চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ৭ সুপারিশ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ৭ দফা সুপারিশ দিয়েছে। কমিটির চেয়ারপারসন প্রফেসর ডাঃ মোহাম্মদ সহিদুল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির ১৯তম অনলাইন সভায় এসব সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় প্রথমত দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি দিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। সেগুলো হলো- ক) পৃথিবীর সব দেশ ভ্যাকসিন সংগ্রহ নিয়ে এক ধরণের প্রতিযোগিতায় রয়েছে। কয়েকটি দেশ ভ্যাকসিন কেনার জন্য অগ্রিম টাকাও জমা দিয়েছে। এ ছাড়া গ্যাভির ভ্যাকসিন পেতে বেশ দেরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় আমাদেরও অগ্রিম টাকা জমা দিয়ে ভ্যাকসিন বুকিং করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

খ) কোন কোন টিকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার কোল্ড চেইন ব্যবস্থা আমাদের নেই। ভ্যাকসিন নির্বাচনের ক্ষেত্রে সে বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখা যেতে পারে অথবা উল্লেখিত তাপমাত্রার কোল্ড চেইন ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

গ) কোন একটি ভ্যাকসিন এর জন্য কাজ না করে একাধিক উৎসের সাথে যোগাযোগ ও ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশেষ করে যে সব দেশে ভ্যাকসিন তৈরিতে সে দেশের সরকারের সম্পৃক্ততা আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

ঘ) ভ্যাকসিন প্রাপ্তির পর ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করতে হবে এবং এখনই ভ্যাকসিন ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যান চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। ভ্যাকসিন প্রদানের পরবর্তী সময়ে ভ্যাকসিন এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলোআপ করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে।

ঙ) ভ্যাকসিন বিষয়ক বিশেষ কমিটিতে নাইট্যাগ ও জাতীয় পরামর্শক কমিটির প্রতিনিধি রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

চ) ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে যে সব প্রতিষ্ঠান ট্রায়াল কার্যক্রমের উপযুক্ত ও দক্ষ তাদের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আইসিডিডিআরবি এর সাথে সরকারী প্রতিষ্ঠান যেমন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, আইইডিসিআর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত করোনা পরীক্ষা নিয়ে কমিটির সুপারিশে বলা হয়, বর্তমানে পিসিআর টেস্ট এর মাধ্যমে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হচ্ছে যার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। জাতীয় পরামর্শক কমিটি মনে করে তিন পদ্ধতিতে (পিসিআর, এন্টিজেন ও এন্টিবডি টেস্ট) কোভিড-১৯ পরীক্ষা কার্যক্রম পাশাপাশি থাকলে তা কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তৃতীয়ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়, হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি তাদের পরিবার পরিজনও কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পর কোয়ারেন্টাইনের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।

৪. স্বাস্থ্য কর্মীদের মাঝে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের অনুদান প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের কাছে দাখিল করা প্রয়োজন। তালিকাটি জাতীয় কারিগরি পরামশর্ক কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সাবকমিটি গঠন করে এবং ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সম্পৃক্ত করে প্রস্তুত করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

৫. যেসব মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষায় কাজ করেছে সরকার ইতোমধ্যে প্রমার্জনার মাধ্যমে তাদের নিয়োগ প্রদান করেছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছুপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অন্তর্ভুক্ত হননি। তাদের নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার জন্য জাতীয় কারিগরি পরামশর্ক কমিটি সরকারের নিকট সুপারিশ করছে।

৬. কোভিড-১৯ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জনসাধারণ এর মধ্যে এক ধরণের শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। জনসাধারণকে আরও সচেতন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জনগণের সক্রিয় অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাস্ক বিষয়ক ক্যাম্পেইন দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়া হয়। জনপ্রচারণার জন্য তৈরী ভিডিওতে বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিত্বদেরকে উপস্থাপন প্রয়োজন বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

৭. অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। কোভিড-১৯ মহামারীর পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা উদযাপন করার জন্য সভায় পরামর্শ দেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দূর্গাপূজার আচরণবিধি প্রস্তুত করে দেওয়া প্রয়োজন।