চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেন দর্শক পায়নি এবারের অস্কার, সমালোচকরা খুঁজলেন খুঁটিনাটি

এবারের মতো এত কম দর্শক অস্কার এর আগে কখনো পায়নি। মাত্র ৯.৮৫ মিলিয়ন দর্শক এবারের অস্কার দেখেছে। গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ২৩.৬ মিলিয়ন। 

এবার অস্কারের দর্শক কম থাকার অবশ্য অনেক কারণও আছে। ব্লকবাস্টার সিনেমা তেমন ছিল না। হলে সিনেমা মুক্তি না পাওয়ায় সিনেমার সাথে সম্পর্ক কম ছিল অনেক দর্শকের। কোভিড আক্রান্ত এলাকাগুলোর মানুষের অস্কারের অনুষ্ঠানটি দেখার মতো মানসিক অবস্থা ছিল না। সব মিলিয়ে এবারের অস্কার দর্শক পায়নি।

বিজ্ঞাপন

সমালোচকরা মনে করছেন এবারের অস্কার তার মান হারিয়েছে। অনেক সমালোচক বলছেন, অস্কারের অনুষ্ঠানটি ‘একঘেয়ে ও বিরক্তিকর’ মনে হয়েছে তাদের কাছে।

‘হলিউড রিপোর্টার’র স্কট ফেইনবার্গ বলেছেন, ‘অস্কারের অনেকগুলো সিদ্ধান্তই ভুল’। তার মাঝে লাইভ মিউজিক এবং উপস্থাপক না রাখার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। সেরা ছবির নাম আগে বলে ফেলে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর নাম শেষে বলার বিষয়টিও পছন্দ হয়নি তার।

এবছর অস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কারটি প্রয়াত চ্যাডউইক বোজম্যান পাবেন, এমনটাই ধরে রেখেছেন অনেকে। কিন্তু অ্যান্থনি হপকিন্সের নাম ঘোষণা করা হয় সেরা অভিনেতা হিসেবে। বিষয়টি অনেক সমালোচকই ভালো ভাবে গ্রহণ করতে পারেননি।

‘পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের মতোই স্যার অ্যান্থনিও অস্কারের অনুষ্ঠানটি দেখছিলেন না’- বলেছেন এন্টারটেইনমেন্ট উইকলির সমালোচক।

ইন্ডিওয়্যারের বেন ট্রাভেরস বলেছেন, ‘অস্কারের চূড়ান্ত ঘোষণা আরও একবার প্রমাণ করেছে যে সেরা অভিনেতার পুরস্কারটি কালেভদ্রে কৃষ্ণাঙ্গরা জেতেন’।

অস্কারের ইতিহাসে মাত্র চারজন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন। সর্বশেষ ২০০৬ সালে ফরেস্ট হুইটেকার জিতেছিলেন অস্কার।

নোম্যাডল্যান্ড নির্মাতা ক্লোয়ি ঝাও প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী যিনি সেরা নির্মাতার পুরস্কার জিতলেন। ড্যানিয়েল কালুইয়া প্রথম ব্রিটিশ কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা হিসেবে অস্কার জিতলেন।

সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী হিসেবে এবছর মনোনয়ন পেয়েছিলেন গ্লেন ক্লোজ। এবারও অস্কার উঠলো না তার হতে। এই নিয়ে ৮বার মনোনয়ন পেয়েও অস্কার জিততে পারলেন না অভিনেত্রী। তবে অস্কারের আসরে প্রশংসা করা হয়েছে এই অভিনেত্রীর। কিন্তু বিষয়টিকে মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না সমালোচকরা।

দ্য গার্ডিয়ান এর তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘গ্লেন ক্লোজের প্রশংসা করে ৭৪ বছর বয়সী অভিনেত্রীকে হাসির পাত্রে পরিণত করা হয়েছে।’

গত বছর হলিউড যাদের হারিয়েছে, তাদের স্মরণ করা হয়েছে অস্কারে। এই অংশটি নিয়েও সমালোচনা কচ্ছে। কারণ জেসিকা ওয়ালটার এবং নায়া রিভেরাকে স্মরণ করা হয়নি। স্মৃতিচারণের সময় ব্যবহার করা মিউজিক নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন অনেক টুইটার ব্যবহারকারী।

‘টিভি লাইন’র ডেভ নেমেটজ এবছরের অস্কারকে বোরিং, রসহীন এবং লম্বা বক্তৃতাময় অনুষ্ঠান বলেছেন।

তবে সবাই যে সমালোচনাই করেছেন তা নয়। ‘ডেডলাইন’র ডমিনিক প্যাটেন এবারের অস্কারের আসরকে ‘হলিউডের পুনরুজ্জীবন’ মনে করছেন।

‘টাইম’ ম্যাগাজিনও প্রশংসা করেছে এবারের অস্কারের। এবারের অনুষ্ঠান ‘মার্জিত’ মনে হয়েছে তাদের কাছে।

বিজ্ঞাপন