চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘করোনা ভ্যাকসিনের বুস্টার শট নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনই নয়’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী

বেশ কিছু দেশের সরকার ও ফার্মাসিউটিক্যালের কর্মকর্তারা করোনার সবচেয়ে বেশি সংক্রামক ভ্যারিয়েন্টের জন্য বুস্টার শটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সেটার দরকার হবে কিনা- তা এত তাড়াতাড়ি বলা যাবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথান বলেন, ‘আমাদের কাছে তেমন কোনো তথ্য নেই, যেটা থেকে আমরা পরামর্শ দিতে পারবো বুস্টার শট দরকার হবে কিনা।  বিজ্ঞান এখনও বিকশিত হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

‘‘এখনই এই ধরনের আহ্বানকে প্রিম্যাচিউর বা অকালপক্ক বলা যায়। কারণ বিশ্বে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা অনেকেই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজই সম্পন্ন করতে পারেনি।’’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ থেকে পাওয়া তথ্য থেকে মনে হচ্ছে এই বছরের শেষে আরও অনেক সতর্কতা প্রদান করতে হবে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষদের জন্য যাদের সার্স কভ-২ প্রতিরোধব্যবস্থা দ্রুত হ্রাস পেতে পারে।  সেই সব নির্দেশনাগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রদান করবে।’

কোভিডের বুস্টার শট যুক্তরাজ্যে বিতরণ করা হবে যেন শীতকালে আরেকটি ঢেউ এড়ানো যায়।  ইংল্যান্ডে বিশ্বের প্রথম বুস্টার গবেষণায় সাতটি ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাকসিন ভলান্টিয়ারদের মধ্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে গত মাসে জানিয়েছিলো হেলথ সেক্রেটারি ম্যাট হ্যানকক।

যুক্তরাজ্যে অন্য যেকোনো বড় অর্থনীতির দেশের তুলনায় বেশি পরিমাণ ভ্যাকসিন বিতরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি সেখানে সবচেয়ে বেশি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ায় করোনার বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেয়া হয়। ভারতে প্রথম দেখা দেয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।

সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া বিটা ভ্যারিয়েন্টের মতো বেশি সংক্রামক করোনার ভ্যারিয়েন্টের জন্য উচ্চ অ্যান্টিবডি লেভেল দরকার। তাই ফাইজার ইনক ও মডার্না ইনক পরীক্ষা করে দেখেছে তাদের বিদ্যমান শটগুলো মিশ্রণ করলে বাড়তি প্রতিরোধক্ষমতা মেলে কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথের ডিরেক্টর ফ্রান্সিস কলিন্স বলেন, কেউ বলছে না বুস্টার শট আজই দরকার। কিন্তু হয়তো ভবিষ্যতে বুস্টার আমাদের লাগবে, আবার দ্রুত লাগতে পারে যদি নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট সামনে আসে যেগুলো বিদ্যমান ভ্যাকসিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

চিলড্রেনস হাসপাতাল অব ফিলাডেলফিয়ার ভ্যাকসিন এডুকেশন সেন্টারের ডিরেক্টর পল অফিট বলেন, ন্যূনতম হলেও ভ্যাকসিন আমাদের হাসপাতালে ভর্তি, আইসিইউতে যাওয়া বা মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য দরকার। সেই হিসেবে হয়তো প্রতি ৩ থেকে ৫ বছর পরপর আমাদের ভ্যাকসিন নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন