চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাকালে ভর্তিযুদ্ধ: একটি বিকল্প ভাবনা

প্রচণ্ড রকম বেশি করোনা সংক্রমণের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠান এবং তার কারণে কেন্দ্রগুলোতে ঘটা জনসমাগম নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে; কিছু প্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষা সামনে।

পরবর্তী বছরের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও শুরু হবে কয়েক মাসের মধ্যেই। এখনই সময় সম্ভাব্য বিকল্পগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করা। কারণ, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে করোনা এত তাড়াতাড়ি যাচ্ছে না।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রসঙ্গ দিয়েই শুরু করা যাক। দেশ যখন করোনায় পর্যুদস্ত, সংক্রমণের হার একবারে চুড়ায়, তখন মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলো। প্রায় ১২৩,০০০ ছাত্রছাত্রী সেদিন পরীক্ষা দিলেন ৫৫টি ভেন্যুতে।

সারাদেশে সরকারী মেডিকেল কলেজগুলোতে ৪,৩৫০টি আসন রয়েছে। এই ভর্তিযুদ্ধ মূলত সেই আসনগুলোর জন্য। তবে বেসরকারী মেডিকেল কলেজগুলোতে যে ৬,৩৪০টি আসন রয়েছে, সেইসব আসনে ভর্তির পূর্বশর্তও এই পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া। সুতরাং সবমিলে প্রায় ৯,৭০০ আসনের জন্য লড়লেন প্রায় ১২৩,০০০ আবেদনকারী।

করোনা পরিস্থিতি তখন এতই খারাপ যে ঠিক তার একদিন পরেই সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করতে হলো। ডেইলি স্টারের এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার দিনে অর্থাৎ ২ এপ্রিল সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৮৩০ জন রোগী কোভিড আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন। ঐদিন মারা গিয়েছিলেন ৫০ জন কোভিড রোগী। করোনা শুরুর পর থেকে গড় দৈনিক মৃত্যুর হার ওই সপ্তাহেই বেশি ৪৬.৪৩ জন ছিলো (সপ্তাহের সাত দিনের গড়)।

ঢাকাসহ ১৫টি জেলায় ৫৫ টি ভেন্যুতে প্রায় ১২৩,০০০ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিয়েছেন। তার মানে গড়ে প্রতিকেন্দ্রে দুই হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। তাদের অনেককে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় এসে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এক একটি কেন্দ্রের সামনে যদি ২০০০ পরীক্ষার্থী আর ২০০০ অভিভাবক জড়ো হন তাহলে পরিস্থিতি কেমন হয়, সেদিন আমরা দেখেছি বিভিন্ন টেলিভিশনে, পত্রিকায়, সামাজিক মাধ্যমে। পরীক্ষা হলে এরকম জনসমাগম হবে এটা কর্তৃপক্ষের ধারণা করতে না পারার কথা না।

শুধু ঢাকা শহরে ১৫টি কেন্দ্রে ৪৭,০০০ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন। সেই কেন্দ্র আবার এমন কাছাকাছিও আছে — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন একটি কেন্দ্র, তার পিছনের ভবন লেকচার থিয়েটার আরেকটি কেন্দ্র, তার পাশের বাণিজ্য অনুষদ ভবন আলাদা কেন্দ্র। এতে বোঝা যায়, এইসব জায়গায় ছাত্র-ছাত্রী অভিবাবক মিলে কী পরিমান মানুষ জড়ো হয়েছিলন সেদিন।

প্রশ্ন হচ্ছে, করোনা যখন একেবারে মারাত্মক রূপ ধরেছে, তখন এই জনসমাগম এড়ানোর কোনো পথ কি ছিলো না? হয়তো ফেব্রুয়ারীর প্রথম সপ্তাহে করোনার পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার কমে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ এই আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো। কিন্তু কম হলেও করোনা তো ছিলো।

অন্তত এই ব্যবস্থা কি করা যেতো না যাতে পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলায় পরীক্ষা দিতে পারেন। তাতে কেন্দ্রপ্রতি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমতো। তারচেয়ে বড় সুবিধা হতো এই যে পরীক্ষার্থীদেরকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাওয়ার জন্য গণপরিবহনে ভ্রমণ করতে হতো না। পরীক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে করোনা ঝুঁকি কিভাবে আরো কমানো যেতো সেটা নিয়ে অবশ্যই আরো বিভিন্ন মতামত আছে।

কিন্তু কেউ যদি এই প্রশ্ন তুলে বসেন এরকম একটি সময়ে পরীক্ষাটি আদৌ দরকার ছিলো কিনা, তার প্রশ্নের কী উত্তর হবে। শুধু এই মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা নয়; অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাও এড়িয়ে যাওয়া যেত কিনা।

তাহলে বিকল্প উপায় কী ছিলো? বিকল্প উপায় ছিলো, আবেদনকারীদের আগের একাডেমিক রেজাল্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া।

আমাদের দেশের মতো ঘটা করে ভর্তি পরীক্ষা নামের বিশাল উৎসব করার নজির পৃথিবীতে খুব বেশি দেশে নেই। যদিও আমাদের কাছাকাছি দেশ ভারতে এরকম পরীক্ষা হয় (জয়েন্ট এন্ট্রান্স এবং অন্যান্য); পাকিস্থানে এনটিএস পরীক্ষা হয় (ন্যাশনাল এপটিচুড টেস্ট – স্নাতকে ভর্তির জন্য; এবং গ্রাজুয়েট এসেসমেন্ট টেস্ট – স্নাতকোত্তরে ভর্তির জন্য)। কিন্তু পৃথিবীর উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকাংশ দেশে এই ব্যাপারটি নেই। ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হয় তাদের আগের একাডেমিক রেজাল্টের ভিত্তিতে আর ভর্তির জন্য করা তার আবেদনের ভিত্তিতে। বিশেষত আবেদনের মধ্যে তারা তাদের ”এই বিষয়ে কেনো পড়তে চান” তার যে ব্যাখ্যা দেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রাসঙ্গিক বিষয়ে নিবন্ধ জমা দিতে বলে। সেগুলোর মূল্যায়ন হয়। তার পরেও যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দুই একজনের ক্ষেত্রে আরেকবার দ্বিধামুক্ত হওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন নির্বাচকরা, তখন শুধুমাত্র সেই দুই একজনের একটা মৌখিক পরীক্ষা নেয়া হয়। তাও আজকাল অনলাইনে।

এবছর আমাদের দেশে মেডিকেল কলেজে ভর্তির যে নির্বাচন প্রক্রিয়া সেখানেও কিন্তু ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২০০ নম্বরের ভিত্তি হচ্ছে এসএসসি ও এইচএএসসি-র ফলাফল। এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএর ১৫ গুন (সর্বোচ্চ মান ৭৫) এবং এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএর ২৫ গুন (সর্বোচ্চ মান ১২৫) – এই দুইয়ে মিলে ২০০ নম্বর আর লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষায় ১০০ নম্বর। মোট ৩০০ নম্বরের এই যে বিভাজন এর মধ্যে আলোচ্য এই বিশাল ভর্তি পরীক্ষার অংশ এক তৃতীয়াংশ মাত্র। আরো কিছু ছোটখাটো হিসাবনিকাশ আছে। কিন্তু মোটাদাগে এটাই মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা নিরূপনের ফর্দ।

এই এক তৃতীয়াংশ নম্বরের জন্যে এক ঘণ্টার পরীক্ষাটির বিষয়ভিত্তিক নম্বর বন্টন হচ্ছে – পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ১০ নম্বর।  এর মধ্যে ১০ নম্বরের “সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক“ বাদে বাকী ৯০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আবেদনকারীর যে বিষয়গুলোর উপর জ্ঞানকে যাচাই করা হচ্ছে, তার সবগুলোই তিনি এইচএসসি পর্যায়ে পড়ে এসেছেন, পরীক্ষা দিয়েছেন। এই বিষয়গুলিতে আবেদনকারী এইচএসসিতে যে নম্বর পেয়েছেন,তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করলে সেটা বোধহয় খুব অযৌক্তিক হতো না।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন আসতে পারে, এমন তো হতে পারে যে একজন আগের পরীক্ষায় কোনো কারণে খারাপ করেছেন এসব বিষয়ে, ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করবেন। সেটা তো হতেই পারে। কিন্ত একইভাবে ঠিক উল্টোটাও হতে পারে যে কিছু আবেদনকারী এসব বিষয়ে খুব ভালো হওয়া সত্ত্বেও ঐদিন খারাপ করে বসলেন। দশবার পরীক্ষা নিলে মেধাতালিকা দশরকম না হলেও আটরকম যে হবে এটা বলা যায় (প্রতিবারই কয়েকজন না কয়েকজন মেধা তালিকায় ঢুকবেন বেরোবেন)। সুতরাং কোনো পরীক্ষাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। আমাদেরকে একটাকে নির্ণায়ক হিসেবে ধরতে হয় প্রক্রিয়ার স্বার্থে।

একবার ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য বলেছিলেন, জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রছাত্রীরাও ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন অনেকে। তাই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা ঠিক হবে না। আবার কেউ কেউ তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কতটা মানসম্মত এই প্রশ্নও তোলেন। গুচ্ছভর্তি পরীক্ষায় কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের রাজী না হওয়ার কারণ নিজের মতো প্রশ্ন করে শিক্ষার্থী বাছাই করার সুযোগ কমে যাওয়া। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগলোর মধ্যে একে অন্যের মানের উপর আস্থার সংকট রয়েছে।   প্রশ্নপত্র পরিবর্তন হলে (শুধুমাত্র প্রণয়নকারী ভিন্ন হলেই তিনি অন্য প্রশ্ন করতে পারেন) মেধাতালিকা পরিবর্তন হতে পারে। আর কোনো পরীক্ষাই লাখ লাখ মানুষের প্রত্যেকের মেধার একেবারে সঠিক মূল্যায়ন করতে পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেমন এসএসসি এইচএসসির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে, বেসরকারী খাতের, বিশেষত রপ্তানীমুখী খাতগুলোর, চাকরীদাতারা প্রশ্ন তোলেন বিশ্ববি্দ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে। তারা বলেন দেশীয় গ্রাজুয়েটদের মধ্যে যথেষ্ট সংখ্যায় ভালোমানের কর্মী পান না বলে অনেক পদের জন্য বিদেশ থেকে লোক আনতে হয় বেশি টাকা খরচ করে।

