চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: পুলিশের ৮৯ সদস্যের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ৮৯ সদস্য মারা গেছেন।

তাদের অধিকাংশই জনগণের সেবায় মাঠে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এরমধ্যে ৮৩ জন পুলিশের সদস্য। বাকি ছয় জন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে এসে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দাফতরিক কাজে সংযুক্ত ছিলেন।

শুক্রবার ভোর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মোট ২০ হাজার ৭৩ জন সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পুলিশের ১৭ হাজার ৪৬২ এবং র‍্যাবের দুই হাজার ৬১১ জন রয়েছেন।

এর মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তিন হাজার ৩৯০ জন সদস্য রয়েছেন। সংক্রমণের শুরু থেকে একক পেশা হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন পুলিশের সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৯ হাজার ২০০ জন যা পুলিশে মোট আক্রান্তের প্রায় ৯৫ শতাংশ।

বর্তমানে ৩৬২ পুলিশ সদস্য করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন। কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ২১৩ জন পুলিশ সদস্য।

করোনার ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। আক্রান্ত হচ্ছেন নিয়মিতই। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে সবশেষ গত ২৫ মার্চ ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৫ দিন ধরে তিনি রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়া ঢাকার আলোচিত পুলিশ অফিসার ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমানও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন। তিনি ১৬ দিন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত বুধবার করোনামুক্ত হয়ে তিনি বাসায় ফেরেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম) মো. সোহেল রানা বলেন, ‘মাঠে নিয়োজিত সদস্যরা যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সুরক্ষিত থাকতে পারেন, সেজন্য সচেতনতার পাশাপাশি সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি জানানো হচ্ছে। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও বিভিন্ন ইউনিটে গিয়ে তাদের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলছেন। সুরক্ষা সামগ্রী ও পর্যাপ্ত জীবাণুনাশক সরবরাহ এবং ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।’

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আক্রান্ত পুলিশদের জন্য সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতাল ভাড়া করাসহ সব পুলিশ হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে।