চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কোন পথে যাচ্ছে দেশ ও গণতন্ত্র?

দ্বন্দ্ব সংঘাত,ক্ষমতা কুক্ষিগত করার অনৈতিক ফন্দি,দুর্বৃত্তায়ন,দলীয় শৃংখলা,গণতান্ত্রিক শিষ্ঠাচার ভঙ্গ প্রভৃতি কারনে চরম হুমকিতে ছুটছে গণতন্ত্র৷ সরকার দলের মেয়র প্রার্থী ভোটচোরদের প্রতিরোধ করার আহবান জানাচ্ছে৷ চলছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মনোনয়ন তালিকা হতে বাদ দেয়ার চলছাতুরী৷চলছে প্রতিপক্ষকে হুমকি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারকাজে বাধাদান,চলছে শারিরীক ভাবে মেরে ফেলা ও কাগজে কলমে মেরে ফেলার বর্বরতা৷ ইতোমধ্যেই কয়েকজনকে জীবন দিতে হয়েছে৷

অনেকের কাছেই প্রশ্ন তবে কি এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সংজ্ঞাই পাল্টে দিতে যাচ্ছেন?কোথায় গেলো সেই নির্বাচনী উৎসব মুখরতা?কোথায় গেল ভোটারদের উচ্ছ্বাসমুখর সেই দিনগুলো?জীবিত ব্যক্তিকে কাগজে কলমে মেরে ফেলাও চলছে৷ ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভার দুই বারের সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহজাহান। এবার তিনি মেয়র পদে ভোট করবেন স্বতন্ত্র হিসাবে৷ ১৩ জানুয়ারি ভোটার তালিকা তুলতে গিয়ে তিনি জানেন তিনি মৃত। এটাও নিশ্চয়ই তাকে নির্বাচনে অযোগ্য বানানোর চলছাতুরী৷ এমনটি কেন ঘটল এর রহস্য উন্মোচন হবে কি?

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক দল, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,রাজনীতি ও নির্বাচনকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? ভোটের আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় এমনি এমনি জিতে যাচ্ছে অনেক প্রার্থী৷ নানাকারনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক, দল, রাজনীতি ও নির্বাচনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে৷ নির্বাচনে অনিয়ম দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলছে সরকার দল আওয়ামী লীগ,বিরোধী দল বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা৷ আসলে কী ঘটছে দেশে?

কোথাও দলীয় প্রার্থীর অনুসারীরা মারপিট করছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের৷ কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীরা মারপিট করছে দলীয় প্রার্থীর অনুসারীদের৷ আর নির্বাচন কমিশন ব্যস্ত রয়েছে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে আমেরিকা সহ অন্যদেশের নির্বাচনী অনিয়মকে তুলে ধরে নিজেদের সাফাই গাইতে৷ কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এনামুল হকের ফাঁস হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেছে, তিনি ১৬ জানুয়ারির নির্বাচনে তার পক্ষে প্রকাশ্যে সিল মারার নির্দেশ দিয়েছেন ভোটারদের। ৯ জানুয়ারি উপজেলার ৩নং ওয়ার্ডের মোশারফপুরে পৌর এলাকায় একটি নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ নিয়ে জনমনে শুরু হয়েছে তোলপাড়৷নির্বাচন কমিশন কি পেরেছেন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে?

বিজ্ঞাপন

এদিকে চট্রগ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনুসারীদের হামলায় নিহত হয়েছে দলীয় প্রার্থীর একজন অনুসারী৷ প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় অনেক জায়গায় বিনাভোটেই পাশ করে ফেলছে মেয়র ও কাউন্সিলররা৷চলছে মনোনয়ন প্রদান ও মনোনয়ন বাতিল৷ নেত্রকোনার মদনে প্রথমে একবার আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ঘোষনা করে একজনকে৷ পরে আবার তাকে বাতিল করে আরেকজনের নাম ঘোষনা করে৷ কেন তবে কি প্রথম মনোনয়ন ঘোষনাটা ভুল ছিল?উপজেলা কমিটি,জেলা কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটি থাকতে এত বড় ভুলটা কিভাবে হতে পারলো?এখন বলা হচ্ছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়ন পাবেনা৷ কিন্তু এই তত্ত্ব কি প্রথমবার মনোনয়ন ঘোষনার আগে তারা জানতোনা?মোহন গঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জানুয়ারী৷ এখানে অনুুুুষ্ঠিত হচ্ছে এক দলীয় প্রতীকের নির্বাচন৷ বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে৷শেষ মুহুর্তে এমন প্রচারনাও চলছে আপিলে তিনি মনোনয়ন পেয়ে গেছেন৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউকেউ লিখছেন, ধানের শীষে ভোট দিন৷

আগামীকাল নির্বাচন আর আজ এমন প্রচারের রহস্য কি?বিএনপি প্রার্থীর এ পর্যন্ত কোন প্রচার প্রচারনা কেউ দেখেনি৷ মোহন গনজ পৌরসভায় একজন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী৷ আর দুজন মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী৷ এই দুইজনের একজন সাবেক আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ আজাদের কন্যা তাহমিনা পারভীন বিথী ও আরেকজন সাবেক ছাত্রনেতা আবু হেনা চৌধুরী সেতু৷ এই দুই স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী না থাকলে এখানেও ঘটতো বিনা ভোটে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ঘোষনা৷ স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা পারভীন বীথি সংবাদ সম্মেলন করে তাকে নির্বাচনী প্রচার কাজে বাধাদানের অভিযোগ করেছে৷ তার অভিযোগ সত্যি হলে কেন এই বাধা দান?আর এতে নির্বাচন কমিশনের কী বক্তব্য?তিনি সংবাদ সম্মেলনে একজন প্রাক্তন আমলার নির্বাচনকে প্রভাবিত করার কথাও বলেছেন৷ তিনি ডিসি ও ইউএনওর প্রত্যাহারও দাবী করছেন৷ আসলে কী ঘটতে চলেছে এখানে?

তৃণমূল হতে কেন্দ্র পর্যন্ত চলছে পরস্পর বিরোধিতা৷ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই অনবরত ভোট চুরির বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন৷আবার তিনি নির্বাচন করছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে৷ চলছে রাজধানীতে বর্তমান মেয়র ও সাবেক মেয়রের একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ গার৷ দুজনই আওয়ামী লীগ নেতা৷ বিরোধী দলের নিস্ক্রিয়তায় হঠাৎ করে নিজ দলে এমন বিরোধাত্মক কন্ঠ তীব্র হয়ে উঠলো কেন?মীর্জা কাদেরকে নৌকা প্রতীক দিয়েও কি ভুল করল আওয়ামী লীগ?এক্ষেত্রে কী বলবেন দলটির সংগঠন বিভাগ?যেমন ভুল করেছিলেন নেত্রকোনার মদনে৷ সাংগঠনিক সম্পাদকরা কী খবর রাখেন দলের?কী ভূমিকা রাখেন দলের শৃংখলা রক্ষায়?আওয়ামী লীগে কি কোন গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা আছে?উচ্চতর কমিটির সাথে নিম্নতর কমিটির সমন্বিত সাংগঠনিক যোগাযোগ ছাড়া কি কোন দল চলতে পারে?নাগরিক মনে প্রশ্ন কোন পথে যাচ্ছে দল,কোন পথে যাচ্ছে রাজনীতি, কোন পথে যাচ্ছে দেশ ও গণতন্ত্র৷ মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বললেন,প্রশাসনের জন্য মানুষ নয় মানুষের জন্য প্রশাসন৷ কিন্তু বাস্তব চিত্র কী বলে?

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)