চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কানাডায় প্রবাসীদের ব্যতিক্রমধর্মী ঈদ

কানাডার বিভিন্ন স্থানে উদযাপিত হয়েছে ঈদুল ফিতর। ভিন্ন মাত্রার এবারের ঈদ ছিল একেবারেই আলাদা। ঈদ উপলক্ষে প্রবাসী বাঙালিরা মুঠোফোন আর ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে একে অপরের সঙ্গে, ভাগাভাগি করে নেয় ঈদের আনন্দ। কানাডায় এবার ঈদ রবিবার হওয়ায় ছিল বাড়তি আমেজ। ঈদের দিন এখানে কারো কারো থাকে কর্ম দিবস।

এ বছর ব্যতিক্রম ছিল ঈদের নামাজ পড়তে না যাওয়া। তবুও প্রবাসী বাঙালিরা খুব ভোরে নতুন পোশাক পরে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদের নামাজ পড়েন বাড়িতে। অনেকেই ভার্চুয়াল ঈদের নামাজে যোগ দেন ঘরে বসেই। প্রবাসী বাঙ্গালীদের এবার নামাজ শেষে ব্যতিক্রম ছিল পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেই ঘুরতে বের হননি বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনের বাসায়। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সবাই ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মেতে ওঠেন নানা গল্প-আড্ডায়। তাদের আড্ডায় এবার উঠে আসে বৈশ্বিক আলোচিত বিষয় করোনা। আর বিগত বছরগুলোর ঈদ আনন্দের স্মৃতি। সঙ্গে দেশে ঘটে যাওয়া নানামাত্রিক ঘটনাবলীসহ কত কী! ক্যালগেরির মতই অটোয়া, টরেন্টো, মনট্রিলসহ কানাডাজুড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঈদ উদযাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বিজ্ঞাপন

ঈদের দিনের ভার্চুয়াল এই আড্ডার পাশাপাশি চলে খাওয়া-দাওয়া। বিরিয়ানি, পোলাও, কোর্মা, মাংসের চপ, রোস্ট, জর্দা আর গৃহবধূদের নিজ হাতের তৈরি দইসহ নানামাত্রিক রান্না করা খাবার, সঙ্গে ছিল মধু মাসের মধু ফল আমও। প্রবাসী বাঙালিরা প্রবাস থেকে দেশের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গেও চলে টেলিফোনে আলাপচারিতা। এই আলাপে কারো কারো নয়ন ভেসে আসে জলে, দেশে একসঙ্গে ঈদ না করতে পারার আক্ষেপ।

ঈদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ক্যালগেরির মাহমুদ হাসান দীপু বলেন, ‘খুব মিস করি শৈশবের সেই আনন্দের ঈদকে। সেই সময় আর কখোনই ফিরে পাবার নয়। ব্যস্ততাময় এই প্রবাস জীবনে পরিবার আর বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে যদিও ঈদ করি, কিন্তু সেই সময়ের ঈদ এখন কেবলই স্মৃতি।

বিজ্ঞাপন

ক্যালগেরির ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান ডা. জাকি সিকদার জানান,ঈদ আবার আসবে কিন্তু শারীরিক সুস্থতাতাই এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে বসেই ঈদ পালন করছি, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজন না হলে সবাই কে ঘরে থাকার ও পরামর্শ দেন তিনি।

এবিএম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট ড. মো. বাতেন বলেন, ‘বাংলাদেশের মত আনন্দ করে এখানে ঈদ হয় না। আর তাছাড়া এবারের ঈদ অনেক কষ্টের। বিশ্ববাসী আজ এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে দিন অতিক্রম করছে । এমন ঈদ তো কখনোই কাম্য নয়। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা’।

বেঙ্গল ফার্মেসি ও কমিউনিটি  আর এক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও স্বত্তাধিকারী ড. ইব্রাহিম খান বলেন, ‘ ঈদের দিন সময় বের করে বাংলাদেশের আত্মীয় স্বজন বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। এ বছর পরিবার পরিজন নিয়ে ঘরে বসেই ঈদ পালন করছি।

একদিকে বাংলাদেশের ফেলে আসা আপনজন আর অন্যদিকে বৈশ্বিক মহামারীরর করোনা ঘাতক সব মিলিয়ে এ বছর প্রবাসীদের এ যেন এক অন্যরকম ঈদ। স্বজনরা ভালো থাকবে আর আর প্রকৃতির নিয়মে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশীদের।