চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনা ভ্যাকসিন: মানব জাতির আশার আলো

বিশ্বব্যাপী এক ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে এসেছে গত বছরের ডিসেম্বরে। চীনের উহান প্রদেশ থেকে একটি মারণঘাতি জীবাণু বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে গোটা দুনিয়ায় নেমে আসে এক ভয়াবহ নিস্তব্ধতা। দেশে দেশে জারি হয় লকডাউন। মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়। গোটা বিশ্বের মানুষই কার্যত ঘরবন্দি জীবন কাটায় দীর্ঘ দশ মাস। এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। করোনা ভাইরাসের আক্রমণে এরই মধ্যে সারা বিশ্বে প্রাণ হারিয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। আর ৬ কোটি ৩০ লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। করোনা মহামারিতে সবচেয়ে ভুক্তভোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। চ্যানেল আই অনলাইনের সংবাদে জানা যায়: গতকাল পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১ জন। এদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও ১৪ জন নারী। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ৬৭৫ জনে। সবমিলিয়ে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ২২৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮২ দশমিক ০২ শতাংশ। ডিসেম্বর মাসের শুরুতেই বিশ্বে করোনায় মৃত্যু আবার বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১২ হাজার মানুষের (১১ হাজার ৮৮৭জন)। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি মানুষ। নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ।

সারা পৃথিবীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেমে যায়। থেমে যায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন প্রবাহ। বিজ্ঞানীরা নেমে পড়েন এর প্রতিষেধক আবিষ্কারে। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের নামীদামী গবেষণা সংস্থা নিরলস কাজ করতে থাকে এই জীবাণু নিয়ে। ফাইজার মর্ডানা অ্যাস্ট্রাজেনেকাসহ বিশ্বের নামিদামী ওষুধ প্রতিষ্ঠান করোনা ভ্যাকসিন আবিস্কারের জন্য রাতদিন গবেষণা করে এখন প্রায় সব কোম্পানি ভ্যাকসিন চূড়ান্ত করেছে। ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি মডার্না ডিসেম্বরের মধ্যেই করোনাভাইরাসের দুই কোটি ডোজ ভ্যাকসিন তৈরি করবে। সোমবার কোম্পানির পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। করোনার এই ভ্যাকসিন এক মাস অন্তর দুবার দিতে হবে। এক কোটি মানুষের জন্য পর্যাপ্ত হবে প্রথম কিস্তিতে উৎপাদনের দুই কোটি ডোজ টিকা। মডার্নার দাবি, করোনার বিরুদ্ধে এই ভ্যাকসিন ৯৪.১ শতাংশ কার্যকর।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অক্সফোর্ডে গবেষকরা দেখালো মানবজাতিকে নতুন আশার আলো। আর ফাইজার কোম্পানি আগামী সপ্তাহে বাজারে ছাড়তে যাচ্ছে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন। আজ বিবিসির বরাতে জানা গেছে: ব্রিটেন সরকার ফাইজারকে ভ্যাকসিন বাজারজাত করার অনুমোদন দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ব্রিটেনের মানুষ নিতে পারবে ফাইজারের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন।

এই সংবাদে সারা পৃথিবীর মানুষ স্বস্থির নিঃশ্বাস ছাড়লো। এই মহামারির কবল থেকে বাঁচার নতুন আশার আলো দেখালো বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের জয়যাত্রাই পারে মানব সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে। আরও একবার তা প্রমাণিত হলো।