চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: শনাক্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২ হাজার ৮৬৫ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় মোট শনাক্তের হিসাবে চীনকে ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ।

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত চীনে মোট করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ২২৮ জন। আর বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ৩৭৯ জন।

বিজ্ঞাপন

জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৯তম। আর কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যার হিসেবে বিশ্বে ৩১তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ১৩৯ জনে।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন: নতুন করে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ জন এবং নারী ১১ জন। এদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব ছয়জন, চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১১ জন, ষাটোর্ধ্ব ১১ জন, সত্তরোর্ধ্ব সাতজন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী তিনজন রয়েছেন।

মৃতদের বিভাগ বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন: ১৯ জন ঢাকা বিভাগের, ১৩ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, চারজন রাজশাহী বিভাগের, চারজন বরিশাল বিভাগের, দুজন সিলেট বিভাগের, একজন খুলনা বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের।

এদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৭ জন এবং ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বাসায়। আর তিনজনকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবারের বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার শতাংশ ১৭ দশমিক ১৭। এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থতার হার ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৭৭ লাখ ৫১ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৪ লাখ ২৮ হাজারের বেশি মানুষ। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৩৯ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে বিভিন্ন মেয়াদে ছুটি বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশের ইতিহাসের দীর্ঘ এ ছুটির পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খোলা হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে গণপরিবহনও।