কোটা সংস্কার চেয়েছিল আন্দোলনকারীরা, কিন্তু সংস্কার না হয়ে সেটা বাতিলই করে দিয়েছে সরকার। খোলাচোখে এতে অভিমান আর ক্ষুব্ধ হওয়ার বার্তা দেখা যায়; কিন্তু এটাকে ওই দৃষ্টিতে না দেখে অন্য দৃষ্টিতেও দেখা যেতে পারে।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে তার দেওয়া বক্তৃতায় যখন কোটা বাতিলের ঘোষণা দিচ্ছিলেন তার আগেই এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসার আভাস পাওয়া গিয়েছিল। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলন বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর দাবি পূরণের ঘোষণা আসার কথা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন এমন।
ফলে ধারণা করাই যায় কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেক ভেবেছিলেন, দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, এমনকি ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককেও তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তাই এটাকে তড়িৎ ও অভিমান-সৃষ্ট সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার উপায় নাই।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় জানিয়েছেন: আলোচনা হলো, একটি সুনির্দিষ্ট তারিখ দিল, কেবিনেট সেক্রেটারিকে আমি দায়িত্ব দিলাম। তারা যুক্ত হলো। খুব ভালো কথা, সংস্কার সংস্কার বলে…সংস্কার করতে গেলে আরেক দল এসে বলবে সে সময়টা দিল না। মানি না, মানব না বলে তারা যখন বসে গেল, আস্তে আস্তে সব তাদের সঙ্গে আবার সংস্কার চাই। কোটা থাকলেই সংস্কার। আর কোটা না থাকলে সংস্কারের কোনো ঝামেলাই নাই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই। আর যদি দরকার হয় আমাদের কেবিনেট সেক্রেটারি তো আছেন। আমি তো তাকে বলেই দিয়েছি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে বসে তারা কাজ করবেন। সেটা তারা দেখবেন। আমি মনে করি, এ রকম আন্দোলন বার বার হবে। বার বার শিক্ষার সময় নষ্ট হবে।
কথাগুলোর মধ্যে অনুযোগের সুর থাকলেও এ সংক্রান্ত ভবিষ্যতের সকল আন্দোলনের সমাপ্তি এ ঘোষণার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে আক্ষেপ, যেখানে তিনি বলছেন: ডিজিটাল বাংলাদেশ আমিই গড়ে তুলেছিলাম। আজকে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব যা কিছুই ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো তো আমাদেরই করা। আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা দেব, সে শিক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু গঠনমূলক কাজে ব্যবহৃত না হয়ে সেটা গুজব ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একটা ছেলের মাথায় আঘাত লেগেছে। হঠাৎ একজন স্ট্যাটাস দিয়ে দিল যে সে মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়ে সব বেরিয়ে গেল।
এসব কিছুর পর আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আন্দোলনকারী এবং আন্দোলনের বাইরে থাকা দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল যারা তারা প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণায় কতখানি সন্তুষ্ট। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পাঁচ দাবির মধ্যে প্রধান দাবি হচ্ছে বিদ্যমান ৫৬ শতাংশ কোটা থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা। মুক্তিযোদ্ধা কোটা, জেলা কোটা, নারী কোটা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী কোটা মিলিয়ে যে ৫৬ শতাংশ তার মধ্যে অর্ধেকের চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩০ শতাংশ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। এ কোটার আওতায় মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিরাও। এখানেই আপত্তি অনেকের, সংখ্যার আধিক্যের কারণে।
বাংলাদেশ জন্মের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা জড়িয়ে। তাদের সীমাহীন আত্মত্যাগ, অবিচল দেশপ্রেমের মাধ্যমেই বাংলাদেশের উদ্ভব- এটা অস্বীকারের উপায় নাই। রাষ্ট্রের দায়িত্ব তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও প্রতিদান। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। এটা দুর্দান্ত এক উদ্যোগ। এই প্রক্রিয়া চলমান রাখা সহ সম্ভব সকল সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। এনিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথাও না, আপত্তি নাইও। তবে বাস্তবতার নিরিখে বিদ্যমান কোটা থেকে কমিয়ে আনার দাবি জানানোর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা নয়। বরং দেশের প্রতি তাদের আত্মদানকে স্মরণ এই কোটা ব্যবস্থা স্মারক হিসেবে রাখাই যায়।
