চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: মধ্যপ্রাচ্যের লকডাউনে বেকার অসংখ্য বাংলাদেশি

করোনাভাইরাসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে প্রায় গোটা পৃথিবী। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। এই অবস্থায় বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ প্রবাসী। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে অবৈধভাবে অবস্থান করা বাংলাদেশিরা।

দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। রেমিট্যান্সের সাথে যুক্ত সেন্টার গুলো অনলাইনে রেমিট্যান্স দেশে পাঠানো অব্যাহত রাখলেও অভিজ্ঞতার অভাবে তার সুফল ভোগ করতে পারছে না বেশিরভাগ প্রবাসী।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ করে রেমিট্যান্স আহরণে দেশগুলোর অচল অবস্থার কারণে বিগত ২০-২৫ দিন থেকে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের প্রবাসীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। সাধারণ শ্রমিকদের অবস্থা আরো খারাপ স্বল্পআয়ের এসব প্রবাসীরা পড়েছেন বিপাকে, প্রতি মাসে বেতন পেয়ে দেশে পরিবার পরিজনদের জন্য টাকা পাঠানোর তাগাদা থাকলেও এখন তা একদম বন্ধ হতে চলেছে। একদিকে পরিবার অন্যদিকে কাজ হারানো অনেক প্রবাসী আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে গত কয়েক দিনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন কয়েকজন প্রবাসী।

এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলো প্রবাসীদের জন্য কঠিন হওয়ার পাশাপাশি অব্যাহত থাকবে রেমিট্যান্সের নেতিবাচক প্রভাব এমনটি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে মার্চ থেকে অনেক দেশেই অবরুদ্ধ সব মানুষ এখন ঘরে বন্দি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকানপাট খুলছে না। কাজ না থাকার কারণে আয়ের পথ বন্ধ। এই অবস্থা আর কিছুদিন চলতে থাকলে নিজের খরচ মেটানো দায় হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন এসব প্রবাসীরা।

কথা বলছিলাম শরীয়তপুর প্রবাসী ইকবাল হোসেন এর সাথে জীবনের প্রায় অনেকটা সময় কাটিয়ে দিয়েছেন সৌদি আরবে পবিত্র মক্কায়। দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টায় সঞ্চিত সঞ্চয় এবং কফিলের সাথে যৌথভাবে সম্প্রতি একটি লন্ড্রি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিজ্ঞাপন

চীনের উহান প্রদেশে করোনাভাইরাস আক্রমণ করার পর থেকে সৌদি আরবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ওমরাহ তীর্থযাত্রী অনেকটা কমে যাওয়ার পর থেকেই কাজ কম, মার্চে ওমরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন একদম বেকার প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৩০ জন শ্রমিক। গত চার সপ্তাহ ধরে বেকার অবস্থায় আছেন।

বর্তমানে মক্কায় কারফিউ ২৪ ঘণ্টার কারফিউ বলবৎ থাকায় ঘর হতে বের হতে পারছেন না। আগের পাওনা কিছু অর্থ মালিক দিয়েছিল যা দিয়ে কোন রকমে ২০ দিন চলেছেন। তিনি বলেছেন দেশে টাকা পাঠানোর দরকার মা- বউ-বাচ্চা দেশে আছে কিন্তু কাজ বন্ধ নিজের থাকা-খাওয়ার খরচ নাই দেশে টাকা পাঠাবো কিভাবে একই অবস্থা অন্যান্য শ্রমিকদেরও।

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আহরণে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েত, ইতিমধ্যে কারোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঘোষণা করেছে সাধারণ ক্ষমা। আগামী ১৬ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে যেসব শ্রমিকদের কোম্পানির সাথে কন্টাক্ট অথবা বৈধ ইকামার মেয়াদ শেষ হয়েছে বর্তমানে অবৈধভাবে কুয়েতে অবস্থান করছেন এই বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে কুয়েত ছাড়তে হবে।

এদিকে গত ১ এপ্রিল সৌদি সরকার অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। যদিও কবে নাগাদ এই ঘোষণা কার্যকর হবে বলা হয়নি। তবে অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রবাসীদের স্বদেশ ফেরত যাবার ঘোষণা খুব শীঘ্রই আসবে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক সৌদি গেজেট।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে পারে বলেও জানা গেছে। করোনাভাইরাস এর প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে সাধারণ ক্ষমার মত ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে শুধু মধ্যপ্রাচ্যে থেকেই তিন থেকে চার লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত যেতে হতে পারে এমনটাই জানিয়েছেন প্রবাসী রেমিট্যান্স এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

প্রবাসীদের এসব সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারকেই উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতোমধ্যে দেশে থাকা প্রবাসীদের পরিবার-পরিজনদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলো।