চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় মৃত্যু

করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার বান্দবান, কক্সবাজার এবং দিনাজপুর জেলা থেকে চ্যানেল আইয়ের প্রতিনিধিরা এসব মৃত্যুর সংবাদ পাঠিয়েছেন।

বান্দরবানের লামা পৌরসভার ২ ওয়ার্ডের পূর্ব নয়া পাড়া এলাকায় করোনার উপসর্গ নিয়ে আমির হোসেন (৪০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। লামা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পূর্ব নয়া পাড়া এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি নয়া পাড়া এলাকার সৈয়দ নুরের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

ওই ব্যক্তির স্ত্রী জানান, গত ১ সপ্তাহ ধরে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তার স্বামী। মৃত্যুর পূর্বে তার স্বামীর বুকে ব্যথা, ঘনঘন বমি, গলা ব্যথা, জ্বর ও বুক ফুলে যাওয়ার মত লক্ষণ ছিল।

বিজ্ঞাপন

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদুল হক বলেন, ওই ব্যক্তি ও তার পরিবারের সবার নমুনা সংগ্রহ করছি। মোট ৩ পরিবারের ১৭ জনের করোনা নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা নিয়ে মোহাম্মদ সেলিম (৪৮) নামের এক জেলে মারা গেছেন।

মঙ্গলবার সকালে দ্বীপের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথে পড়ে গিয়ে মারা যান তিনি।।গত তিন দিন ধরে ওই জেলে শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। এই নিয়ে দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মৃত ব্যক্তি সেন্টমার্টিন পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল জানান, ওই ব্যক্তির শরীরে করোনা সংক্রমণ ছিল কি না তা নিশ্চিত নয়। তবে তার দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে করোনায় মৃত ব্যক্তির মতো। দাফন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া লোকজন এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারসহ আশপাশের বাড়িগুলো লকডাউন করা হবে। পরববর্তী সময়ে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে পাঠানো হবে।

করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায়  মঙ্গলবার ভোরে আজিজার (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মুত্যু হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনে ব্যাপক তোলাপাড় চলছে। তাৎক্ষনিকভাবে বিরামপুরের ভারতীয় সীমাস্তবর্তী কাটলায় শৌলান গ্রামটি লকডাউল করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা.আব্দুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, মূলতঃ আজিজার রহমান যক্ষায় উপসর্গ নিয়ে কয়েকদিন আগে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে করোনার লক্ষণ অনুমান করে পরে কর্তব্যরত চিকিসকরা তাকে গতকাল সোমবার আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করতে চান। কিন্তু তার আগেই আজিজার কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। আজ সকালে আজিজারের মৃত্যু সংবাদ জানতে পারে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

মৃত আজিজার রহমানের শরীওে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি আছে কি না তা পরীক্ষার জন্য তার শরীরের নমুনা নিয়ে ইতোমধ্যে আইইডিসিআরে পাছানো হয়েছে।

এছাড়াও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি আছে,কি না তা পরীক্ষার জন্য জেলার ১২৩জনের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬৯ জনের নেকেটিভ রিপোর্ট এসেছে।

জেলা সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ৬৭ জনসহ এখন দিনাজপুরে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন, ৭৯৯জন। আর এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিন থেকে ৭৯৩ জন এবং আইসোলেশন থেকে ৪জন অব্যাহতি পেয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেশে আরও বেড়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের আইইডিসিআর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২০৯ জন।ফলে মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১,০১২ জন।গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৭ জন রোগী। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৬ জনে।