চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অভিনব কায়দায় ইয়াবার চালান

ট্রাক চালানোর পাশাপাশি ইয়াবা ব্যবসায়ী মো: আব্দুল আজিজ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সরবরাহ করতো বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সুন্দরবন কুরিয়ার ও কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইয়াবার চালান কৌশলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ডেলিভারি দিয়ে সে পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে যেত। চট্টগ্রামে বসবাসরত এই বার্মিজ নাগরিক দীর্ঘদিন যাবৎ মিয়ানমার হতে বিভিন্ন কসমেটিক্স, শাড়ী-কাপড় আমদানির আড়ালে ইয়াবা ট্যাবলেট আমদানি করছিলো।

রোববার র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, রাজধানীর পান্থপথ এলাকার একটি হোটেল থেকে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ আব্দুল আজিজসহ ৬ জনকে আটক করেছে এলিট ফোর্স র‌্যাব।আটককৃতরা হলেন- মোঃ সারোয়ার কামাল, এনামুল হক নয়ন, আবদুল আজিজ, আজিজের স্ত্রী নিলুফার ওরফে রীনা বেগম, দুই সন্তান মোঃ সুমন এবং মোঃ রতন (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার ৮৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ইয়াবা বিক্রির ২ লাখ ০৬ হাজার ৬০ টাকা জব্দ করা হয়।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, শনিবার রাতে র‌্যাবের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পান্থপথে অবস্থিত ‘হোটেল ওলিও ড্রীম হ্যাভেন (আবাসিক)’ এ অভিযান পরিচালনা করে। ওই হোটেলের ১০ তলার ১০৪ নং রুম থেকে ইয়াবা বিক্রি ও টাকা লেনদেনের সময় ওই হোটেলের ম্যানেজার এনামুল হক নয়নসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা ইয়াবা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

বিজ্ঞাপন

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা গেছে, হোটেল ওলিও ড্রীম হ্যাভেনের ম্যানেজার এনামুল হক নয়নের সহায়তায় সারোয়ার কামাল ইয়াবার একটি চালান আবদুল আজিজকে দেয়। এসময় আবদুল আজিজের স্ত্রী নীলুফার ও তার দুই ছেলে মোঃ সুমন ও মোঃ রতন সহ টাকা নিয়ে হোটেলে এসেছে বলে স্বীকার করে।

ইয়াবার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে আসামী সারোয়ার কামাল জানায়, চট্টগ্রামে বসবাসরত বার্মিজ নাগরিক দীর্ঘদিন যাবৎ মায়ানমার হতে বিভিন্ন কসমেটিক্স, শাড়ী-কাপড় আমদানির আড়ালে ইয়াবা ট্যাবলেট আমদানি করছিলো। বিভিন্ন কায়দায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সরবরাহ করে আসছে। তারই এজেন্ট হিসাবে সারোয়ার কামাল ইয়াবার একটি চালান কাপড়ের গাটের মধ্যে লুকিয়ে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের হাটহাজারী শাখা থেকে ঢাকার উত্তরা শাখায় একটি ভুয়া ঠিকানায় পাঠায়। এই চালানটি ডেলিভারী দেয়ার জন্য তিনি ঢাকায় আসেন।

‘এর আগেও চট্টগ্রাম থেকে কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ৬ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান গত ২৩ সেপ্টেম্বর গাজীপুর থেকে ডেলিভারী করে মোঃ আজিজের নিকট হস্তান্তর করার কথাও স্বীকার করেন আসামী সারোয়ার। ইতিপূর্বে সে সুন্দরবন কুরিয়ার ও কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান কৌশলে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ডেলিভারি দিয়ে পুনরায় চট্টগ্রামে ফিরে যেত।’

ইয়াবা ব্যবসায়ী মোঃ আবদুল আজিজ পেশায় একজন ট্রাকচালক। সে তার পেশাগত কাজের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা সরবরাহ ও বিকিকিনি করতো। এতে প্রচুর লাভ হওয়ায় সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের একই কাজে নিয়োজিত করে। ঢাকা, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের দ্বারা ইয়াবা ডেলিভারী দিত বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় র‌্যাব।