চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: ভারতে ছাড়পত্রের আগে পরীক্ষা নয়

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ায় চাপ পড়ছে দেশের হাসপাতালগুলোতে। তাই হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চাপ কমাতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ভারতের কেন্দ্র থেকে।

যেসব করোনারোগীর শরীরে হালকা উপসর্গ আছে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার আগে তাদের শরীরে প্যাথোজেনের উপস্থিতি আছে কিনা সেটা জানার জন্য পিসিআর বা আরটি পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে না। কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের ছাড়পত্র দেওয়ার এই নতুন নির্দশনা দিয়েছে দেশটির ইউনিয়ন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

ভারতে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, এই রোগ সম্পর্কে যত বেশি জানবো, আমাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমাদের নির্দেশনা তত বেশি বিবর্ধিত হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য দেশের পরিচালিত গবেষণা, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের দেওয়া নির্দেশনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেরা স্বাস্থ্যসেবকদের নির্দেশনাতেও সেসব বিবর্ধিত হবে।

নতুন এই নির্দেশনা দেশটির হাসপাতালগুলোর ওপরে অতিরিক্ত করোনারোগীর বোঝা কমাতে সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের। কারণ সেখানে শীঘ্রই করোনাভাইরাসে ভয়াবহ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, খুবই হালকা, হালকা বা লক্ষণ আসতে পারে এমন রোগীদের সূত্রপাতের ১০ দিন পরে এবং তিন দিন থেকে জ্বর না থাকলে তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিতে হবে। আর ছাড়পত্রের আগে কোভিড-১৯ কেয়ার সেন্টার থেকে কোনো পরীক্ষণের প্রয়োজন নেই।

যাদের সামান্য সমস্যা আছে, যদি তিনদিনের মধ্যে জ্বর না কমে এবং কোনো অক্সিজেন সহায়তা দরকার না হয় তাহলে রোগীকে দশদিন পরে ছাড়পত্র দিতে হবে। আর যদি এসব সমস্যার তিনদিনে সমাধান না হয় এবং বাইরে থেকে অক্সিজেন দেওয়ার দরকার পরে তাহলে কেবলমাত্র ক্লিনিক্যাল লক্ষণগুলির সমাধান হলে এবং টানা তিন দিন অক্সিজেন স্যাচুরেশন বজায় রাখার ক্ষমতা পেলেই তাকে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে নতুন নির্দেশনায়।

বিজ্ঞাপন

তবে এসব ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রেই রোগীকে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা ছাড়াই ছাড়পত্র দিতে হবে। পরে তারা বাড়িতেই সাতদিন আইসোলেশনে থাকবেন।

আর যাদের অবস্থা ভয়াবহ তাদের ক্লিনিকাল সুস্থতা আসলে আরটি-পিসিআর পরীক্ষণে নেগেটিভ আসলে তবে ছাড় দেয়া হবে।

এর আগে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর দুইবার কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসলেই কেবল তাকে ছাড়পত্র দেয়া হতো।

তবে এই সময়ের কখনো যদি রোগীর অক্সিজেন নেওয়ার ক্ষমতা ৯৫ শতাংশের কম হয়ে যায় তাহলে তাকে কোভিড-১৯ এর জন্য নির্ধরিত হাসপাতালে প্রেরণ করতে হবে। ছাড়পত্রের পরে আবার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তাকে সেই সেন্টারেই যোগাযোগ করতে হবে। টেলিফোনে ১৪ দিন তাকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

তবে স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের অনেক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী আছেন যাদের শরীরেই কোনো লক্ষণ নেই। সেটাই বেশি দুশ্চিন্তার কারণ।

ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ২ হাজার মানুষ। গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পরে করোনাভাইরাস। পরে বিশ্বব্যাপী তা মহামারী রূপ ধারণ করে। বর্তমানে সারাবিশ্বে ৪০ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। আর প্রাণ হারিয়েছে পৌনে তিন লাখেরও বেশি।