চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কার্যকর সমাধান কোন পথে?

রাজধানীসহ সারাদেশে যখন কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, তখন বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এভাবে কিছুদিন চলে আলোচনা, নেয়া হয় নানা স্বল্পকালীন পরিকল্পনা পদক্ষেপ। কিছুদিন ঘুরতে না ঘুরতেই আবার যে ব্যবস্থা তা-ই বহাল থাকে।

গতবছর ঢাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী মর্মান্তিকভাবে বাসচাপায় নিহত হওয়ার পরে সারাদেশ জুড়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সেসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নানা দাবি পেশ করেছিল সরকারের কাছে। নানা আশ্বাস আর সাময়িক ব্যবস্থার মুখে ওইসব শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে ঘরে ফিরে যায়। আন্দোলন থেকে যাওয়ার আগে তারা রাজধানীসহ সারাদেশের মানুষের সামনে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নানা উদাহরণ রেখে যায়। সরকারসহ সুধীমহল সেসময় বলেছিল, শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে, এবার আমাদের কাজ করার পালা। সাময়িকভাবে সেসময় দায়ী বাস ‘জাবালে নুর পরিবহন’ এর রুট পারমিট বাতিল করেছিল, যদিও সে বাস কিছুদিন পরে আবার রাজধানীতে চলাচল শুরু করে। এসব প্রেক্ষাপটে সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ কী কী কাজ করেছিল, তা আসলে প্রশ্নবিদ্ধ ও গবেষণা সাপেক্ষ বিষয়।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনের সময়ে পরিবহন শ্রমিকদের নানা বিষয় সামনে চলে আসে। তাদের কর্মঘণ্টা, মজুরি বৈষম্য, চলাচলরত বাসগুলোর ট্রিপ সিস্টেমসহ নানা বিষয়। অনেক গণপরিবহন বিশেষজ্ঞদের সেসময় মতামত ও সুপারিশ করতে দেখা যায় মতামত কলাম লিখে, গোলটেবিল বৈঠকে এবং নানা কমিটির প্রতিবেদনে। সবমিলিয়ে বিষয়গুলো কিছুদিন আলোচনায় থাকার পরে আবার হারিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

হারিয়ে যাওয়া সেই বিষয়গুলো আবার সামনে চলে এসেছে রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরারের মৃত্যুর পরে। আবার উত্তাল হয়েছে রাজধানীসহ সারাদেশ। একই আলোচনা আর সুপারিশ ফিরে এসেছে পরিস্থিতি সামাল দিতে। এগুলোর সবই সাময়িক ও স্বল্পকালীন পদক্ষেপ বলে আমাদের মনে হয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে নানা ধরণের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে তাদের দক্ষ ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানব সম্পদে রূপান্তর করা সময়ের দাবি। শুধুমাত্র পরিবহনের রুটপারমিট বাতিল আর দুর্ঘটনার পরে দায়ি শ্রমিককে সাজা দেয়া সমাধান না। রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও জনচলাচল পথগুলো নিয়ে নানা গবেষণা হওয়া দরকার, দরকার গবেষণালব্ধ তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশের ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া। তা না হলে, আবার কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি হবে, হবে আন্দোলন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না।

আমাদের আশাবাদ, উপরোক্ত বিষয়গুলো বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। ঢাকার সড়কগুলো যেনো মানুষের জন্য নিরাপদ হয়।