চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কী সিনেমা চলবে, জানে না সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ

প্রায় সাত মাস পর খুলছে দেশের সিনেমা হল, প্রস্তুতি কেমন?

১৬ অক্টোবর থেকে খুলে যাচ্ছে দেশের সব সিনেমা হল। তবে সিনেমা হল খুললেও ‘কী ছবি চলবে সেটা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি’ দেশের কোনো সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ। এদিকে এই পরিস্থিতিতে নতুন ছবি মুক্তি না দেয়ার সিদ্ধান্তে অটল নির্মাতারাও। 

রাজধানীর বলাকা, স্টার সিনেপ্লেক্স, মধুমিতা, আনন্দ ছন্দ, টঙ্গির চম্পাকলি সিনেমা হলগুলোর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করলে তারা সিনেমা হল নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান।

বিজ্ঞাপন

নিউ মার্কেট এলাকার বলাকা সিনেমা হলের ম্যানেজার এমডি শাহীন বলেন, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বলাকা অবস্থিত। এই হলের বেশিরভাগ দর্শকই শিক্ষার্থী। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় বলাকা চালু করলেও কোনো ইতিবাচক কিছু ফল হবে না। কারণ, দর্শকই তো আসবে না। ১৬ তারিখ সিনেমা হল খুললে পুরাতন ছবি চালানো ছাড়া কোনো উপায় দেখিনা।

কাকরাইলের কয়েকটি প্রোডাকশন হাউজের সঙ্গে যোগ করা হলেও কোনো প্রযোজকই এ অবস্থায় নতুন ছবি মুক্তি দিতে রাজি হননি বলে জানালেন বলাকা সিনেমা হলের এই কর্মকর্তা। বলেন, স্টাফদের ছুটিতে রাখা হয়েছে। হল খুললে তারা ডিউটিতে এলে বেতন দিতে হবে। ব্যবসা না হলে বেতন দেয়া সম্ভব নয়। সরকার যে সাহায্যের ঘোষণা দিয়েছেন সেটি বাস্তবায়ন আগে করা প্রয়োজন।

নগরীর আধুনিক সিনে থিয়েটার স্টার সিনেপ্লেক্সের বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ১৬ তারিখ যদি সিনেমা হল খোলে তাহলে পুরাতন ছবি দিয়েই চলতে হবে। ‘মুলান’ নামে একটি নতুন সিনেমা চালাতে পারি। যদিও এটি ওটিটি-তে মুক্তি পেয়েছে। তবে বিশ্বের সিনেমা হলে পায়নি। এছাড়া দেশের নতুন ছবি যদি মুক্তি পায় তবে অবশ্যই আমরা প্রদর্শন করবো।

তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম মেনেই আমরা ছবি প্রদর্শন করতে পারবো। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছি।

হল মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও মধুমিতা হলের কর্ণধার ইফতেখার নওশাদ বলেন, নতুন ছবি যদি মুক্তি না দেয়া হয় তাহলে হল খুলে লাভ কী? তাই নতুন ছবি না এলে মধুমিতা খুলবো না। আর এখন নতুন ছবি মুক্তি দেবেন না কোনো প্রযোজক! বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? যদি কেউ এগিয়ে না আসে তাহলে এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য ভিনদেশী (আমদানি) ছবি আনতে হবে।

ইফতেখার নওশাদের সঙ্গে একমত হয়ে প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, দেশে খাদ্য ঘাটতি হলে বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। তখন ওতো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না। এখন আমাদের সিনেমা ঘাটতি। এ অবস্থায় বাইরে থেকে কিছু সিনেমা আমদানি করে সিনেমা হলগুলো টিকিয়ে রাখতে পারি। এ ব্যাপারে সরকারি পদক্ষেপ দরকার।

টঙ্গির চম্পাকলি সিনেমার দায়িত্বে আছেন তিমির হোসেন। তিনি বলেন, হিরো আলমের ছবি আসবে শুনছি। অন্য ছবি না থাকলে এটাই চালাতে হবে। এ ছাড়া তো উপায় দেখি না। পুরান কোনো ছবি চালিয়ে ফায়দা আসবে না। কারণ, যাই চলবে সব ইউটিউবে পাওয়া যায়। তবে আমরা চাইছি সিনেমা হল খুলে দিতে। প্রযোজকরা যেন তাদের নতুন ছবি দেন এটাই চাই।

রাজধানীর আনন্দ ছন্দ সিনেমা হলের ম্যানেজার শামসুদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, কোন ছবি দিয়ে সিনেমা হল খুলবো এখনো ঠিক হয়নি। তবে আমরা নিয়ম মেনে হল খুলতে পারবো। পুরাতন ছবি দিয়ে হলেও হল খুলতে চাই। মানুষ অনেকদিন বিনোদন থেকে দূরে রয়েছে। ভালো ছবি দিতে পারলে অবশ্যই তারা সিনেমা হলে আসবে। আর আমাদের দেশের সিনেমা হলের যে শোচনীয় অবস্থা সরকারি হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না হলে কয়েক বছরের মধ্যে জাদুঘরে ঠাঁই পাবে।

এদিকে, ১৬ অক্টোবর নতুন সিনেমা মুক্তির জন্য প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতিতে মাত্র একটি ছবির নাম লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সমিতির অফিস সহকারি সোমেন্দ্র চন্দ বলেন, ‘সাহসী হিরো আলম’ ১৬ অক্টোবর মুক্তির জন্য ডেট নিয়েছে। এছাড়া কোনো ছবি মুক্তির জন্য আসেনি, এমনকি যোগাযোগও করেনি কেউ।