা সম্ভব হলেও চেষ্টা করুন দু’টিই শিখে রাখতে।

৩. ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর টুকিটাকি: বর্তমানের সফটঅয়্যারগুলো বেশিরভাগই অনলাইন বেইজড যা ব্রাউজারের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হয়। তাই ইউআরএল, এড্রেস বার, বুকমার্কসহ ব্রাউজার ও ব্রাউজিং এর খুটিনাটি জানুন।

৪. গুগল এডভান্সড সার্স, ইমেজ সার্চ: সবাই গুগল সার্চ মোটামুটি জানলেও গুগলের লক্ষ-কোটি ফলাফল থেকে কাঙ্খিত তথ্য খুজে পেতে অনেকেরই সমস্যা হয়ে থাকে। গুগলের এডভান্স সার্চ এর ওপর দক্ষতা থাকলে খুব সহজেই আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যটি খুজে পেতে পারেন। জেনে রাখুন গুগলের ইমেজ সার্চিং সম্পর্কেও।

৫. ইমেইলের খুঁটিনাটি ও মাইক্রোসফট আউটলুক: স্মার্টফোন আছে অথচ ইমেইল নেই এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। চাকরি’র সিভি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজে ইমেইলে ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রিয় ইমেইল সেবার পাশাপাশি মাইক্রোসফট আউটলুকও জেনে রাখুন। ইমেইল ফরম্যাটিং, ফাইল এটাচমেন্ট, সিসি, বিসিসি, সিগনেচারসহ খুটিনাটি বিষয়গুলোর পাশাপাশি ইমেইল শিষ্টাচার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখুন।

৬. স্ক্রিনশট নেওয়া: অফিসের দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি প্রেজেন্টেশন তৈরি কিংবা অনলাইন সাপোর্টের জন্য স্ক্রিনশট বেশ সুবিধাজনক একটি ফিচার। উইন্ডোজের প্রিন্ট স্ক্রিন ও স্নিপিং টুল এর পাশাপাশি ব্রাউজারের Full Page Screen Capture এর কৌশল জেনে রাখুন।

৭. উইনজিপ/উইনরার: ফাইল সাইজ কমাতে, অনেকগুলো ফাইল একত্রে ইমেইলে পাঠাতে বা ব্যাকআপ হিসেবে রাখতে জিপ সফটঅয়্যারের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ কাজে উইনজিপ/উইনরার বেশ জনপ্রিয় এপ্লিকেশন। এ ধরনের এপ্লিকেশন ব্যবহার করে জিপ বা আনজিপ করার কৌশল আপনার দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে পারে।

৮. ফটোশপ: দৈনন্দিন জীবনে ছবি তোলা আমাদের প্রায় প্রতিদিনের কাজ হয়ে দাড়িয়েছে। তবে সেসকল ছবিতে একটু-অধটু এডিটিং করা গেলে তা আরো দৃষ্টিনন্দন হতে পারে। আর ছবি এডিটিং এর কাজে ফটোশপ সারা বিশ্বে ব্যপক জনপ্রিয়। ফটোশপের বাড়তি এই দক্ষতা জানা থাকলে নিজের কাজের পাশাপাশি সহকর্মীদের কাছে থেকেও পেতে পারেন বাড়তি সমাদর।

৯. ইউএসবি এর ব্যবহার: ইউএসবি ডিভাইস বা পেন ড্রাইভ ফাইল ট্রান্সফারের সর্বাধিক জনপ্রিয় মাধ্যম। জেনে রাখুন এদের ব্যবহার। তবে ভাইরাস বহনের মাধ্যম হিসেবেও এটি পরিচিত। সুতরাং ইউএসবি ডিভাইসের সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত ভাইরাস স্ক্যানিংয়ের পাশাপাশি ফরম্যাটিং দেওয়ার পদ্ধতিও শিখে রাখুন।

১০. স্মার্টফোনের ব্যবহার: আজকাল সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন থাকলেও এর অনেক ফিচারই অনেকেই জানেন না। স্মার্টফোনের বিভিন্ন ফিচার জানা থাকলে অফিসের বাইরে থেকেও অনেক কাজ সেরে ফেলতে পারবেন। বিভিন্ন এ্যাপসের ব্যবহারে আপনার প্রতিদিনের জীবন অনেক সহজ হতে পারে। পাশাপাশি স্মার্টফোনের শিষ্টাচার মেনে চলাও জরুরি।

বিজ্ঞাপন

১১. গুগলড্রাইভ: ক্লাউড স্টোরেজ এবং ফাইল শেয়ারিং মাধ্যম হিসেবে গুগলড্রাইভ বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। স্টোরেজ এর পাশাপাশি গুগলডকস বা শিট ব্যবহার করে ওয়ার্ড বা এক্সেল এর কাজ করার পাশাপাশি তা অনেকের সাথেই শেয়ার করা যায় আবার অনেকে মিলে সম্পাদনার কাজও করা যায়। গুগল ফর্ম ব্যবহার করে সার্ভে বা ডাটা সংগ্রহের কাজও করা যায়। জেনে রাখুন এই টুলসগুলোর ব্যবহার, কারণ এগুলোই আপনার দৈনন্দিন কাজের সঙ্গি হবে।

