চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: চরের হতদরিদ্র মানুষের জন্য বিশেষ প্রণোদনার দাবি

ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের বিবৃতি

করোনাভাইরাসের মহামারীতে অনিশ্চিত জীবনযাপনে পড়ে যাওয়া হতদরিদ্র চর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছে ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স।

অনেক চরেই এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের খাদ্য সহায়তা পৌছায়নি দাবি করে সরকারের কাছে বিশেষ প্রণোদনা চেয়ে সংগঠনটি বিবৃতি দিয়েছে মঙ্গলবার।

বিজ্ঞাপন

চরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, খাদ্যসংকট মেটানো এবং চরের ক্ষুদে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা প্রদানে প্রধানমন্ত্রী ও নীতি-নির্ধারকদের মনোযোগ আকর্ষণ করে ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স থেকে কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- মহামারী প্রতিরোধে চর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য দুর্গম চরাঞ্চলে প্রয়োজনে পৃথক টেস্টিং বুথ করা, একই সাথে চরাঞ্চলে কোয়ারেন্টিন ও বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগ নিশ্চিত করা ও চরের মানুষের করোনা ভাইরাস সচেতনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, করোনা ভাইরাসের কারণে বিপর্যয়ের মুখোমুখি নারী প্রধান পরিবারকে দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও আর্থিক ভাতা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ, দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসরত বয়স্ক নারী পুরুষের জন্য নিয়মিত ভাতা ও চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা, ভাতা প্রদানে যে সব বাধা আছে তা দূর করা, চরের কৃষক ও কৃষাণী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ০% সুদে কৃষিঋণ সহায়তা দেওয়া, চরে উৎপাদিত সকল কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সরকারের সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও চরের নারী ও শিশুদের খাদ্যসহায়তা প্রদানে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও চরাঞ্চলের মৌসুমী শ্রমিকদের জন্য ওয়ার্ক ফর ফুড বা অন্য কোনো পরিকল্পনায় আর্থিক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবিও জানানো হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতি বলা হয়, বহু নদ-নদী বেষ্টিত বাংলাদেশের একটি বড় অংশ চরভূমি হিসেবে পরিচিত। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, তিস্তা, ধরলা, বক্ষ্মপুত্র বক্ষে অসংখ্য ছোট বড় চরসহ রয়েছে দুর্গম দ্বীপচর। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলেও রয়েছে অনেক দ্বীপচর। মূলভূমি সংলগ্ন চর, দ্বীপচর, উপকূলীয় চর-সব মিলিয়ে চরে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। দেশের মোট জনসংখ্যার ৭% চরবাসী। মোট ভূমির প্রায় ১০ শতাংশেরও চরভূমি বলে ধরে নেওয়া হয়। দেশের প্রায় ৪০টি জেলার শতাধিক উপজেলার অংশবিশেষে চরসমূহ বিস্তৃত। ভৌগোলিক বিচার-বিশ্লেষণে চরাঞ্চল বাংলাদেশের উচ্চমাত্রার দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। তীব্র নদী ভাঙ্গন, বন্যা, খরাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বেকারত্ব এসব মোকাবিলা করেই বছরের পর বছর প্রায় চরের মানুষ তাদের বাঁচার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়।

ন্যাশনাল চর অ্যালান্সে জানায়, চরের হতদরিদ্ররা মানুষেরা প্রায় সারাবছর ধরেই এক ধরনের খাদ্যসংকটে ভুগে থাকে। ফলে অনেক দুর্গম চরের বাসিন্দাদের দুবেলা খেয়ে জীবনধারণ করতে হয়। তার মধ্যে এসেছে করোনা মহামারী। এমতাবস্থায় দরিদ্র এই মানুষের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রদান জরুরি হয়ে পড়েছে।