চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নতুন ধরণের করোনা ঠেকাতে নাজেহাল কানাডা

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান চিফ পাবলিক হেলথ অফিসারের

কানাডায় ক্রমবর্ধমান হারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অদৃশ্য এই আতংকের সাথে যোগ হয়েছে নতুন ভ্যারিয়েন্ট যা ঠেকাতে সেদেশের সরকারকে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কানাডার অন্টারিও তে ‘স্টে হোম অর্ডার’ রীতি মেনে চলতে হচ্ছে এবং কানাডার মন্ট্রিয়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি সিটিতে লকডাউন চলছে।

কানাডার প্রধান চারটি প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, অন্টারিও, মন্ট্রিয়ল এবং আলবার্টায় নতুন করে ভ্যারিয়েন্টটি আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতবছর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্ত বন্ধ রয়েছে, তবে জরুরি কিছু সার্ভিস চালু রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কানাডার চিফ পাবলিক হেলথ অফিসার ডক্টর থেরেসা ট্যাম কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কানাডা বর্তমানে কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ওয়েভ এর চূড়ান্ত অবস্থার দিকে এগুচ্ছে, যদিও কোভিড-১৯ এর বর্তমান এই বেড়ে যাওয়াকে অনেক প্রভিন্সের মেডিক্যাল অফিসাররা তৃতীয় ওয়েভ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

ডক্টর ট্যাম বলেন, মহামারীর এই বর্তমান বেড়ে যাওয়ার ভয়ংকর দিকটি হচ্ছে, আরো ছোঁয়াচে ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি। তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রভিন্স ও ফেডারেল থেকে নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই।

ডক্টর ট্যাম উল্লেখ করেন, গত সাত দিনে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে শতকরা ২৭ ভাগ। তিনি আশংকা করছেন, জনগণ যদি সচেতন না হয়, তবে এ মাসের শেষে এ সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, যা মোকাবেলা করা কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরো বলেন, ৪০ থেকে ৫৯ বছরের মানুষের আক্রান্তের সংখ্যা এবং হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে। এছাড়াও গত তিন মাসে ইন্টেনসিভ কেয়ারে ১৮ থেকে ৩৯ বছরের আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। গত জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল শতকরা ৭ ভাগ এবং মার্চে এ সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১৫ ভাগে।

প্রদেশগুলোতে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে এবং স্বাস্থ্য সুবিধার স্বল্পতার কারণে হাসপাতালগুলোতে কিছুটা কম গুরুত্বপূর্ণ সব অপারেশন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এই সংকটকালীন মহামারীর সময়কে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করার জন্য ডক্টর থেরেসা ট্যাম দেশবাসীর কাছে আহবান জানান।

কানাডায় গতবছর মার্চ মাসে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয় ব্রিটিশ কলম্বিয়াতে। তারপর থেকে এ পর্যন্ত ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

কানাডা সরকার দেশটির নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া সকল নাগরিকরা যেন দ্রুত ভ্যাকসিনেশনের আওতায় আসে সেদিকেও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ৮৭ হাজার ১৫২ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩ হাজার ৪৪৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৯ লাখ ৮৩ হাজার ৫০৬ জন।