১২. সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ও এটিকেসি: বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতেই আজকাল সকলের একটি করে প্রোফাইল থাকে এবং সেখানে পরিবার বা বন্ধুদের পাশাপাশি অফিসের সহকর্মী বা উর্ধতনদের সাথেও যোগাযোগ থাকে। সুতরাং সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে বেশ কিছু শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। অফিস বা রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে শাস্তির পাশাপাশি চাকরিও হারাতে হতে পারে। আবার পারিবারিক কলহের কারণও হতে পারে। সুতরাং রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ মানুন, ধর্মীয় বিষয়ে সতর্ক থাকুন এবং সাইবার সিকিউরিটি আইন মেনে চলুন।

১৩. কম্পিউটার হার্ডঅয়্যার ও ট্রাবলশুটিং: প্রতিটি অফিসেই কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, স্ক্যানার, ক্যামেরা, ফটোকপিয়ারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহার রয়েছে। এসকল হার্ডঅয়্যার এর ব্যবহার জানা থাকলে নিজের কাজ নিজেই করতে পারবেন। আর ছোট-খাটো ট্রাবলশুটিং জানা থাকলে অন্যের অপেক্ষায় থেকে আপনার কাজের সময় নষ্ট করতে হবে না।

১৪. ব্লগিং: ব্লগিং জ্ঞানচর্চার একটি অন্যতম মাধ্যম। ছাত্র জীবন থেকেই ব্লগিং এর অভিজ্ঞতা থাকলে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর Knowledgebase তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারেন। প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের কোন তথ্য আপডেটের বিষয়টিও আপনার কাছে কঠিন কিছু মনে হবে না।

১৫. বিষয়ভিত্তিক সফটওয়্যার: আপনার পড়ালেখা যে বিষয়ে সে সংক্রান্ত সফটওয়্যারগুলো ভালোকরে জেনে রাখুন।

১৬. কমিউনিকেশন টুলস ও ওয়েবিনার প্লাটফর্ম: বর্তমানে যোগাযোগের জন্য অনলাইনিভিত্তিক বিভিন্ন কমিউনিকেশন টুলস ও ওয়েবিনার প্লাটফর্ম ব্যবহৃত হচ্ছে। WhatsApp, Viber, Zoom, Google Meet, Cisco WebEx, GoTo Webinar সহ এধরনের জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো।

১৭. প্রিন্টার: সকল কর্মক্ষেত্রেই প্রিন্টারের ব্যবহার পাবেন। লেজার প্রিন্টার থেকে শুরু করে ডট ম্যাট্রিক্স, ইন্কজেট, পয়েন্ট অব সেল প্রিন্টার এ সবের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত। কাগজ বা কালি পরিবর্তন থেকে শুরু করে জেনে রাখুন কাগজ আটকে গেলে ছাড়ানোর উপায়সহ সাধারণ সমস্যা সমাধানের উপায়।

১৮. পিডিএফ তৈরি করা: ওয়ার্ড বা অন্যান্য অফিস এপ্লিকেশন বা ব্রাউজার থেকে পিডিএফ তৈরি করার কাজটি আপনাকে যেকোন সময়েই করার প্রয়োজন হতে পারে। শিখে রাখুন পিডিএফ এ বুকমার্ক, চ্যাপ্টার, হাইপারলিংক, পিডিএফ এডিটিংসহ এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ।

১৯. নেটওয়ার্ক সংযোগ: প্রতিটি অফিসেই আজকাল ইন্টারনেট রয়েছে। নেটওয়ার্ক সংযোগ এর বেসিক ধারণা, আইপি এড্রেস ও ম্যাক এড্রেস দেখা, ল্যান ও ওয়াইফাই সংযোগের ধারণা থাকলে নেটওয়ার্কং এর অনেক ঝামেলাই আপনি সাবলীলভাবে সামলাতে পারবেন।

২০. অন্যান্য: উল্লিখিত বিষয়গুলোর বাইরেও কাজের প্রয়েজনে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো শিখে নিতে হয়। পাশাপাশি উইট্রান্সফার, অনলাইন ইমেজ রিসাইজিং, কিউআর কোড ও বারকোড তৈরি এবং ব্যবহার করা, পেপার সাইজ চেনা, উইন্ডোজ সেটিংস/কন্ট্রোল প্যানেল পরিচিতি, সফটঅয়্যার ইনস্টল ও আনইনস্টল করা, কিবোর্ড শর্টকাট, স্ক্যানিং, ওসিআরসহ নৈমিত্তিক কাজে লাগে এমন বিষয়গুলো জেনে রাখলে প্রযুক্তি’র ব্যবহারে আপনি একদিকে যেমন স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন তেমনি প্রতিদিনের কাজ অনেক সেহজেই সামলাতে পারবেন।

এ দক্ষতাগুলো থাকলে আপনি শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয় দৈনন্দিন জীবনেও সময় বাচিয়ে সাবলীলভাবে অনেক কাজ করতে পারবেন। ছাত্রজীবনেই এ দক্ষতাগুলো অর্জন করে বাড়িয়ে নিতে পারেন আপনার আত্মবিশ্বাস।