চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কর ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো দরকার

কর ফাঁকির কারণে দেশের ক্ষতি ১ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই ধনী ব্যক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কর ফাঁকি দেয়। যেসব দেশে করহার বেশি, কোম্পানি ও ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা সেই সব দেশে কর না দিয়ে এমন জায়গায় মুনাফার অর্থ পাঠিয়ে দেন, যেখানে করহার কম। বৈশ্বিক কর ন্যায্যতাবাদীরা এ নিয়ে প্রতিবছরই প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন। সম্প্রতি ২০২১ সালের কর ফাঁকির প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ট্যাক্স জাস্টিস ও পাবলিক সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল।

এই প্রতিবেদনে জানা গেছে: কর ফাঁকির কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশের ক্ষতি হয় প্রায় ১৪ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার বা ১ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা। তবে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির নিরিখে এই অঙ্ক বেশি নয়—শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। এই অর্থ দিয়ে দেশের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষকে দুই ডোজ টিকা দেওয়া সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে: কর ফাঁকিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এরা ট্রান্সফার প্রাইসিংসহ বিভিন্ন কায়দায় বিপুল অংকের কর ফাঁকি দিয়ে থাকে। তাতে বাংলাদেশের মোট কর ফাঁকির ৮২ শতাংশের জন্য দায়ী হচ্ছে এই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। বাকি ১৮ শতাংশ ফাঁকি দিচ্ছেন ধনী ব্যক্তিরা, যাঁরা নানা অফশোর কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে থাকেন। গত বছরও এই প্রতিবেদন দেয়া হয়েছিল। সেবার জানানো হয়, কর ফাঁকির কারণে ২০২০ সালে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়েছে ৭০ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

সেই হিসাবে এবারের ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম—১৪ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার। বিশ্লেষকেরা বলেন: কর ফাঁকির কারণে বিভিন্ন দেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা এড়ানো গেলে সাধারণ মানুষের উপকার হত। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি খুবই গুরুতর। কারণ তারা এমনিতেই অর্থসংকটে ভোগে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাতে তারা প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে পারে না। অথচ ধনী মানুষ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর অবলীলায় কর ফাঁকি দিয়ে যাচ্ছে।

আমরা মনে করি, বিত্তবানদের কর ফাকিঁ কমিয়ে আনতে সরকারে উচিৎ নতুন করে কর ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো। দেশে দেশে মহামারির কারণে অর্জিত অতিরিক্ত মুনাফার ওপর কর বসানো উচিত। সরকারের উচিত সম্পদ করারোপ করা। আয়কর ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো যেখানে ধনীরা ক্রমবর্ধমান হারে কর দেবেন। জাতীয় কর ব্যবস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক তৎপরতার সংযোগ ঘটানো। এতে কর ফাকিঁ দেয়ার প্রবণতা কিছুটা হলেও কমবে এবং দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি কমবে। অবশ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিনিয়ত এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

বিজ্ঞাপন