চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: কুমিল্লায় চিকিৎসকসহ হাসপাতালের ৫ কর্মী কোয়ারেন্টাইনে

কুমিল্লায় আরও ৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত, একজনের মৃত্যু

কুমিল্লায় করোনাভাইরাস এ আক্রান্ত হয়েছেন আরও তিনজন। এদের মধ্যে দেবীদ্বারের জীবন কৃষ্ণ সাহা নামে ৫৫ বছর বয়সী একজন মারা গেছেন।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত অন্য দু’জনের মধ্যে ঢাকায় মারা যাওয়া কুমিল্লার বুড়িচংয়ের জিয়াপুরের নারীর মেয়ে ও কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আরেক ব্যক্তি রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া দেবীদ্বারের করোনা আক্রান্ত জীবন কৃষ্ণ সাহার চিকিৎসা দেওয়া দেবীদ্বার মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. হাবিব ও কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৫ কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন তিনজন আক্রান্ত ও একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান তার হাসপাতালের ৫ জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির দেবীদ্বার মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. হাবিবের হোম কোয়ারেন্টানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন ও দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির জানান: কুমিল্লার দেবীদ্বারের নবীয়াবাদের জীবন কৃষ্ণ সাহা (৫৫) নারায়ণগঞ্জে চাকরি করতেন। সেখানে লকডাউনের আগে তিনি কুমিল্লার দেবীদ্বারের নবীয়াবাদে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। এরপর তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। গত ৪ এপ্রিল তিনি কুমিল্লার চান্দিনা বাজারে একজন মেডিকেল প্রাক্টিশনারের চিকিৎসা নেন। ৬ এপ্রিল তিনি দেবীদ্বারের মেডিক্যাল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. হাবিবের চিকিৎসা নেন।

‘৯ এপ্রিল সকালে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠান। ওই রাতে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে কুমিল্লা শহর থেকে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে ১০ এপ্রিল সকালে তিনি মারা যান। নারায়ণগঞ্জে তাকে দাহ করা হয়।’

বিজ্ঞাপন

সংক্রমকব্যাধী বিশেষজ্ঞ ও কুমিল্লা জেলার সমন্বয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী জানান: আমরা মারা যাওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের  শনাক্তের চেষ্টা করছি। তবে যে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে কুমিল্লায় আনা হয় এবং যে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয় তা খুঁজে পাচ্ছি না।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান জানান: হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ২ জন কর্মী ও মেডিসিন বিভাগের ৩ জন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন: জরুরি বিভাগে মারা যাওয়া ব্যক্তির চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও মেডিসিন বিভাগে ঐ রোগী গিয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হতে পারিনি। সেসময় দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সিরাজুল ইসলাম তাকে জানান কোন পুরুষ রোগী তার ওয়ার্ডে আসেনি।

মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিমও একই তথ্য দিয়েছেন।

তিনি জানান: অনেক সময় রোগীর আত্মীয় স্বজন ফাইল নিয়ে চলে যায়, এ জন্য যাচাই হচ্ছে। তবে এটুকু স্বস্তি যে রোগীটি মেডিসিন ওয়ার্ডে যায়নি। তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে ওই বিভাগের তিনজন কর্মীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে অবশ্যই থাকতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন জানান: কুমিল্লার বুড়িচংয়ের জিয়াপুরের যে মহিলা ঢাকায় মারা গেছেন তার দুই নাতির পর তার মেয়ের (৫০) নমুনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ এসেছে। তবে তার তেমন উপসর্গ নেই। এছাড়া তিতাসের আরেকজন ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার ফল পজেটিভ এসেছে।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মীর হোসেন জানান: ঢাকায় মারা যাওয়া ওই নারীর মেয়ে মঙ্গলবার বুড়িচংয়ের জিয়াপুরে আসে, আমরা বুধবার তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠালে ফলাফল পজেটিভ আসে। তাকে সেই বাড়িতেই আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সফররাজ হোসেন খান জানান: উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের মৌটুসি গ্রামে ঢাকার পলওয়েল মার্কেট থেকে আসা খোকন ভূইয়া নামে একজনের খোঁজে তার বাড়িতে যাই। সেখানে তার সাথে কথা বলার সময় পাশে থাকা এক যুবক কাশি দেয়। তখন আমাদের সন্দেহ হয়। পরদিন ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করি। তার পরীক্ষার ফল পজেটিভ আসে।

তিনি জানান: ওই যুবক বিভিন্ন জায়গায় আড্ডা দিয়েছে। সেসব জায়গাগুলোতে কন্টাক্ট ট্রেসিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে।