চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কলম্বিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি আর্জেন্টিনা

কোপা আমেরিকার ফাইনালে দেখা মিলছে লাতিন ক্ল্যাসিকোর। কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির দলকে শিরোপার মঞ্চে নিয়েছেন পেনাল্টি শুট আউটে তিনটি গোল ঠেকিয়ে নায়ক বনে যাওয়া গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

বুধবার সকালে শুরু কোপার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্জা স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ থাকে আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়ার। কোপার ফাইনালের আগে অতিরিক্ত সময়ের খেলা রাখেনি কনমেবল। নির্ধারিত সময়ের পর সরাসরি টাইব্রেকার, তাতে ৩-২ ব্যবধানে জয় তোলে আলবিসেলেস্তেরা।

রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে শিরোপার মঞ্চে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেলেসাওরা প্রথম সেমিতে ১-০ গোলে হারিয়ে এসেছে পেরুকে।

ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই লিড নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। মেসির বানিয়ে দেয়া বলে জাল খুঁজে নেন লৌতারো মার্টিনেজ। ৬১ মিনিটে সেই গোল শোধ দেয় কলম্বিয়া। এডউইন কার্ডোনার বাড়ানো বলে গোল আনেন লুইস ফ্যাবরা।

নির্ধারিত সময়ে দুদলই লক্ষ্যে শট রাখতে পেরেছে চারটি করে। দুদলের লক্ষ্যে রাখতে না পারা শটও সমান ৫টি করে। দুদলের ব্লক শটসও সমান, ৩টি করে। বল পজিশন আর্জেন্টিনা ৪৯-এর চেয়ে একটু বেশি কলম্বিয়া, ৫১ ভাগ।

আর্জেন্টিনার ২০টি ফাউল ধরেছেন রেফারি, কলম্বিয়ার ধরেছেন ২৭টি ফাউল। আর্জেন্টিনার চার হলুদ কার্ডের বিপরীতে কলম্বিয়ার হলুদ ৬টি। বলার অপেক্ষা রাখে না মাঠের ফুটবলে শারীরিক কসরতও হয়েছে সমানতালে।

কলম্বিয়ানদের বাজে এক ট্যাকলে মেসির অ্যাঙ্কেল থেকে তো রক্তই ঝরল ম্যাচের অর্ধেক সময়। ব্যান্ডেজ বেঁধে খেলা চালিয়ে গেছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

বিজ্ঞাপন

অবশ্য চতুর্থ মিনিটেই লিড নিতে পারত আর্জেন্টিনা। মেসির নিখুঁত পাসে গঞ্জালেজের হেড লক্ষ্যে থাকেনি অল্পের জন্য। অষ্টম মিনিটে কলম্বিয়ার আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টা আটকে যায় এমিলিয়ানো দেয়ালে।

ম্যাচের ৩৯ মিনিটের শুরু ও শেষে দুবার আর্জেন্টিনার বারে-পোস্টে বল লাগায় কলম্বিয়া, বেঁচে যান মেসিরা। বিরতির আগে আগে মেসির কর্নার থেকে আসা বলে গঞ্জালেজের হেড গোলরক্ষক অসপিনা গ্লাভসে রাখতে না পারলেও বল বিপদ না বাড়িয়ে চলে যায় জালের বাইরে।

খেলার ৭৪ মিনিটে গোলরক্ষকহীন ফাঁকা পোস্টে জালে বল পাঠাতে পারেননি মার্টিনেজ। গোললাইন থেকে তার নেয়া শট ফেরত পাঠান কলম্বিয়ার একজন। ৮২ মিনিটে ডি মারিয়ার ক্রসে মেসির ফিনিশিং আটকে যায় প্রতিপক্ষ পোস্টে।

এরপর আসে পেনাল্টি শুট আউট। কলম্বিয়ার প্রথম শটে গোল করেন হুয়ান কুয়াদ্রাদো। আর্জেন্টিনা প্রথম শটে গোল করে স্বস্তি আনেন লিওনেল মেসি।

সেখান থেকে খেলার মোড় ঘুরতে থাকে। ডেভিনসন সানচেজের নেয়া কলম্বিয়ার দ্বিতীয় শট আটকে দেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পরের শটেই আবার হতাশা, আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় শট আকাশমুখে মারেন রদ্রিগো ডে পল।

ইয়ারি মিনার নেয়া কলম্বিয়ার তৃতীয় শট আটকে দিয়ে ফের রোমাঞ্চ জাগান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। আর্জেন্টিনার তৃতীয় শটে লিয়ান্দ্রো পারেদেস জাল খুঁজে নিলে লিড পায় আলবিসেলেস্তেরা।

কলম্বিয়ার চতুর্থ শটে গোল করেন মিগুয়েল বোর্জা। আর্জেন্টিনা চতুর্থ শটটি নেন লৌতারো মার্টিনেজ, কোনো ভুল করেননি জালে জড়াতে।

এডউইন কার্ডোনার নেয়া কলম্বিয়ার পঞ্চম শটে ফের দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তাতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। আর্জেন্টিনাকে আর শেষ শটটি নিতেই হয়নি।

বিজ্ঞাপন