চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শিক্ষার্থীকে শোকজ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভাগ ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের ‌‘কটুক্তি’, কথোপকথনের স্ক্রিনশট শেয়ার, শিক্ষকদের সাথে আলোচনা না করে আন্দোলন ও উপাচার্যের শরণাপন্ন হওয়ার অভিযোগে ৪০ শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।

শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থীরা সবাই বিভাগের স্নাতক ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিভাগীয় প্রধান ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন সাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এ শোকজ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শোকজে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর তারিখ ও তৎপরবর্তী সময়ে বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অনলাইন প্লাটফর্ম, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে নানা ধরনের কটুক্তি ও বিব্রতকর মন্তব্য করে। শিক্ষকের সাথে একাডেমিক আভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ভাষ্য উন্মুক্তভাবে উপস্থাপন এবং স্ক্রিনশট শেয়ার করে বিরূপ মন্তব্য করে।

শোকজে আরও বলা হয়, বিভাগের আচলাবস্থা নিয়ে শিক্ষকরা তৎপর থাকা সত্ত্বেও বিভাগীয় একাডেমিক বিষয় নিয়ে ছাত্র-উপদেষ্টা ও বিভাগীয় প্রধানের সাথে আলোচনা ছাড়াই আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সরাসরি উপাচার্যের শরণাপন্ন হওয়া বিভাগীয় শৃঙ্খলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধির লঙ্ঘন। এমন কাজে বিভাগের শিক্ষকরা মর্মাহত। এই অনাকাঙ্খিত কর্মকাণ্ডের জন্য বিভাগীয় একাডেমিক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হলো। শোকজপত্র পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শোকজ পাওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট স্নাতকের আটকে থাকা পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে তারাও অংশগ্রহণ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সাথে বসে দ্রুত সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ী তাদের পরীক্ষাও শুরু হয়।

প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক শিক্ষার্থীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া বিভাগ হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পরিচিত। মূলত এ বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলা ও আন্দোলন করায় এমন শোকজ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও দাবি করেছেন।

ড. মুহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেন, বিভাগের শিক্ষা সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এবং করোনাকালীন অচলাবস্থায় সেশন জট নিয়ে ছাত্রদের মনে অসন্তোষ থাকতেই পারে। কিন্তু এটাকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষককে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করলে সে শিক্ষক ছোট হয়, বিভাগ ছোট হয়। পাশাপাশি ওই বিভাগের ছাত্ররাও কিন্তু ছোট হয়। বিভাগের এই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বিভাগের প্রধানের সাথে আলোচনা না করেই নানা সময় এই উদ্যোগ নিচ্ছেন যেটা বিভাগকে বিব্রত করছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধু্রী গণমাধ্যমকে বলেন, আমি এ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলব।

বিজ্ঞাপন