চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: ১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা চান প্রবাসীরা

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত করোনাভাইরাসের কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় পাঁচটি প্যাকেজে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণায় প্রবাসীদের সহযোগিতা বিষয়ে কোন কথা উল্লেখ না থাকায় আশাহত হয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি।

এমনটাই জানিয়েছেন প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে। সেই পরিবারগুলো কিভাবে চলবে, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাকরি হারানো বাংলাদেশিদের সহযোগিতার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় এমনটি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ দাবি জানিয়েছেন, অনতিবিলম্বে প্রবাসীদের সহযোগিতায় ১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা, প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রবাসীদের তালিকা তৈরি করে এসব পরিবারের হাতে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছে দিতে ও বাস্তবায়ন চান বাংলাদেশ সরকারের বাস্তবসম্মত এবং দ্রুত পদক্ষেপ।

বিজ্ঞাপন

এই সময় যদি প্রবাসীদের সহযোগিতা করা না হয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর রেমিটেন্সের বৈদেশিক মুদ্রা দিয়ে রপ্তানি আয়ের ঘাটতি মেটানোর যে স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী তা বুমেরাং হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

জেদ্দা শ্রমিক লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির প্রায় ২৫ বছর যাবত কাজ করছেন মরুময় এই দেশটিতে। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংগঠনের পক্ষ বিভিন্ন সহযোগিতা করে আসলেও দেশে ফেলে আসা প্রবাসীর পরিবারগুলো কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীরা দেশের জন্য রাত দিন পরিশ্রম করলেও মহামারীর এসময়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের পাশে দাঁড়াবেন এবং প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে এক হাজার কোটি টাকা প্রবাসীদের সহযোগিতায় বরাদ্দ দেবেন বলে আশা করেন।

বিশ্বময় মহামারী আকার ধারণ করা কারোনা ভাইরাসে প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। প্রতিটি দেশই হু হু করে বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা।

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে এইসব দেশে এ পর্যন্ত ৬০ জনের অধিক প্রবাসী বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্তের সংখ্যা নিরূপণ করা না গেলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে এর সংখ্যা হবে কয়েক হাজার। করোনাভাইরাসের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিম্নআয়ের প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রবাসী কাজ করে থাকেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। নানা সমস্যায় জর্জরিত এসব প্রবাসীরা দিনরাত পরিশ্রম করে অর্জিত আয়ের শতভাগই রেমিটেন্স এর মাধ্যমে প্রেরণ করে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল করে আসলেও ভাইরাসের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে প্রায় সবকিছু বন্ধ।