কোটা বাতিল যেমন আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল না, ঠিক একইভাবে কোন দাবি শতভাগ বা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেই হয় এমনও হয়না। এগুলো সরকারের সিদ্ধান্ত এবং সরকার এ সম্পর্কিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। সংস্কার চেয়ে বাতিল পেল এমন অভিযোগেরও সুযোগ থাকছে কম, কারণ আন্দোলনকারীরা সরকারকে সে সুযোগই দেয়নি। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত এবং প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চেয়েছিল আন্দোলনকারীরা। প্রধানমন্ত্রীও এনিয়ে সময়ক্ষেপণ না করে নিজের সিদ্ধান্ত অর্থাৎ সরকারের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। অথচ এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যাওয়ার প্রয়োজন ছিল, প্রয়োজন ছিল বিশেষজ্ঞ কর্তৃক ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার। সে পথটাও প্রশস্ত হয়েছিল ওবায়দুল কাদেরের আশ্বাসে, কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশের একগুঁয়েমির কারণে সে পথটাই রুদ্ধ হয়ে গেছে।
কোটা সংস্কার আন্দোলন টানা অবস্থানে চলে গিয়েছিল ৮ এপ্রিল। ৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছিল। সে বৈঠক ফলপ্রসূ বলে মনে হয়েছিল। ওই বৈঠক শেষে বলা হয়েছিল ৭ মে’র মধ্যে সরকার এনিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেবে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশ নিজেদের পাঠানো প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গিয়ে টানা অবস্থানের ঘোষণা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশেও একই ঘটনা ঘটে। পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এমন অবস্থায় কোণঠাসা হয়ে পড়া সরকারকে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিতেই হত এবং প্রধানমন্ত্রী নিজে মুখে সে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বলা যায় বাধ্যই হয়েছেন সিদ্ধান্ত জানাতে।
কোটা ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যাওয়ার পর এখন কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি করেছেন বলে অভিযোগ করছেন। কিন্তু ভেবে দেখুন ছাত্রদের এই দাবিকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার অনেক চেষ্টা কসরত হয়েছে। আন্দোলনের মধ্যে সরকার বিরোধী শক্তি প্রকাশ্যেও চলে আসে একটা সময়ে। এমন অবস্থায় বড় ধরনের নাশকতা ও স্যাবোটাজের শঙ্কাটাও জেগেছিল। এমন কিছু হলে ছাত্রদের ন্যায্য দাবির এই আন্দোলন ভুল পথে পরিচালিত হয়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নিতে পারত। এই আন্দোলনে সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার কারণেই এটাকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুলিয়ে রাখাটা সমীচীন হত না।
আমাদের মনে রাখা উচিত রাজনৈতিক সরকারের প্রতি সিদ্ধান্তকে সরকারিভাবে বাস্তবায়নের জন্যে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং সেটা সময়সাপেক্ষ ও যৌক্তিক। এবিষয়টি বুঝা উচিত চাকরিপ্রত্যাশীদের যাদের অনেকেই ভবিষ্যতে ‘পাবলিক সার্ভেন্ট’ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। ভবিষ্যৎ প্রশাসক, আমলারা যখন এই সাধারণ জ্ঞানটুকু রাখে না তখন শঙ্কা জাগে, প্রশ্নেরও উদয় হয় উদ্দেশ্যের। তবে এই শঙ্কা ও ধারণার বাইরে মনে করি কতিপয় আন্দোলনকারী বাদে বাকি সকলের ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য ছিল না।
