চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস ও বন্যায় টাঙ্গাইলে তাঁতের ক্ষতি হাজার কোটি টাকা

টাঙ্গাইলের তাঁত শিল্পের নামের সাথেই জুড়ে আছে টাঙ্গাইল তথা দেশের ঐতিহ্যের সুনাম। তবে করোনার স্থবিরতা আর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ডুবে হাজার কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি। তাঁত মালিকদের দাবি, মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়া এই শিল্পটিকে উঠে দাঁড়াতে হলে দরকার সরকারি প্রণোদনা।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর বল্লা এলাকার বকুল হোসেনের তাঁতঘর ঘুরে দেখা যায়, তাঁতঘরের প্রায় ডুবন্ত মেশিনে মেশিনে নাক উঁচিয়ে জানান দিচ্ছে রঙিন শাড়ি হবার অপেক্ষায় রঙবেরঙের সুতো।

বিজ্ঞাপন

তবে করোনাকালের দীর্ঘ চারমাস অপেক্ষার মাঝে ভয়াবহ বন্যা সেই যাত্রাপথকে করে দিয়েছে রুদ্ধ। তিলে তিলে গড়ে তোলা ১৭টি তাঁত যেন তার একেকটি সন্তান। আগামীর সূর্য অনিশ্চিত জেনেও মৃতপ্রায় সন্তানের পরিচর্যায় বারবার ফিরে আসেন তাদের কাছে।

বিজ্ঞাপন

এ চিত্র কেবল তার একা নয়। জেলার কালিহাতী, বাসাইল, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল সদর ও ভূঞাপুরের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক তাঁতির যন্ত্রপাতি, সুতা ও শাড়ির তৈরির উপকরণ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উঠে দাঁড়ানোর সামর্থ্যহীন হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

কেবল তারাই নন। করোনা ও বন্যায় দীর্ঘ পাঁচমাস ধরে কর্মহীন হওয়ায় জেলা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েক লক্ষাধিক শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এই করোনা ও বন্যায় ক্ষতির পারিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। নিঃস্ব তাঁত সংশ্লিষ্টরা এখন নগদ অর্থ সংকটে। তাই টাঙ্গাইলের শাড়ির ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারি প্রণোদনা ছাড়া তা সম্ভব নয় বলে জানান টাঙ্গাইল বল্লা শিল্প ও বনিক সমিতির সভাপতি চান মোহাম্মদ পাকির আলী।

এ সংকট কাটিয়ে উঠতে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁত মালিকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, টাঙ্গাইল এর লিঁয়াজো কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম। আবার ঘুরে দাঁড়াতে সবরকমের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের এই কর্মকর্তা।

বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না পারলে টাঙ্গাইলে শাড়ি ঐতিহ্য সংকটে পড়বে বলে মনে করেন তাঁত সংশ্লিষ্টরা।