চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: বেসরকারি শিক্ষকরাও কি পথে নামবেন?

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ এক মাসেরও বেশি সময়। শিল্প-কারখানা, শিক্ষাসহ নানা খাত স্থবির হয়ে পড়েছে মার্চ মাসের শেষ থেকে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও একের পর এক নতুন নতুন বিষয় সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে।

দেশের অন্যতম বৃহত্তম খাত গার্মেন্টস নিয়ে সরকার প্রথম ধাপেই প্রণোদনা ঘোষণা করে ওই খাতের সঙ্কট কিছুটা লাঘব করতে পেরেছে, তারপরেও করোনার এই লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে অনেক গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেতনভাতাসহ নানা দাবি নিয়ে এখনও রাস্তায়। দেশের অন্যান্য খাতের শ্রমিক-কর্মচারি ও উদ্যোক্তারা তাদের অবস্থা ব্যাখ্যা ধরে দাবি তুলে ধরতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে একটি বড় খাত হচ্ছে শিক্ষা।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দেশের এমপিও, নন-এমপিও ও কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মচারি কর্মরত। করোনার কারণে জরুরি ছুটি তাদের রুজিতে সরাসরি আঘাত হেনেছে। প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে বেতন পেলেও এখনও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সরকারি বেতনের অংশ (এমপিও) ছাড়করণ হয়নি। আর যারা নন-এমপিও, তাদের অবস্থা তো আরও খারাপ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দেয়া বেতনের অর্থ’ই তাদের ভরসা হওয়ায় প্রায় দুই মাস তারা বেতনহীন অবস্থায় দিনযাপন করছেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা নিয়ে এক বৈঠকে বলেছেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।’ তার মানে শিক্ষকদের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘ হবে। দেশের শিক্ষাখাত নিয়ে এখনও সেভাবে কোনো প্রণোদনা ঘোষণা হয়নি, দেখানো হয়নি কোনো পথ নির্দেশনা। এই অবস্থায় শিক্ষক-কর্মচারিরা যদি গার্মেন্টস শ্রমিকদের মতো পথে নেমে আসে, তাহলে আশ্চর্য হবার কিছু নেই, যদিও এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ও সামাজিক মাধ্যমে শিক্ষকরা তাদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে কষ্টের কথা জানাচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারাও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। শিক্ষকরা সামাজিক মর্যাদার দিক চিন্তা করে ত্রাণের লাইনে দাঁড়াতে পারছেন না, আবার সহ্যও করতে পারছেন না। এ বিষয়টি আমলে নিয়ে তাদের ব্যাপারেও দ্রুত চিন্তাভাবনা করা উচিত বলে আমরা মনে করি।