বর্তমানে সরকারি চাকরির ৩০ শতাংশ পদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, জেলা কোটায় ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষিত। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ এর দাবি ছিল, কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। আর কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকা থেকে তা পূরণ করতে হবে। সরাসরি নিয়োগে কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের মধ্য থেকে সেসব পদ পূরণ করা হবে বলে গত ৩ মার্চ এক সার্কুলারে জানিয়েছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরাসরি নিয়োগে কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকায় থাকা প্রার্থীদের মধ্য থেকে কীভাবে তা পূরণ করতে হবে- সেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয় গত ৫ এপ্রিল। মানে আন্দোলনকারীদের আন্দোলন শুরুর আগে থেকেই একটি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিল সরকার, অথচ তারা সেটা জানতই না।
কোটা বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা কোটা সহ জেলা কোটা, নারী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সকল কোটা বাতিল হয়ে গেছে। এর প্রভাব হয়ত এখনই টের পাওয়া যাবে না। আগামীতে হয়ত এর বিরূপ প্রভাব পড়বে সমাজ-মানসে। তখন আমাদের ফের কোটা চালুর দাবি জানানোর সুযোগটা সীমিত হয়ে পড়েছে।
আশার কথা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় জানিয়েছেন প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্যে আলাদা ব্যবস্থাকরণের। এ থেকেই ক্ষোভ-অভিমান আর প্রতিশোধের কোন উদ্দেশ্য তাঁর মাঝে ছিল না বলে পরিষ্কার। কোটা ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর চিন্তাভাবনা শেষে এমন সিদ্ধান্ত এসেছে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ সচেতনভাবে কোন সিদ্ধান্ত না নিলে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুবিধা দেওয়ার কথা কেউ ভাবতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী সেটা ভেবেছেন; এ তার বড় প্রমাণ।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়ে কতিপয় সুযোগসন্ধানী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি করেছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ। এটা আমাদের বড় ধরনের এক পরাজয়। মুক্তিযোদ্ধাদের হেয় করার এই প্রবণতা কিছু দলের রাজনৈতিক কৌশল ও এজেন্ডা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে উপলক্ষ করে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, বিশেষত বাংলাদেশ-জন্মের প্রতি তাদের বিদ্বেষ উগরে দিয়েছে। নিন্দা জানাই এমন অপকর্মের। এটা আমাদের অন্যতম পরাজয়।
বাতিল নয় সংস্কার চেয়েছিলাম- এমনটা বলার সুযোগ আমরা হারিয়েছি সরকারের আশ্বাসের পরেও আশ্বাসে আশ্বস্ত না হয়ে। আন্দোলনকারীদের মধ্যকার কতিপয় নেতার হটকারি আচরণের কারণে পুরো কোটা ব্যবস্থাই বাতিল হয়ে গেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশের একগুঁয়েমি ও উসকানিতে ইয়েস/নো অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছিল সরকারকে। ওখান থেকে বাতিল ঘোষণা ছাড়া উপায় ছিল না প্রধানমন্ত্রীর।
কারণ সংস্কার নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে একমত হলেও সে সংস্কারের জন্যে সময় দেয়নি আন্দোলনকারীরা। সংস্কারের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই সময়সাপেক্ষ ও প্রক্রিয়া মেনেই চলতে হয়, কিন্তু বাতিল উচ্চারণে প্রক্রিয়া লাগে না, লাগে কেবল ঘোষণা। আন্দোলনকারীরা তাদের চাওয়া মত ঘোষণা পেয়েছে। এখন সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষায় সকলেই। এরপর বুঝা যাবে আদতে এখান থেকে কে জিতল আর কে হারল।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম ব্যক্তিগতভাবে। তবে যাদের ওপর আস্থা নিজের সমর্থন প্রকাশ করেছিলাম তারা শেষাবধি আস্থার প্রতিদান দিতে পারেনি। একটা সময় শেষে প্রমাণ হল ওরা ততটা প্রাজ্ঞ ও যোগ্য নয় যতটা ভাবনায় ছিল। একটা পর্যায়ে এসে ভুল ও অতিবিপ্লবি পথে পরিচালিত হয়েছে সে আন্দোলন। ফলে পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেছে কোটা ব্যবস্থা। হাসিমুখে ফিরেছে আন্দোলনকারীদের অনেকেই। তবে এই হাসিমুখ অগভীর চিন্তায় ঠাঁসা। তাদের কেউ কেউ জিতেছে ঠিক, তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় আমাদের অনেকেই হেরে গেছে। এই হেরে যাওয়ার মধ্যে পুরো বাংলাদেশটা না পড়লেই হয়! দায়িত্ব এবার সরকারের। তারা দেশকে হারতে যেন না দেয়!
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)