তাদের কথাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। কারণ তারা লাভ করার জন্য ব্যবসা করেন। ব্যবসার আয় একই রেখে ব্যয় কমাতে পারলে তার লাভ বাড়বে। কম টাকায় দেশী লোক পেলে (বেতন সমান হলেও এক্সপ্যাট বেনিফিট বেঁচে যায়) তিনি বেশি টাকা খরচ করবেন কেনো? আমরা বিদেশে আনস্কিলড শ্রমিক পাঠিয়ে রেমিট্যান্স আয় করছি; আর ভারত শ্রীলঙ্কা বা অন্যান্য দেশ থেকে স্কিলড ম্যানেজাররা এদেশ থেকে মোটা অঙ্কের রেমিট্যান্স নিয়ে যাচ্ছেন।

নিশ্চয়ই কিছু কারণ এখানে আছে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী সরকারী চাকরী পওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগ দেন সেটাও একটা কারণ হতে পারে। সেই ব্যাখ্যায় আমরা যাচ্ছি না এই লেখায়।

সুতরাং চাকরীদাতা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা যথেষ্ট যোগ্য কর্মী তৈরি করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষায় ঘাটতি আছে। সেসব পর্যায়ের পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে আমি ভর্তি করি কী করে। এই অবস্থা কি চলতেই থাকবে?

ব্যাপরটা তো জাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। সবাই মিলে গোড়া থেকে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। আমাদের হাইস্কুল পর্যায়ের শিক্ষার (এইচএসসি পর্যন্ত) সিলেবাস ও পরীক্ষা পদ্ধতি এমন করা হোক যাতে তার উপর ভরসা রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোন দ্বিধা না থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো কোন কোন জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখতে চান সেগুলো জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, শিক্ষাবোর্ডসমূহ এবং শিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলোর প্রত্যাশার সাথে সমন্বয় করা হোক।

আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সিলেবাস প্রণয়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি নির্বাচনের সময় চাকরীর বাজারকে মাথায় রাখা হোক। বিশুদ্ধ জ্ঞানের পাশাপাশি নিজেকে চাকরীর বাজারের উপযোগী করে তোলাও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য এটা তো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কোন কোন জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি  চাকরীর বাজারে কাজে আসবে সেগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সিলেবাসে বিবেচনায় নেয়া হোক। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সিলেবাস নির্ধারণের সময়, এমনকি নতুন বিভাগ খোলার সময়, চাকরীর বাজার নিয়ে বা অন্যকথায় শিক্ষার প্রয়োগযোগ্যতা নিয়ে গবেষণা করে কিনা আমার জানা নেই। নিয়মিত বিরতিতে সেরকম গবেষণা করে সিলেবাস আপডেট করা জরুরী বলে মনে করি। বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলার আগে একটা “ফরমাল” গবেষণা হওয়া খুবই দরকার।

ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে লেখা শুরু হয়েছিলো। সেই প্রসঙ্গ দিয়েই শেষ করি।

আমি সেই দিনের স্বপ্ন দেখি, যেদিন আমরা আমাদের পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করতে পারবো। ছাত্রছাত্রীরা তাদের আবেদনে সাবজেক্ট এবং প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে দেবেন। এসএসসি আর এইচএসসির রেজাল্টের ভিত্তিতে এবং তার দেয়া পছন্দের ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত হবে। এর জন্য প্রয়োজনে পাবলিক পরীক্ষার পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হোক।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি, কোচিং, ভর্তিপরীক্ষা মিলে ছেলেমেয়েগুলোর জন্য একটা দুর্বিসহ বছর কাটানো বন্ধ হোক। একইসাথে কোচিং করতে পারার সক্ষমতা বা অসক্ষমতা (গ্রাম, ছোট শহর বা বড় শহরে বাস করা এবং অভিভাবকের আর্থিক সামর্থ) বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বৈষম্যের সৃষ্টি করে সেটারও অবসান হোক।

সেটা করা গেলে কোচিং বাণিজ্য, গাইড ব্যবসা, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, ভর্তি পরীক্ষার নম্বর জালিযাতির মতো আপদগুলো থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে।

(শিক্ষার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া বিষয়ক তথ্যসূত্র: এমবিবিএস কোর্সে ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশনা; স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর; ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১)

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন